📌 পদ্মা অয়েলের তিনটি ডিপো থেকে জেট ফুয়েল পাচারের ঘটনায় ১ লাখ লিটার জ্বালানি গায়েব হয়। ঢাকায় ৭২ হাজার, চট্টগ্রামে ৯ হাজার ও নারায়ণগঞ্জে ১৬ হাজার লিটার জ্বালানি পাচারের ঘটনায় ব্যবস্থাপক ও কর্মকর্তাদের অবসর ও বরখাস্ত করা হয়েছে
পদ্মা অয়েলের তিনটি ডিপো থেকে জেট ফুয়েল পাচারের ঘটনায় বড় ধরনের অনিয়মের আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। গত ১১ মার্চ ঢাকায় ৭২ হাজার লিটার, ১৮ মে চট্টগ্রামে ৯ হাজার লিটার এবং সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জে সাড়ে ১৬ হাজার লিটার জ্বালানি পাচারের ঘটনায় পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এই তিনটি ঘটনায় প্রায় ১ লাখ লিটার জেট ফুয়েল গায়েব হয়েছে, যার বাজারমূল্য ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পদ্মা অয়েলের নারায়ণগঞ্জ ডিপো থেকে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল পাচারের ঘটনায় ব্যবস্থাপক সায়েদুল হককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং পাচারকৃত জ্বালানির মূল্য ফেরত দিতে বলা হয়েছে।
- 📌 চট্টগ্রামের ঘটনায় পদ্মা অয়েলের শাহ আমানত বিমানবন্দরের ইনচার্জ মো. সোহেল ইদ্রিসকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
- 📌 নারায়ণগঞ্জে সাড়ে ১৬ হাজার লিটার জ্বালানি পাচারের ঘটনায় লরিচালক সাগর হোসেন (২৭) গ্রেপ্তার করা হয় এবং হেলপার দ্বীন ইসলাম (৫২) ও লরির মালিক ইয়ার হোসেন ভূঁইয়াকে (৫০) আসামি করা হয়।
- 📌 পাচারের ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে সাইদুল হক, ছমীর উদ্দিন, আকতার কামাল, শওকত হোসেন ও মানিক কুমার রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
পদ্মা অয়েলের গোদনাইল ডিপো থেকে ১১ মার্চ ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল পাচারের ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে। অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, চারটি লরি ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোতে যাওয়ার সময় পাচার করা হয়। যদিও নিবন্ধন বইয়ে লরিগুলোর ঢোকার ও বের হওয়ার সময় লেখা ছিল এবং জেট ফুয়েল গ্রহণের নথিতে কর্মকর্তাদের সই ছিল। তবে বাস্তবে লরিগুলো ডিপোতে ঢোকেনি।
পদ্মা অয়েলের জেনারেল ম্যানেজার (মানবসম্পদ) মীর মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন জানান, এই ঘটনাগুলোতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল পাচারের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যবস্থাপক সায়েদুল হককে বাধ্যতামূলক অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পাশাপাশি পাচারকৃত জ্বালানির মূল্য ফেরত দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার পর সাইদুল হক, ছমীর উদ্দিন, আকতার কামাল, শওকত হোসেন ও মানিক কুমার রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’
নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় মামলা গত শনিবার নারায়ণগঞ্জে সাড়ে ১৬ হাজার লিটার জ্বালানি জব্দের সময় লরিচালক সাগর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকেসহ হেলপার দ্বীন ইসলাম ও লরির মালিক ইয়ার হোসেন ভূঁইয়াকে আসামি করে মামলা করা হয়। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এমদাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে ইতিমধ্যে পদ্মা অয়েলের শাহ আমানত বিমানবন্দরের ইনচার্জ মো. সোহেল ইদ্রিস এবং পদ্মা অয়েলের গাড়িচালক মো. জসিম উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
"এসব বিষয়ে আমরা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যবস্থাপক সায়েদুল হককে বাধ্যতামূলক অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পাশাপাশি পাচারকৃত ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য ফেরত দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার পর সাইদুল হক, ছমীর উদ্দিন, আকতার কামাল, শওকত হোসেন ও মানিক কুমার রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহ আমানত বিমানবন্দর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মীর মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন, সায়েদুল হক, সাগর হোসেন (২৭), দ্বীন ইসলাম (৫২), ইয়ার হোসেন ভূঁইয়া (৫০), মো. সোহেল ইদ্রিস, মো. জসিম উদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭২ হাজার লিটার (ঢাকা), ৯ হাজার লিটার (চট্টগ্রাম), ১৬ হাজার লিটার (নারায়ণগঞ্জ), ১ লাখ লিটার (মোট), ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা (মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!