📌 মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের পর ইরানের তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী অংশ নেন। তারা ব্যানারে ট্রাম্পকে শিকলে বাঁধা চিত্রায়িত করে এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়া হিসেবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দাবি করেন
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয়ের পর ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভকারীরা বাঁধভাঙা উল্লাসে মগ্ন হন। বুধবার তেহরানের মার্কিন সাবেক দূতাবাসের সামনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সমাবেশে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ ও ‘ইসরাইল নিপাত যাক’ স্লোগানে সমবেত হন। সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা ইরানের জাতীয় পতাকা নাড়ান এবং মার্কিন ও ইসরাইলি সরকারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় ইরানিদের বিক্ষোভকে তীক্ষ্ণ করেছে; তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিরোধী স্লোগান দিয়েছেন এবং মার্কিন সাবেক দূতাবাসের সামনে সমাবেশ করেছেন।
- 📌 ব্যানারে ট্রাম্পকে শিকলে বাঁধা চিত্রায়িত করা হয়েছে, যেখানে শিকলের অন্য প্রান্তে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতো দেখতে শয়তানের অবয়ব চিত্রিত করা হয়েছে।
- 📌 হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দাবি ইরান জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিশ্বের প্রধান জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দাবি করে, যা মার্কিন ভোটারদের জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- 📌 ৪০ বছর বয়সী মাহমুদখানি বলেছেন, ‘আমেরিকা বহু বছর ধরে আমাদের ওপর অত্যাচার চালিয়ে আসছে, কিন্তু ইরানের কোনো ক্ষতিই তারা করতে পারেনি’।
- 📌 ৬২ বছর বয়সী কাপড় ব্যবসায়ী মজিদ হেইদারি বলেছেন, ‘ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র যখন আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তখন আমাদেরও হরমুজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল’।
- 📌 ইরানের সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বলেছেন, ‘গত ৫০ বছর ধরে মার্কিন সরকারের ইরানি জনগণের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব একই রয়ে গেছে’।
📰 বিস্তারিত
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয়ের পর ইরানের তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভকারীরা বাঁধভাঙা উল্লাসে মগ্ন হন। বুধবার তেহরানের মার্কিন সাবেক দূতাবাসের সামনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সমাবেশে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ ও ‘ইসরাইল নিপাত যাক’ স্লোগানে সমবেত হন। সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা ইরানের জাতীয় পতাকা নাড়ান এবং মার্কিন ও ইসরাইলি সরকারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভকারীদের একটি ব্যানারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে শিকলে বাঁধা এক ‘রক্তমাখা বুলডগ’ হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। শিকলের অন্য প্রান্তে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতো দেখতে শয়তানের অবয়বের চরিত্র চিত্রিত করা হয়েছে। অন্য ব্যানারে ইরানের নিহত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন তিনি।
সমাবেশস্থলে একটি বিশাল ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘মূল্য কত হবে তা নির্ধারণ করেছে ইরানের জনগণ’। এর পাশেই পুরো বিশ্বের মানচিত্রে কালো তেলের ড্রাম সাজিয়ে রাখা হয়েছে, যা ইরানের হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দাবির প্রতীক। ইরান বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দাবি করে, যা মার্কিন ভোটারদের জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৭৯ সালে মার্কিন দূতাবাস দখল এবং পরবর্তী জিম্মি করার ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে আয়োজিত এ সমাবেশে অংশ নিয়ে ৪০ বছর বয়সী মাহমুদখানি বলেন, ‘আমেরিকা বহু বছর ধরে আমাদের ওপর অত্যাচার চালিয়ে আসছে। কিন্তু ইরানের কোনো ক্ষতিই তারা করতে পারেনি’। তিনি আরও বলেন, ‘তেলের দাম এত বেড়ে যাওয়া নিয়ে আমরা নিশ্চয়ই খুশি নই। তবে এতে অন্তত একটুখানি তৃপ্তি পাচ্ছি যে, আমরা এখন আর একা এই কষ্ট সইছি না’।
৬২ বছর বয়সী কাপড় ব্যবসায়ী মজিদ হেইদারি বলেন, ‘ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র যখন একজোট হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তখন আমাদেরও এই বিশেষ হাতিয়ার (হরমুজ বন্ধের সিদ্ধান্ত) ব্যবহার করতেই হবে। তাদের নিজ দেশের জনগণকে চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ওই সরকারগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ ছিল না’।
ইরানের সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি সত্যি মনে করি, সেখানে ডেমোক্র্যাট কিংবা রিপাবলিকান যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, আমাদের জন্য তার কোনো তফাৎ নেই। গত ৫০ বছর ধরে ইরানি জনগণের প্রতি মার্কিন সরকারের শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব দুর্ভাগ্যজনকভাবে একই রয়ে গেছে’।
"বিবেক থেকেই হোক কিংবা জীবনযাত্রার অনিয়ন্ত্রিত খরচের কারণেই হোক, আমেরিকান জনগণ স্পষ্টভাবে ‘যুদ্ধকে না’ বলে দিয়েছে এবং আমরা তাদের এই বার্তাকে পূর্ণ সমর্থন জানাই।"
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি পরিবহণ পথে তেহরান নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করায় এই গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনও পালটা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের প্রধান প্রধান বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে তার জবাব দিয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তেহরান (ইরান), মার্কিন সাবেক দূতাবাসের সামনে
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, মাহমুদখানি (৪০), মজিদ হেইদারি (৬২), বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ইরানের সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ বছর, ৬২ বছর, ৫০ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!