📌 সুদানের যুদ্ধের কারণে ১৮০০টি কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত ও ৬৫০টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। কারখানাগুলো পুনরুদ্ধার করতে বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে লুটতরাজ, সরবরাহের বিচ্ছিন্নতা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা। ম্যানুফ্যাকচারাররা বলছেন, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক নীতি ছাড়া পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়
সুদানের যুদ্ধের কারণে দেশের কারখানাগুলো পুনরুদ্ধারে লড়াই করছে। খার্তুমের ম্যানুফ্যাকচারার মেনসুর গেইলির কারখানা ছিল স্থানীয় গ্রাহকদের জন্য মিষ্টান্নের উৎপাদনে বিশেষজ্ঞ। কিন্তু ২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদান সেনাবাহিনী (SAF) ও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (RSF) এর মধ্যে সংঘাত শুরু হলে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তিন বছর পরেও কারখানাগুলো সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার করতে পারছে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৮০০টি কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত, ৬৫০টি সম্পূর্ণ ধ্বংস** — সুদানের শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে দেশের শিল্পক্ষেত্রে এই পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।
- 📌 **কারখানাগুলো ৪০% ক্ষমতায় কাজ করছে** — মেনসুর গেইলির কারখানার মতো বেশিরভাগ কারখানা মাত্র ৪০% ক্ষমতায় কাজ করছে। তার কারখানার ক্ষতি অনুমান করা হয়েছে **১ মিলিয়ন ডলার**।
- 📌 **লুটতরাজ ও সরবরাহের বিচ্ছিন্নতা** — কারখানাগুলোতে লুটতরাজের কারণে যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক ও সরঞ্জাম হারিয়ে গেছে। এছাড়াও বিদ্যুৎ সংকট ও পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষতি পুনরুদ্ধারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- 📌 **মাত্র ১০% কারখানা চলছে** — শিল্পক্ষেত্রের ম্যানুফ্যাকচারারদের মতে, বর্তমানে শিল্পক্ষেত্রের মাত্র **১০% কারখানা** নিয়মিতভাবে কাজ করছে।
- 📌 **পুনরুদ্ধারের জন্য দরকার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা** — সারা এলফাতিহ খালিল, আল তাইতাল অ্যাডভান্স ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান নির্বাহী বলেছেন, শিল্প পুনরুদ্ধারের জন্য নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক নীতি ও আইনি সুরক্ষা প্রয়োজন।
📰 বিস্তারিত
খার্তুমের ম্যানুফ্যাকচারার মেনসুর গেইলির কারখানা ছিল সুদানের শিল্পক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু ২০২৩ সালের এপ্রিলে সংঘাত শুরু হলে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তিন বছর পরেও কারখানাগুলো সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার করতে পারছে না। গেইলি জানান, “আমাদের ক্ষতি অনুমান করা হয়েছে **১ মিলিয়ন ডলার**। আমরা কিছু যন্ত্রপাতি, স্পেয়ার পার্টস হারিয়েছি এবং কারখানার বড় অংশ পুনর্নির্মাণ করতে হয়েছে।”
গেইলির মতো আবদুলেলাহ মোহামেদের কারখানাও যুদ্ধের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “কারখানাগুলোকে ধ্বংস ও লুট করা ছিল সিস্টেমেটিক। আমরা সবকিছু হারিয়েছি। শিল্পক্ষেত্রের জন্য নতুন পরিকল্পনা ও ভিশন প্রয়োজন, যাতে সুদান আবার উৎপাদন করতে পারে।”
সারা এলফাতিহ খালিলের আল তাইতাল অ্যাডভান্স ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানাও যুদ্ধের কারণে বন্ধ রয়েছে। এই কারখানাটি সেসাম তেল উৎপাদন করতো এবং আগে **৩০০ জনেরও বেশি শ্রমিক**কে চাকরি দিতো। খালিল বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, শিল্প পুনরুদ্ধারের জন্য নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, পরিষ্কার অর্থনৈতিক নীতি, বিনিয়োগ ও সম্পত্তির আইনি সুরক্ষা প্রয়োজন। বর্তমানে শিল্পক্ষেত্রের মাত্র **১০% কারখানা** নিয়মিতভাবে কাজ করছে এবং যেগুলো চলছে, সেগুলোও অস্থির অবস্থায় রয়েছে।”
গেইলির কারখানায় পুনরুদ্ধারের জন্য দরকার **সেসাম, চিনি, প্যাকেজিং, স্পেয়ার পার্টস, বিদ্যুৎ ও শ্রমিক**। কিন্তু সরবরাহের বিচ্ছিন্নতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কারখানাগুলো মাত্র **৪০% ক্ষমতায়** কাজ করছে। তিনি বলেন, “আমরা ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকের অভাবের কারণে এই অবস্থায় আছি। কিন্তু আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই, তাই আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”
"আমাদের ক্ষতি অনুমান করা হয়েছে **১ মিলিয়ন ডলার**। আমরা কিছু যন্ত্রপাতি, স্পেয়ার পার্টস হারিয়েছি এবং কারখানার বড় অংশ পুনর্নির্মাণ করতে হয়েছে।"
"কারখানাগুলোকে ধ্বংস ও লুট করা ছিল সিস্টেমেটিক। আমরা সবকিছু হারিয়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খার্তুম, সুদান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেনসুর গেইলি, আবদুলেলাহ মোহামেদ, সারা এলফাতিহ খালিল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮০০টি ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা, ৬৫০টি সম্পূর্ণ ধ্বংস, ৪০% কারখানা ক্ষমতা, ১ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি, ৩০০ জন শ্রমিক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!