📌 জাতিসংঘের নতুন 'ইকুয়াল আর্থ' মানচিত্রে ভারত, জাপান ও ইউক্রেনের বিতর্কিত ভূখণ্ডের উপস্থাপন নিয়ে আপত্তি উঠেছে। ১৬৪টি দেশের সমর্থনে গৃহীত প্রস্তাবের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও আফ্রিকার প্রকৃত আয়তনের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে
জাতিসংঘের নতুন বিশ্ব মানচিত্র প্রজেকশন 'ইকুয়াল আর্থ' নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্কের কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে। এই মানচিত্রে বিশ্বের মহাদেশগুলোর প্রকৃত আয়তন তুলে ধরার প্রচেষ্টায় ভারত, জাপান ও ইউক্রেনের বিতর্কিত ভূখণ্ডের উপস্থাপন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এই প্রস্তাবের পক্ষে ১৬৪টি দেশের সমর্থন পেয়েছে, যেখানে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যও অন্তর্ভুক্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র দেশ হিসেবে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাতিসংঘের নতুন 'ইকুয়াল আর্থ' প্রজেকশনে আফ্রিকার আয়তন গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড় দেখানো হয়েছে, যা ১৫৬৯ সালের 'মারকেটর প্রজেকশন'-এর তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল
- 📌 ইউক্রেনের প্রতিনিধি আন্দ্রি মেলনিক বলেছেন, ক্রিমিয়া উপদ্বীপের উপস্থাপন নিয়ে সংশোধন না করা হলে দেশটি ভোটদানে বিরত থাকবে; এস্তোনিয়া, জর্জিয়া, মলদোভা, সার্বিয়া ও লিথুয়ানিয়া তাদের সমর্থন জানায়
- 📌 ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের উপস্থাপন নিয়ে আপত্তি জানায়, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে চূড়ান্ত মর্যাদা ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বিষয়
- 📌 জাপান রাশিয়ার দখলে থাকা কুরিল দ্বীপপুঞ্জের উপস্থাপন নিয়ে টোকিও সংশোধনের দাবি জানায়, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিতর্কিত
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি বলেন, ১৬শতকের মানচিত্র প্রজেকশন নিয়ে বিতর্ক বিশ্বের বাস্তব সংকট থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের নতুন মানচিত্র প্রজেকশন 'ইকুয়াল আর্থ' বিশ্বের মহাদেশগুলোর প্রকৃত আয়তন তুলে ধরার লক্ষ্যে তৈরি হয়েছে। এই প্রজেকশনে আফ্রিকার আয়তন গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড় দেখানো হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ব্যবহৃত 'মারকেটর প্রজেকশন'-এর তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল। তবে এই মানচিত্রের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এই প্রস্তাবের পক্ষে ১৬৪টি দেশের সমর্থন পেয়েছে, যেখানে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যও অন্তর্ভুক্ত। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি বলেছেন, এই বিতর্ক বিশ্বের বাস্তব সংকট থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রতিনিধি আন্দ্রি মেলনিক বলেছেন, ক্রিমিয়া উপদ্বীপের উপস্থাপন নিয়ে সংশোধন না করা হলে দেশটি ভোটদানে বিরত থাকবে। ইউক্রেনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এস্তোনিয়া, জর্জিয়া, মলদোভা, সার্বিয়া ও লিথুয়ানিয়া তাদের সমর্থন জানায়। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে দেশটির বাকি অংশের চেয়ে ভিন্ন এবং তুলনামূলকভাবে রাশিয়ার রঙের কাছাকাছি ছায়ায় দেখানো হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের উপস্থাপন নিয়ে আপত্তি জানায়। তারা বলেছে, এই অঞ্চলগুলি ভারতের সরকারি মানচিত্র অনুযায়ী দেখাতে হবে। মানচিত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের চূড়ান্ত মর্যাদা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এখনো নির্ধারিত হয়নি।
জাপানও রাশিয়ার অংশ হিসেবে বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ দেখানোর প্রতিবাদ করেছে। টোকিও সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। দ্বীপপুঞ্জটি নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপগুলো দখল করার পর থেকে।
"ভোটের আগে বিষয়টি সংশোধনের অনুরোধ জানানো হলেও তা করা হয়নি। ইউক্রেনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আমরা ভোটদানে বিরত থাকব"
— আন্দ্রি মেলনিক, ইউক্রেনের জাতিসংঘ প্রতিনিধি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতিসংঘ সদর দফতর, নিউ ইয়র্ক; টোকিও; ওয়াশিংটন; ইউক্রেনের জাতিসংঘ প্রতিনিধিত্ব
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আন্দ্রি মেলনিক (ইউক্রেনের প্রতিনিধি), ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাপানের কর্তৃপক্ষ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬৪টি দেশের সমর্থন, আফ্রিকার আয়তন গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে ১৪ গুণ বড়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!