📌 গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তা নদীর আকস্মিক ভাঙনে ৮৩টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি পরিবারের সাতটি টিনের ঘর পুরোপুরি নদীতে চলে গেছে। বর্ষা মৌসুমে বারবার ঘটে যাওয়া এই ভাঙন থেকে আতঙ্কিত স্থানীয়রা জরুরি সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছেন
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ৭২ ঘণ্টায় ৮৩টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি পরিবারের অন্তত সাতটি টিনের ঘর পুরোপুরি নদীতে চলে গেছে এবং আরও কিছু পরিবারের ঘরবাড়ি আংশিকভাবে নদীতে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে এই এলাকায় বারবার ভাঙন ঘটে যাচ্ছে, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান নেই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ভাঙনে ৮৩টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে
- 📌 ১২টি পরিবারের সাতটি টিনের ঘর পুরোপুরি নদীতে চলে গেছে, আরও কিছু ঘর আংশিকভাবে নদীতে পড়েছে
- 📌 গত ৭২ ঘণ্টায় এই ভাঙন ঘটেছে, এর মধ্যে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ৬০টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে চলে গেছে
- 📌 ২০২৬ সালের ১৮ আগস্ট ও ১৬ জুলাইও এই এলাকায় ভাঙন ঘটে, তখন ১০০টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে চলে যায়
- 📌 ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ঘরসহ গাছপালা ও হাঁস-মুরগি নদীতে বিলীন হয়েছে
- 📌 স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই
- 📌 ৩৩ বছরে বরগুনার পাথরঘাটার ১৯২ জেলে নিখোঁজ হয়েছে বৈরী আবহাওয়ার কারণে
📰 বিস্তারিত
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার এলাকায় গত বুধবার ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে তিস্তা নদীর আকস্মিক ভাঙন শুরু হয়। এই ভাঙনে রাতে ৬০টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত মোট বসতভিটা বিলীন হওয়া পরিবারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৩। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, ‘এখন কোথায় যায়া ঠাঁই নিমু! ঘর তোলার শেষ সম্বলটুকুও কাড়ি নিল রাক্ষসী তিস্তা। দুই বছরে ছয়বার নদী ভাঙার পর এই জায়গাত কোনোমতে মাথা গুঁজে আছনু। সেটাও চলি গেছে নদীত। হামারঘরে দুঃখ দেখার মতো কেউ নাই। চোখের সামনত ঘর দুইটা নদীত চলি গেল, কিছুই করবার পানু না।’
ভাঙনকবলিত এলাকায় শত শত পরিবার নদীর তীরে খোলা জায়গায় দিন কাটাচ্ছে। তাদের রান্না বা খাবারের কোনো ব্যবস্থা নেই। কেউ কেউ উঁচু বাঁধ ও স্বজনের আঙিনায় অমানবিক অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জরুরি ভিত্তিতে তাঁদের জন্য তাঁবু ও শুকনা খাবার প্রয়োজন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি জানান, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকায় ভাঙনের খবর পেয়ে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা দাবি করছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেই। তারা বলেন, ‘ভাঙন শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঘুম ভাঙে, কিন্তু ভাঙন থামলে তারা আবার ঘুমিয়ে পড়ে। বছরের পর বছর ধরে এই অবহেলা চলছে।’
"এখন কোথায় যায়া ঠাঁই নিমু! ঘর তোলার শেষ সম্বলটুকুও কাড়ি নিল রাক্ষসী তিস্তা। দুই বছরে ছয়বার নদী ভাঙার পর এই জায়গাত কোনোমতে মাথা গুঁজে আছনু। সেটাও চলি গেছে নদীত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুন্দরগঞ্জ উপজেলা, গাইবান্ধা, কাপাসিয়া ইউনিয়ন, উত্তর লালচামার এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুল করিম, আতোয়ার রহমান, ঈফফাত জাহান তুলি, শরিফুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৩টি পরিবার, ১২টি পরিবার (৭টি পুরোপুরি নদীতে চলে গেছে), ৬০টি পরিবার (রাতে বিলীন), ৭২ ঘণ্টা, ১৮ আগস্ট, ১৬ জুলাই, ১০০টি পরিবার, ৩৩ বছর, ১৯২ জেলে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!