📌 মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে আইসিইউ অবহেলায় ছয় নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। তিন মাস পরও প্রতিশ্রুত ৮০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ না পেয়ে পরিবারগুলো হাইকোর্টে মামলা করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুধু তালবাহানা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে
মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে আইসিইউ অবহেলায় নবজাতক ছয় জনের মৃত্যু ঘটে। ঘটনার তিন মাস পরও প্রতিশ্রুত ৮০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আতঙ্কিত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুধু সময়ক্ষেপণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মগবাজার আদ্-দ্বীন হাসপাতাল এ আইসিইউ অবহেলায় ২৭ মে ছয় নবজাতকের মৃত্যু ঘটে।
- 📌 ৮০ লাখ টাকা প্রতিশ্রুতি দিয়েও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুধু ১০ লাখ টাকা দিয়েছে এবং বাকি টাকা দিতে অস্বীকার করছে।
- 📌 তদন্ত প্রতিবেদনে অবকাঠামোগত ত্রুটি ও চিকিৎসক-নার্সদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়।
- 📌 ১১ জুন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়, কিন্তু ২৭ জুলাই তিনটি শর্তে বহির্বিভাগ চালু করার অনুমতি দেয় সরকার।
- 📌 হাইকোর্টে প্রতিটি শিশুর পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
- 📌 হাসপাতাল পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল ও মহাপরিচালক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন কোনো মতামত দিতে অস্বীকার করছেন।
📰 বিস্তারিত
মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ২৭ মে ভোরে পোস্ট-অপারেটিভ ও আইসিইউ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পরপরই গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালের অবকাঠামোগত ত্রুটি, অব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসক-নার্সদের চরম গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়। ঘটনার সময় ওয়ার্ডে কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। সংকটময় মুহূর্তে শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। হাসপাতাল ভবন ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের পরিবেশ অবকাঠামোগতভাবে অনুপযুক্ত ছিল।
গত ৪ জুন প্রতিবেদন প্রকাশের দিনই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে কারণ দর্শাও নোটিস দেয়। ১১ জুন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে ২৭ জুলাই তিনটি শর্তে হাসপাতালের বহির্বিভাগের কার্যক্রম আবার চালু করার অনুমতি দেয় সরকার।
গত ৭ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিশির মনিবের মধ্যস্থতায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ। কিন্তু ঘটনাটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুধু ১০ লাখ টাকা দিয়েছে এবং বাকি টাকা দিতে অস্বীকার করছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তালবাহানা ও অবহেলার বিচারে হাইকোর্টে একাধিক আইনজীবী রিট দায়ের করেছেন। হাইকোর্টে নিহত প্রতিটি শিশুর পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দাবি এবং দায়ী চিকিৎসকদের বিচার চেয়ে শুনানি সচল রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের একজন শেয়ার বিজকে জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মাসে যদি টাকা না দিতে পারে তাহলে তারা টাকা দেওয়ার একটা রোডম্যাপ দিবে। তবে তারা শুধু তালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
"হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মাসে যদি টাকা না দিতে পারে তাহলে তারা টাকা দেওয়ার একটা রোডম্যাপ দিবে। তারা শুধু তালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মগবাজার, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তারিকুল ইসলাম মুকুল (হাসপাতাল পরিচালক), ডা. নাহিদ ইয়াসমিন (মহাপরিচালক), ব্যারিস্টার শিশির মনিব (আইনজীবী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ লাখ টাকা (প্রতিশ্রুতি), ১০ লাখ টাকা (প্রদত্ত), ৬ জন (মৃত নবজাতক), ২৭ মে (মৃত্যু), ১১ জুন (লাইসেন্স বাতিল), ২৭ জুলাই (বহির্বিভাগ চালু অনুমতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!