📌 হলিউড অভিনেত্রী ও কৌতুকশিল্পী মেলিসা ম্যাকার্থির জীবনযুদ্ধের গল্প। শরীর নিয়ে কটাক্ষ থেকে শুরু করে অর্থকষ্টের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। তাঁর প্রত্যাখ্যান ও সাফল্যের পথ ধরে এসেছে এক হাজার কোটি টাকার ব্যবসা।
হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী, কৌতুকশিল্পী ও প্রযোজক মেলিসা ম্যাকার্থি তাঁর ৫৬তম জন্মদিনে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন। তাঁর জীবনের গল্প শুধু সাফল্যের নয়, বরং প্রত্যাখ্যান, শরীর নিয়ে বিদ্রুপ ও অর্থকষ্টের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এক অসাধারণ কাহিনি। যে শরীরকে একসময় তাঁর ক্যারিয়ারে ‘সমস্যা’ হিসেবে দেখা হতো, সেই শরীর নিয়েই তিনি হয়ে উঠেছেন হলিউডের অন্যতম সফল নারী কমেডিয়ান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হলিউড অভিনেত্রী মেলিসা ম্যাকার্থির জীবনযুদ্ধের গল্পে রয়েছে প্রত্যাখ্যান, শরীর নিয়ে বিদ্রুপ ও অর্থকষ্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের একটি কর্ন ও সয়াবিনের খামারে বেড়ে ওঠা মেলিসা অ্যান ম্যাকার্থি
- 📌 ২০ বছর বয়সে নিউইয়র্কে পাড়ি জমান তিনি, তখন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ছিল মাত্র পাঁচ ডলার
- 📌 নিউইয়র্কে বেবিসিটার ও ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করেছেন তিনি
- 📌 ‘দ্য গ্রাউন্ডলিংস’ নামক কমেডি দলের সঙ্গে যুক্ত হন প্রায় নয় বছর
- 📌 ২০১১ সালে ‘ব্রাইডসমেইডস’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন
- 📌 তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিসে প্রায় পাঁচ মিলিয়ন ডলার আয় করে
📰 বিস্তারিত
মেলিসা অ্যান ম্যাকার্থি যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে একটি কর্ন ও সয়াবিনের খামারে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। ছোটবেলা থেকেই তিনি হলিউডের স্বপ্ন দেখতেন, তবে তা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তাঁর পরিবারের ছিল না। তাঁর বাবা-মা তাঁকে ১২ বছর ক্যাথলিক স্কুলে পড়িয়েছেন। পরিবারে প্রয়োজন ও চাহিদার পার্থক্য সম্পর্কে তিনি খুব ভালোভাবেই অবগত ছিলেন।
২০ বছর বয়সে নিউইয়র্কে পাড়ি জমান মেলিসা। সেখানে অভিনয়ের পাশাপাশি স্ট্যান্ডআপ কমেডি শুরু করেন তিনি। তখন তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ছিল মাত্র পাঁচ ডলার। নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে যাওয়ার সময় তাঁর কাছে ছিল মাত্র পাঁচ ডলার। অন্য এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বন্ধুর ডাকে নিউইয়র্কে গিয়ে স্ট্যান্ডআপ কমেডিতে অংশ নিতে গিয়ে তাঁর কাছে ছিল মাত্র ৪৫ ডলার। অভিনয়ের সুযোগ তখনো দূরের কথা ছিল। জীবন চালাতে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে হয়েছে। নিউইয়র্কে তিনি বেবিসিটার ও ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করেছেন। পরে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে বিখ্যাত ইম্প্রোভাইজেশন ও স্কেচ কমেডি দল ‘দ্য গ্রাউন্ডলিংস’-এ যোগ দেন। প্রায় নয় বছর সেখানে নিয়মিত অভিনয় করেন তিনি।
হলিউডে তাঁর প্রথম দিকের দিনগুলো ছিল ছোট ছোট চরিত্র আর অডিশনে ভরা। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে টেলিভিশনে কাজ শুরু করেন তিনি। কিন্তু বড় তারকা হতে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও এক দশকের বেশি সময়। ২০০০ সালে শুরু হওয়া ‘গিলমোর গার্লস’ সিরিজে সুকি সেন্ট জেমস চরিত্রে অভিনয় করে প্রথম পরিচিতি পান মেলিসা। সিরিজটির সঙ্গে তিনি ২০০০ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত যুক্ত ছিলেন। পরে সামান্থা হু-তেও অভিনয় করেন। তবে তখনো তাঁকে হলিউডের ‘হিরোইন’ হিসেবে ভাবা হতো না। তাঁর চেহারা ও ওজন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য ছিল নিয়মিত। বিশেষ করে কমেডি চরিত্রে তাঁকে প্রায়ই এমনভাবে ব্যবহার করা হতো, যেখানে তাঁর শরীরকেই হাসির উপাদান বানানো হতো।
২০১০ সালে ‘মাইক অ্যান্ড মিকি’ সিরিজে মলি ফ্লিনের চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন মেলিসা। চরিত্রটি তাঁকে এনে দেয় প্রাইমটাইম এমি পুরস্কার। কিন্তু তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০১১ সালে। পল ফিগ পরিচালিত ‘ব্রাইডসমেইডস’ চলচ্চিত্রে মেগান চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের তাক লাগিয়ে দেন তিনি। ক্রিস্টেন উইগ, মায়া রুডলফ, রোজ বার্নদের মতো অভিনেত্রীদের পাশে থেকেও অনেক দৃশ্যে মেলিসাই হয়ে ওঠেন সিনেমার মূল আকর্ষণ। চলচ্চিত্রটির জন্য তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পান। তখন তাঁর বয়স ছিল ৪০ বছর। অর্থাৎ হলিউডের প্রচলিত নিয়মে যে বয়সে অনেক নারী অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার সংকুচিত হতে শুরু করে, সেই বয়সেই তাঁর ক্যারিয়ার বিস্ফোরণের মতো বড় হয়ে যায়।
এরপর একে একে আসে ‘আইডেনটিটি থিফ’, ‘দ্য হিট’, ‘স্পাই’, ‘দ্য বস’, ‘লাইফ অব দ্য পার্টিসহ বেশ কিছু চলচ্চিত্র। ‘স্পাই’ চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা পায় এবং তাঁকে এনে দেয় গোল্ডেন গ্লোব মনোনয়ন।
"এমন ঘৃণা নিয়ে যে মানুষ বেঁচে আছেন, তাঁর জন্যই তাঁর খারাপ লাগছে।" — মেলিসা ম্যাকার্থি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেলিসা ম্যাকার্থি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৬ বছর, ১২ বছর, ২০ বছর, ৪৫ ডলার, ৯ বছর, ৪০ বছর, ৫ মিলিয়ন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!