📌 যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, পৃথিবীর কক্ষপথে প্রথমবারের মতো সরাসরি আক্রমণাত্মক সামরিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে। চীন ও রাশিয়ার মহাকাশভিত্তিক হুমকি মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, পৃথিবীর কক্ষপথে প্রথমবারের মতো সরাসরি আক্রমণাত্মক সামরিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে। মার্কিন বিমানবাহিনী মন্ত্রী ট্রয় মেঙ্কের বক্তব্য অনুযায়ী, শত্রুভাবাপন্ন দেশের যেকোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্স’-এ তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মহাকাশে ‘ক্রমবিকাশমান হুমকি’ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশে সরাসরি আক্রমণাত্মক অস্ত্র মোতায়েন — প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি
- 📌 চীন ও রাশিয়ার মহাকাশভিত্তিক হুমকি মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ — মার্কিন সামরিক বাহিনীর সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ
- 📌 ‘কাইনেটিক ও নন-কাইনেটিক’ পদ্ধতি ব্যবহার করে শত্রু সক্ষমতা ব্যাহত করার পরিকল্পনা
- 📌 পেন্টাগন তিন ধরনের লেজার প্রযুক্তির গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে — মহাকাশ ও ভূ-পৃষ্ঠভিত্তিক যুদ্ধে ব্যবহার
- 📌 ‘হাইড্রোজেন ফ্লোরাইড লেজার’ (২.৭ থেকে ২.৯ মাইক্রন) কেবল মহাকাশে যুদ্ধের জন্য উপযুক্ত
- 📌 ‘ডিউটেরিয়াম ফ্লোরাইড লেজার’ (৩.৫ মাইক্রন) বায়ুমণ্ডল ভেদ করতে সক্ষম
- 📌 ‘কেমিক্যাল অক্সিজেন আয়োডিন লেজার’ (কয়েল) প্রযুক্তি ১৯৭৮ সাল থেকে গবেষণাধীন
📰 বিস্তারিত
মহাকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলগত পদক্ষেপের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। মার্কিন বিমানবাহিনী মন্ত্রী ট্রয় মেঙ্কের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মহাকাশে ক্রমবিকাশমান হুমকি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি বলেছেন, শত্রুভাবাপন্ন দেশের যেকোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অস্ত্রের নির্দিষ্ট ক্ষমতা বা কক্ষপথে স্থাপনের সময়সূচী সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ দিচ্ছিলেন। তাঁদের দাবি, চীন ও রাশিয়া এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে যা যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের সময় মার্কিন যোগাযোগ, গোয়েন্দা নজরদারি ও জিপিএস স্যাটেলাইটগুলোকে অকার্যকর বা ধ্বংস করে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংক্রান্ত কমান্ড ‘ইউএস স্পেস ফোর্স’ জানিয়েছে, মহাকাশে শত্রুভাবাপন্ন শক্তিকে প্রতিহত করা এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মহাকাশ প্রতিরক্ষা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট’ (আরইউএসআই)-এর বিশেষজ্ঞ ড. ব্লেডিন বোয়েনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশে মোতায়েন করা অস্ত্রের ধরন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানা-শোনার সুযোগ খুবই সীমিত। তিনি ধারণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা রেডিও জ্যামিং প্ল্যাটফর্মের কথা বলছে। এ ধরনের অ-ধ্বংসাত্মক ব্যবস্থা পৃথিবীতে বা মহাকাশে অবস্থানরত শত্রু বাহিনীর স্যাটেলাইট সংকেত ও রেডিও যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।
অন্য একটি সম্ভাবনা হলো ‘কাইনেটিক কিল ভেহিকল’—যেটি উচ্চ গতিতে সরাসরি কোনো বস্তুর ওপর আঘাত করে স্যাটেলাইট চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়। তবে ড. বোয়েনের মতে, মহাকাশে সরাসরি আঘাতের সম্ভাবনা কিছুটা কম, কারণ এ ধরনের সরাসরি আঘাতে হাজার হাজার বিপজ্জনক সামরিক বর্জ্য বা ‘স্পেস ডেব্রি’ তৈরি হয়, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব স্যাটেলাইটের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
"মহাকাশে আধিপত্যের বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে, আমরা এটি পছন্দ করি এবং আমরা এটি ধরে রাখব।"
পেন্টাগনের ‘ভিশন ২০২০’ প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জাতীয় সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে আধিপত্য বজায় রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় বেশ কয়েক ধরনের উন্নত লেজার প্রযুক্তির গবেষণা ও পরীক্ষা চলছে। পেন্টাগন প্রধানত তিন ধরনের রাসায়নিক লেজার নিয়ে কাজ করছে:
- 📌 হাইড্রোজেন ফ্লোরাইড লেজার (এইচএফ): পারমাণবিক ফ্লোরিন ও আণবিক হাইড্রোজেনের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন এই লেজারের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ২.৭ থেকে ২.৯ মাইক্রন। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এই তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো শোষণ করে নেয়, ফলে এটি কেবল মহাকাশ থেকে মহাকাশে যুদ্ধের জন্য উপযুক্ত।
- 📌 ডিউটেরিয়াম ফ্লোরাইড লেজার (ডিএফ): হাইড্রোজেনের স্থলে ডিউটেরিয়াম ব্যবহারের ফলে এই লেজারের তরঙ্গদৈর্ঘ্য দাঁড়ায় প্রায় ৩.৫ মাইক্রন, যা বায়ুমণ্ডল ভেদ করতে সক্ষম। ১৯৮০ সালে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি টিআরডব্লিউ ‘মিড-ইনফ্রারেড অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল লেজার’ (মিরাকল) নামের এক মেগাওয়াটেরও বেশি ক্ষমতার একটি ডিএফ লেজার প্রদর্শন করে, যা ১৯৯৬ সালে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের পরীক্ষায় সাফল্য দেখায়।
- 📌 কেমিক্যাল অক্সিজেন আয়োডিন লেজার (কয়েল): ১৯৭৮ সালে উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তিতে মহাকাশ ও ভূ-পৃষ্ঠভিত্তিক যুদ্ধে ব্যবহার করা সম্ভব।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, মহাকাশ কক্ষপথ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ট্রয় মেঙ্ক (মার্কিন বিমানবাহিনী মন্ত্রী), ড. ব্লেডিন বোয়েন (রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২.৭-২.৯ মাইক্রন (এইচএফ লেজার), ৩.৫ মাইক্রন (ডিএফ লেজার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!