📌 ভোলার মনপুরা উপজেলার 'মফুর বাপ' ওয়াহাব পাটোয়ারী নিজের জানাজা ও দাফনের খরচ জোগাড় করতে দীর্ঘদিন ভিক্ষা করে টাকা জমাতেন। মৃত্যুর পর স্থানীয়রা তার জমানো ৮ হাজার ৯৮৫ টাকা দিয়ে দাফন ও আত্মীয়দের খরচ নিবারণ করেন।
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় 'মফুর বাপ' নামে পরিচিত সত্তরোর্ধ্ব মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি ওয়াহাব পাটোয়ারীর মৃত্যুর পর স্থানীয়দের মানবিক উদ্যোগে তার জীবনের শেষ ইচ্ছা পূরণ হয়। নিজের জানাজা ও দাফনের খরচ জোগাড় করতে দীর্ঘদিন ভিক্ষা করে টাকা জমিয়ে রাখতেন তিনি। মৃত্যুর পর তার জমানো ৮ হাজার ৯৮৫ টাকা দিয়ে স্থানীয়রা তার দাফন ও আত্মীয়দের খরচ নিবারণ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টায় মনপুরার কলাতলী ইউনিয়নের কবির বাজারে মেয়ের বাড়িতে মারা যান ওয়াহাব পাটোয়ারী (৭০+), যিনি স্থানীয়দের কাছে 'মফুর বাপ' নামে পরিচিত ছিলেন।
- 📌 মৃত্যুর আগে তিনি ভিক্ষা করে পলিথিনে মুড়িয়ে রাখা টাকাগুলো সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের কাছে জমা রাখতেন।
- 📌 তার জমানো টাকার পুঁটলি খুলে গণনা করা হয় ৮ হাজার ৯৮৫ টাকা পাওয়া যায়।
- 📌 স্থানীয়রা তার দাফনের খরচে ৫ হাজার টাকা ব্যক্তিগতভাবে দেন সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার, ৫ হাজার টাকা দেন সাবেক উপজেলা যুবদল সভাপতি রাজিব চৌধুরী এবং ২ হাজার টাকা দেন ব্যবসায়ী শাহীন।
- 📌 মৃত্যুর পর তার জানাজা মনির বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজের আগে অনুষ্ঠিত হয়।
📰 বিস্তারিত
মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা ওয়াহাব পাটোয়ারী মাথার সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন না। সারাদিন বাজারে বাজারে ঘুরে ভিক্ষা করতেন এবং অনেক সময় পথে-ঘাটেই রাত কাটাতেন। তার প্রকৃত নাম ওয়াহাব পাটোয়ারী। স্থানীয়রা জানান, তিনি ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা পলিথিনে মুড়িয়ে পুঁটলিতে করে রাখতেন। পরে রাতে সেই টাকা সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের কাছে আমানত হিসেবে জমা রাখতেন। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে নিজের মৃত্যুর পরের খরচের জন্য টাকা সঞ্চয় করে আসছিলেন তিনি।
মৃত্যুর পর সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার ও সাবেক উপজেলা যুবদল সভাপতি রাজিব চৌধুরী বলেন, “ওয়াহাব পাটোয়ারী দাদার নিজের দাফনের খরচের জন্য জমানো টাকা ছিল। তার ওসিয়ত অনুযায়ী সবকিছু করা হবে। স্থানীয়দের নিয়ে আয়োজন করে মানুষজনকে খাওয়ানোর ব্যবস্থাও করা হবে।”
একজন অসহায় মানুষের জীবনের শেষ ইচ্ছা পূরণে স্থানীয়দের এই উদ্যোগকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী। ওয়াহাব পাটোয়ারীর মৃত্যুর পর তার জমানো টাকা ফেরত দিয়ে তার জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করায় বিষয়টি মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
"ওয়াহাব পাটোয়ারী দাদার নিজের দাফনের খরচের জন্য জমানো টাকা ছিল। তার ওসিয়ত অনুযায়ী সবকিছু করা হবে। স্থানীয়দের নিয়ে আয়োজন করে মানুষজনকে খাওয়ানোর ব্যবস্থাও করা হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভোলার মনপুরা উপজেলা, কলাতলী ইউনিয়নের কবির বাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওয়াহাব পাটোয়ারী ('মফুর বাপ'), আলাউদ্দিন হাওলাদার, রাজিব চৌধুরী, শাহীন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ হাজার ৯৮৫ টাকা (জমানো টাকা), ৫ হাজার টাকা (দুইজন দাতা), ২ হাজার টাকা (শাহীন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!