📌 সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল ও জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের রোগীরা স্বাদহীন ও পুষ্টিহীন খাবারের অভিযোগ তুলেছেন। ১৭৫ টাকা বরাদ্দে তিন বেলার খাবার বিতরণের পদ্ধতিতে প্রশ্ন উঠছে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, রোগীর সুস্থতার জন্য খাবারের মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য বিতরণ করা খাবার স্বাদহীন ও পুষ্টিহীন বলে অভিযোগ তুলেছেন রোগীরা। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউটের রোগীরা জানিয়েছেন, খাবারের মান তাদের সুস্থতার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল হাসপাতালের ওয়ার্ড ১০৪র রোগী হনুফা আক্তার (ছদ্মনাম) বলেছেন, খাবারে স্বাদ নেই এবং ডাল ও মাংসের দানা খুঁজে পাওয়া কঠিন।
- 📌 চুয়াডাঙ্গা বাসিন্দা আকবর হোসেনের (ছদ্মনাম) অভিযোগ, সকাল-দুপুর-রাতের খাবার সবই স্বাদহীন।
- 📌 ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর থেকে সরকারি হাসপাতালে রোগীদের খাবারের দৈনিক বরাদ্দ বেড়েছে ১৭৫ টাকা। কিন্তু কার্যকর বরাদ্দ ১৪৮ টাকা ৭৫ পয়সা (১৫% ভ্যাট বাদে)।
- 📌 ২০১৩ সালের ডায়েট স্কেল অনুযায়ী, একজন রোগীর জন্য নির্ধারিত ছিল ৩৪০ গ্রাম ভাত, ৩৪০ গ্রাম মাংস/মাছ, ৪০ গ্রাম ডাল ও ৪০০ গ্রাম সবজি। কিন্তু বাস্তবে কম পরিমাণ ও স্বাদহীন খাবার পৌঁছায়।
- 📌 পুষ্টিবিদরা বলছেন, রোগীর বয়স ও রোগের ধরন অনুযায়ী খাবারের মান ও পরিমাণ পরিবর্তন করা উচিত।
📰 বিস্তারিত
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যকৃতের জটিলতা নিয়ে চিকিৎসাধীন হনুফা আক্তার (ছদ্মনাম) জানান, সকালে তিন পিস রুটি, একটি কলা ও একটি ডিম পান। দুপুরে ভাত, ডাল, সবজি ও মাংস দেওয়া হয়, কিন্তু খাবার স্বাদহীন বলে মনে হয়। রাতে ভাত, মাছ ও ডাল পান। তিনি বলেন, “মুখে তুলতেই হতাশা। মাংসের তরকারিতে স্বাদ নেই। ডাল যেন হলুদ পানি—তাতে ডালের দানা খুঁজে পাওয়া কঠিন।”
পিত্তথলির সমস্যায় চিকিৎসাধীন চুয়াডাঙ্গা বাসিন্দা আকবর হোসেন (ছদ্মনাম) বলেন, “সকালে ছয় পিস রুটি, একটি ডিম ও একটি কলা দেওয়া হয়। দুপুরে ভাত, লাউ-আলুর সবজি, ডাল ও মুরগি। রাতে ভাত, ডাল ও রুই মাছ। কিন্তু খাবার নিতান্ত স্বাদহীন। একজন রোগীর এ খাবার খেয়ে সহজে সুস্থ হওয়ার কথা নয়।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় খাবারের ব্যবস্থা করে। তবে অঞ্চলভেদে চাল, মাছ ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামে পার্থক্য থাকায় দরপত্রের মূল্য সারা দেশের জন্য এক নয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক হাসপাতালে শয্যার বিপরীতে রোগীর পথ্য বরাদ্দ থাকে, কিন্তু টারশিয়ারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য সরকারি বরাদ্দ থাকে না।
"রোগীর বয়স, রোগের ধরন ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাবারের ধরন ও পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। এতে প্রয়োজনীয় ক্যালরি, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ নিশ্চিত করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হনুফা আক্তার (ছদ্মনাম), আকবর হোসেন (ছদ্মনাম), স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭৫ টাকা (বরাদ্দ), ১৪৮ টাকা ৭৫ পয়সা (কার্যকর বরাদ্দ), ১০৪ ও ৭০৩ (ওয়ার্ড নম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!