📌 বগুড়া পুলিশের বিভিন্ন বিল-ভাউচারে জালিয়াতি করে কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। জেলা পুলিশের ছয় সদস্য, একজন সিভিল কর্মচারী ও জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা সহ আটজনকে জড়িত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ব্যাংক লেনদেন যাচাই করছে
বগুড়া জেলা পুলিশের বিভিন্ন সরকারি বিল-ভাউচারে জালিয়াতি করে কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে জেলা পুলিশের ছয় সদস্য, একজন সিভিল কর্মচারী এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা সহ মোট আটজন ব্যক্তির জড়িত থাকার সন্দেহ পাওয়ায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বগুড়া পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ব্যাংক লেনদেন যাচাই-বাছাই করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বগুড়া পুলিশের ৬ জন সদস্য, ১ সিভিল কর্মচারী ও ১ হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা — মোট ৮ জনের জড়িত থাকার অভিযোগ
- 📌 অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে: অফিস সহকারী রাজিবুল ইসলাম, কনস্টেবল আসাদুজ্জামান আরিফ, আমিরুল ইসলাম, নাসির উদ্দীন, রাজু আহম্মেদ, সোলাইমান হোসেন, এএসআই কমল হোসেন ও অডিটর ফিরোজ আলম
- 📌 অভিযোগ: ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অনলাইনে দাখিল, অনুমোদন পেয়ে টাকা আত্মসাত করা হয়
- 📌 কনস্টেবল আসাদুজ্জামান আরিফের ব্যাংক হিসাবে ২০২১-২০২৬ সালের মধ্যে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে
- 📌 এএসআই কমল হোসেনের হিসাবে গত এক বছরে ৩২ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে
- 📌 অভিযুক্তরা দাবি: টাকার উৎস সম্পর্কে জানতেন না, কিন্তু ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা পেয়েছেন
📰 বিস্তারিত
বগুড়া জেলা পুলিশের বিভিন্ন টিএ-ডিএসহ সরকারি বিল-ভাউচারে জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলা পুলিশের ছয় সদস্য, একজন সিভিল কর্মচারী এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা সহ মোট আটজন ব্যক্তির জড়িত থাকার সন্দেহ পাওয়ায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী রাজিবুল ইসলাম, কনস্টেবল আসাদুজ্জামান আরিফ, আমিরুল ইসলাম, নাসির উদ্দীন, রাজু আহম্মেদ, সোলাইমান হোসেন, জেলা বিশেষ শাখায় কর্মরত এএসআই কমল হোসেন এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অডিটর ফিরোজ আলম।
গত ২৬ আগস্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আসাদুজ্জামানকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন বগুড়া পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ। কমিটি ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এবং তাদের ব্যাংক হিসাবের লেনদেনসহ বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই-বাছাই করছে। তদন্ত কমিটির সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশের বিভিন্ন টিএ-ডিএসহ অন্যান্য বিল-ভাউচার তৈরি করে অনলাইনে দাখিল করা হতো। পরে জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট অডিটর সেসব বিল যাচাই করে অনুমোদন দিতেন। অনুমোদনের পর বিলের টাকা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ব্যাংক হিসাবে জমা হতো। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া বা অতিরিক্ত বিলের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ পরে নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক মানিকুর রহমান বিল-ভাউচার যাচাই করার সময় অসংগতি দেখতে পান। বিষয়টি তিনি পুলিশ সুপারকে জানান। এরপর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী রাজিবুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং এ ঘটনায় জড়িত আরও সাতজনের নাম জানান। তদন্ত কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। তবে পুরো হিসাব বের করতে ব্যাংক লেনদেন, বিল-ভাউচার ও সরকারি নথি যাচাই করা হচ্ছে।
"প্রাথমিকভাবে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। তবে পুরো হিসাব বের করতে ব্যাংক লেনদেন, বিল-ভাউচার ও সরকারি নথি যাচাই করা হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়, বগুড়া জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মির্জা সায়েম মাহমুদ (পুলিশ সুপার), রাজিবুল ইসলাম (অফিস সহকারী), কমল হোসেন (এএসআই), মানিকুর রহমান (হিসাবরক্ষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ জন অভিযুক্ত, ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা (আসাদুজ্জামান আরিফের হিসাব), ৩২ লাখ টাকা (কমল হোসেনের হিসাব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!