📌 বরগুনার জেলেরা ইলিশের নিরাপদ প্রজননের জন্য ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে উত্তাল সাগর ও ঋণ আতঙ্কে অনেক জেলে অনিশ্চিত। জেলেদের মধ্যে ৩৯ হাজার ৪৬৯ জন সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।
বরগুনা জেলার জেলেরা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে উত্তাল সাগর ও ঋণ আতঙ্কে অনেক জেলে প্রথম দিনেই গভীর সমুদ্রে যেতে পারছেন না। জেলেদের মধ্যে ৩৯ হাজার ৪৬৯ জন সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার সময়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বরগুনার ৫২ হাজার ৪৭৬ জন নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ৩৯ হাজার ৪৬৯ জন সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে
- 📌 ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা, কিন্তু ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে উত্তাল সাগর ও ঋণ আতঙ্কে অনিশ্চয়তা
- 📌 পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ৫০টিরও বেশি ট্রলার নোঙর করে রয়েছে, জাল ও সরঞ্জাম মেরামতের কাজ চলছে
- 📌 মহাজন ও ট্রলার মালিকরা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ট্রলার মেরামত করে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন
- 📌 গত মৌসুমে ৩ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হলেও এবার মাত্র ১ কোটি টাকা বিক্রি হয়েছে, ঋণ আতঙ্কে জেলেরা চাপে
📰 বিস্তারিত
বরগুনা জেলার জেলেরা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা। তবে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে উত্তাল সাগর ও ঋণ আতঙ্কে অনেক জেলে প্রথম দিনেই গভীর সমুদ্রে যেতে পারছেন না। জেলেদের মধ্যে ৩৯ হাজার ৪৬৯ জন সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার সময়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখা গেছে, জেলেরা শেষ মুহূর্তে জাল ও মাছ ধরার ট্রলার মেরামতের কাজে ব্যস্ত। ঘাটে নোঙর করে রয়েছে অর্ধশতাধিক ট্রলার। কোনো ট্রলারে জাল তোলা হচ্ছে, আবার কোনো ট্রলারে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তোলা হচ্ছে। অন্যদিকে বরফ কলগুলোতেও শ্রমিকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। বড় বরফের খণ্ড ভেঙে টুকরো করে মাছ ধরার ট্রলারে তোলা হচ্ছে।
বরগুনা সদরের মৎস্য আড়ত মালিক মো. আফজাল হোসেন জানান, এ বছর সকল মৎস্য ব্যবসায়ীই কমবেশি লোকসানে রয়েছেন। গত মৌসুমে এসব ট্রলারে আহরিত ৩ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়েছিল, কিন্তু এবার বিক্রি হয়েছে মাত্র ১ কোটি টাকা। বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করে এই বিশাল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে এখন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তারা।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা সাগরে যাওয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। তবে গত কয়েক দিন ধরে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় অনেক জেলে ট্রলার গভীর সমুদ্রে যেতে পারছেন না। ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরেও অনেক জেলে পরিবারের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সাগরের আবহাওয়া ভালো হলে দু একদিন পরে গভীর সাগরে মাছ ধরার ট্রলারগুলো যাত্রা করবে।
"টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় জেলেরা আবারও সাগরে মাছ ধরতে ফিরবেন। মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করা এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করাই এ নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য। জেলেরা সাগরে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরগুনা জেলা, পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেলেরা, মো. আফজাল হোসেন, গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, জিয়া উদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, ৫২ হাজার ৪৭৬ জন জেলে, ৩৯ হাজার ৪৬৯ জন সহায়তার আওতায়, ৩ কোটি টাকা (গত মৌসুম), ১ কোটি টাকা (এ বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!