📌 অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সাইবার সুরক্ষা (সংশোধনী), গুম প্রতিরোধ ও এসআরবি আইন, ২০২৬ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি আইনগুলোর মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা তুলেছে এবং আইনমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছে
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন — সাইবার সুরক্ষা (সংশোধনী) আইন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬ — নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) আইনমন্ত্রীকে পাঠানো একটি চিঠিতে এসব আইনের বিভিন্ন বিধানকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা তুলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাইবার আইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার আশঙ্কা তুলেছে অ্যামনেস্টি। আইনের ৮(২) ধারা অনুযায়ী, সরকারি অনুমোদিত সংস্থাগুলো ‘রাষ্ট্রীয় অবমাননা’ বা ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি’র অজুহাতে ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক করতে পারবে।
- 📌 গুম প্রতিরোধ আইনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ার জন্য সংশোধনের দাবি জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। বিশেষত, আইনের ২(এইচ) ধারায় গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়ার সংজ্ঞা এবং ৪ ধারায় গুমের তথ্য গোপন রাখার বিধানকে অবাস্তব বলে মনে করা হয়েছে।
- 📌 এসআরবি আইন সম্পর্কে কোনো বিশেষ উদ্বেগ উল্লেখ করা হয়নি, তবে সাইবার ও গুম প্রতিরোধ আইনের সঙ্গে এর সামঞ্জস্যের প্রশ্ন উঠেছে।
- 📌 ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা জরিমানা থাকছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘গুজব’, ‘বুলিং’ বা ‘অপপ্রচার’ ছড়ানোর জন্য।
📰 বিস্তারিত
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক স্মৃতি সিং আইনমন্ত্রীকে চিঠিটি পাঠান। চিঠিতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ডর সঙ্গে আইনমন্ত্রীর বৈঠকে উঠে আসা উদ্বেগের ধারাবাহিকতা হিসেবে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে।
অ্যামনেস্টি বলেছে, বাংলাদেশে প্রণীত বা প্রস্তাবিত এই তিনটি আইন সরাসরি মানবাধিকারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত, সাইবার সুরক্ষা (সংশোধনী) আইনের ৮(৪) ধারা অনুযায়ী, কনটেন্ট ব্লক করার পর ট্রাইব্যুনালের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, গুম প্রতিরোধ আইনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলেও গুমের তথ্য গোপন রাখার বিধানকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অ্যামনেস্টি আরও বলেছে, গুমের অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি করে। সংস্থাটি সব পরিস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে এবং বাংলাদেশকে মৃত্যুদণ্ড পুরোপুরি বিলোপের আহ্বান জানিয়েছে।
"আগের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করতে ব্যবহৃত হয়েছে। নতুন সংশোধনীতেও একই আশঙ্কা রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্মৃতি সিং (অ্যামনেস্টি দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক), অ্যাগনেস ক্যালামার্ড (অ্যামনেস্টি মহাসচিব)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ অক্টোবর (চিঠি পাঠানো তারিখ), ৮ সেপ্টেম্বর (গুম প্রতিরোধ আইন পাস), ১০ বছর (কারাদণ্ড), ৪০ লাখ টাকা (জরিমানা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!