📌 বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি সেপ্টেম্বরে ৪.১৭ শতাংশে নেমে গেছে — যা তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিনিয়োগের স্থবিরতা, উচ্চ সুদহার ও আইনশৃঙ্খলা সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা ঋণ চাহিদা কমিয়ে দিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে একটি চেতনাজনক তথ্য: বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সেপ্টেম্বরে এই প্রবৃদ্ধি ৪.১৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা টানা সাত মাস ধরে ৫ শতাংশের ঊর্ধ্বসীমা অতিক্রম করতে পারছে না। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদহার ও ব্যবসায়িক পরিবেশের অবনতি এই প্রবৃদ্ধির পিছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪.১৭ শতাংশে নেমে গেছে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি — তিন দশকের সর্বনিম্ন পর্যায়ে
- 📌 টানা সাত মাস ধরে ৫ শতাংশের ঊর্ধ্বসীমা অতিক্রম করতে ব্যর্থ
- 📌 মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি ধাপে ধাপে কমে ৪.১৭ শতাংশে নেমেছে
- 📌 বিনিয়োগের স্থবিরতা ও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা ঋণ চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে
- 📌 ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার ও আইনশৃঙ্খলা সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা নতুন ঋণ নিতে অনিচ্ছুক
- 📌 বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, ২০৩০ সালের আগে বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী নয়
- 📌 বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থনীতিতে গতি ফিরলে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়বে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি চলতি বছরের মার্চে ৪.৭২ শতাংশ ছিল। এপ্রিলে তা বেড়ে ৪.৭৫ শতাংশে পৌঁছায়। তবে জুন মাসে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.৪৭ শতাংশে নেমে আসে। জুলাইয়ে কিছুটা উন্নতি ঘটে ৪.৬২ শতাংশে, কিন্তু আগস্টে আবার ৪.৭৫ শতাংশে স্থির হয়। সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে ৪.১৭ শতাংশে নেমে আসে — যা তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ভ্যাট-করসংক্রান্ত জটিলতাগুলো নতুন বিনিয়োগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে, ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগের পরিবেশকে নিরাপদ মনে করছেন না।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘জানুয়ারি থেকে চার শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বার্তা পাওয়া গেছে, ২০৩০ সালের আগে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না। তিনি আরও বলেন, নতুন করে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ব্যবসার ক্ষেত্রে বাড়তি সমস্যা তৈরি করছে। এর সঙ্গে ভ্যাট ও করসংক্রান্ত জটিলতাও রয়েছে।’
ব্যাংকারদের মতে, খেলাপি ঋণের উচ্চহার ও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তার কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও ঋণ বিতরণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘কাঠামোগত নানা প্রতিবন্ধকতা ও দুর্বল চাহিদার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নেমেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিক নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এ সময়ে দেশের বেশ কয়েকটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কারখানা বন্ধ হয়েছে। চালু থাকা অনেক কারখানায়ও উৎপাদন ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।’
"বর্তমানে ব্যবসা করার মতো অনুকূল পরিবেশ নেই। ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগের পরিবেশকে নিরাপদ মনে করছেন না।"
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘অর্থনীতিতে গতি ফিরলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধিও বাড়বে। গত সাত মাসে এমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি, যার ফলে ব্যাংকঋণের চাহিদা বাড়তে পারে। নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ হাতেম (বিকেএমইএ সভাপতি), সৈয়দ মাহবুবুর রহমান (মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক), ড. জাহিদ হোসেন (বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪.১৭ (সেপ্টেম্বর ঋণ প্রবৃদ্ধি), ৫.০০ (শতাংশের ঊর্ধ্বসীমা), ৪.৭২ (মার্চ ঋণ প্রবৃদ্ধি), ৩০-৪০ (উৎপাদন কমে গেছে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!