📌 ঠাকুরগাঁও ও বগুড়ার কৃষকরা ফুলকপি ও মুলা উৎপাদনের খরচ মেটাতে পারছেন না। শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচের কারণে দাম কমে যাওয়ায় চাষিরা মুলা ফেলে দিচ্ছেন রাস্তায়। জেলা কৃষি কর্মকর্তারা দামের এই অবনতিকে সাময়িক বলে মন্তব্য করেছেন
ঠাকুরগাঁও ও বগুড়া জেলায় শীতকালীন সবজি উৎপাদনের খরচ মেটাতে কৃষকদের অসুবিধা বাড়ছে। ফুলকপি ও মুলার উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় বিক্রয় মূল্য কমে যাওয়ায় চাষিরা শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচও মেটাতে পারছেন না। ফলে বগুড়ার মহাস্থানগড় পাইকারি বাজারে মুলা ফেলে দিচ্ছেন কৃষকরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঠাকুরগাঁও ও বগুড়ায় ফুলকপি ও বাঁধাকপির ফলন ভালো হলেও কৃষকরা উৎপাদন ব্যয় মেটাতে পারছেন না
- 📌 পাইকারি বাজারে ৪৩ কেজি ফুলকপির দাম মাত্র ৪০০ টাকা, কিন্তু খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৩০-৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে
- 📌 শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচের কারণে কৃষক মনসুর আলী ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে চাষ করা ফুলকপি বিক্রি করলে মাত্র ৮০ হাজার টাকার বেশি পাবেন না
- 📌 বগুড়ার মহাস্থানগড় বাজারে মুলা প্রতি মণ ২০০-৪০০ টাকা দামে বিক্রি হলেও চাষিরা বিক্রির টাকা দিয়ে পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরি মেটাতে পারছেন না
- 📌 জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম দামের অবনতিকে সাময়িক বলে মন্তব্য করেছেন
📰 বিস্তারিত
ঠাকুরগাঁও ও বগুড়া জেলায় শীতকালীন সবজি উৎপাদনের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে পড়ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপির ফলন ভালো হলেও কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় মেটাতে পারছেন না। বিশেষত শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচের কারণে কৃষকরা দামের লড়াইয়ে পড়েছেন।
সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি এলাকার কৃষক মনসুর আলী বলেন, তিনি দুই বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। জমি তৈরি থেকে শুরু করে ফসল উৎপাদন পর্যন্ত তাঁর ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারদরে যা ৮০ হাজার টাকার বেশি হবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠে ফসল ফলাই, কিন্তু দাম নির্ধারণের সময় আমাদের কোনো হাত থাকে না। মণপ্রতি ৪০০ টাকা পেলে শ্রমিক খরচই ওঠে না।’
বগুড়ার মহাস্থানগড় পাইকারি সবজি বাজারে দামের অবনতি দৃশ্যমান। ফুলকপি প্রতি মণ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি কেজি ১৫ থেকে ২০ টাকা, মুলা প্রতি মণ ২০০ থেকে ৪০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু চাষিরা দাম কমে যাওয়ায় বিক্রির টাকা দিয়ে পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরি মেটাতে পারছেন না। ফলে মুলা ফেলে দিচ্ছেন চাষিরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে লক্ষ্যমাত্রার বেশি জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ হয়েছে। একসঙ্গে বাজারে বেশি সরবরাহ হওয়ায় দাম কমেছে। তিনি দামের এই অবনতিকে সাময়িক বলে মন্তব্য করেছেন।
"আমরা মাঠে ফসল ফলাই, কিন্তু দাম নির্ধারণের সময় আমাদের কোনো হাত থাকে না। মণপ্রতি ৪০০ টাকা পেলে শ্রমিক খরচই ওঠে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, মহাস্থানগড় পাইকারি বাজার, বেগুনবাড়ি
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম, কৃষক মনসুর আলী, কৃষক শাহাবুদ্দিন, আড়তদার রহেদুল ইসলাম, কৃষক জাহেদুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৩ কেজি (ফুলকপি), ৪০০ টাকা (মণপ্রতি), ৯ টাকা ৩০ পয়সা (কেজি দাম), ৩০-৪০ টাকা (খুচরা দাম), ১ লাখ ২০ হাজার টাকা (উৎপাদন ব্যয়), ২০০-৪০০ টাকা (মুলা দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!