📌 চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান প্রকল্প ও কর প্রকল্পে ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ১৩ জনের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও প্রকৌশলী
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান প্রকল্প ও ইউনিয়ন কর প্রকল্পে ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ১৩ জনের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয় থেকে এই মামলা দুটি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও উপসহকারী প্রকৌশলী।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় ২০১৭-২১ অর্থবছরে অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান প্রকল্প (ইজিপিপি) ও ইউনিয়ন কর প্রকল্পে মোট ১ কোটি ১৮ লাখ ৬৮ হাজার ৫৮৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক মামলা দায়ের করেছে
- 📌 ৯০টি প্রকল্পের মধ্যে ৩৫টি ইজিপিপি প্রকল্পে ৩০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ও ৫৫টি কর প্রকল্পে ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৩ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে
- 📌 মৃত ব্যক্তি, প্রবাসী ও রাজনৈতিক নেতাদের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে
- 📌 আসামিদের মধ্যে রয়েছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. এনায়েত হোসেন নয়ন, সাবেক সদস্য কল্পনা রানী চক্রবর্তী, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী মিলন বড়ালসহ ১৩ জন
- 📌 প্রকল্পের শ্রমিকদের মধ্যে ৯০ শতাংশের ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৭২ হাজার টাকা করে জমা-উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে
📰 বিস্তারিত
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, মিরসরাই উপজেলার ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদে ২০১৭-১৮ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরে বাস্তবায়িত অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান প্রকল্প (ইজিপিপি) ও ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরের ইউনিয়ন কর প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুদকের অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দুটি প্রকল্পের ৯০টি প্রকল্পে মোট ১ কোটি ১৮ লাখ ৬৮ হাজার ৫৮৩ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। ইজিপিপির ৩৫টি প্রকল্পে ৩০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ও ইউনিয়ন করের ৫৫টি প্রকল্পে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৩ টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রকল্পের শ্রমিক নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে। প্রকল্পের তালিকাভুক্ত প্রায় ৫৮ জন শ্রমিকের জবানবন্দি ও ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়া গেছে। মৃত ব্যক্তি, প্রবাসী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা ও ইউপি সদস্যদের দিনমজুর শ্রমিক হিসেবে দেখিয়ে তাদের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়েছে। অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট নথিতে মৃত ব্যক্তি হিসেবে নাসির আহাম্মদ, মো. হারুন, মো. মোস্তফা, হাসনা বানু, রতন ত্রিপুরা, মো. খুরশেদ আলম ও হাসিনা বেগমের নাম পাওয়া গেছে। প্রবাসী হিসেবে মো. লিটন মিয়া, মো. তারেক ও ইলিয়াসের নাম পাওয়া গেছে।
দুদক জানায়, প্রকল্পের শ্রমিকদের ব্যাংকে নিয়ে টিপসই দিয়ে হিসাব খোলা হলেও প্রকৃত শ্রমিকদের দিয়ে সর্বোচ্চ চার-পাঁচ দিন কাজ করানো হতো। শ্রমিকদের কেউ কেউ দুই থেকে তিন হাজার টাকা পেয়েছেন। অনেকেই সর্বোচ্চ দুবারের বেশি ব্যাংকে গিয়ে টাকা তোলেননি। ব্যাংক হিসাবের বিবরণী বিশ্লেষণে শ্রমিকদের ৯০ শতাংশের বেশি হিসাবের ক্ষেত্রে প্রায় ৭২ হাজার টাকা করে জমা ও উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।
"প্রকল্পের শ্রমিক নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে। মৃত ব্যক্তি, প্রবাসী ও রাজনৈতিক নেতাদের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।" — দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরসরাই উপজেলা, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. জসিম উদ্দিন (দুদকের উপসহকারী পরিচালক), মো. এনায়েত হোসেন নয়ন (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ জন আসামি, ১ কোটি ১৮ লাখ ৬৮ হাজার ৫৮৩ টাকা আত্মসাত, ৯০টি প্রকল্পে অনিয়ম
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!