📌 ট্রেনযাত্রায় শৈশবের পাটের গন্ধ আর দাদুর নির্মল ভালোবাসার স্মৃতি ফিরে আসে। হারানো মা-বাবার শূন্যতা আর দাদুর নির্ভেজাল স্নেহের মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাওয়া যায়
ট্রেনের জানালা দিয়ে সবুজের বুক চিরে ছুটে চলা দৃশ্য দেখতে দেখতে সদ্য ধোয়া রাস্তার পাশে শুকাতে দেওয়া পাটের গন্ধ নাকে আসে। সেই গন্ধ আর ছেলেবেলার স্কুলের মাঠে পাটকাঠির ঘরে লুকোচুরি খেলার স্মৃতি এখনও মনের গহীনে রয়ে গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ট্রেনযাত্রায় সদ্য ধোয়া রাস্তার পাশে শুকানো পাটের গন্ধ নাকে আসে, যা ছেলেবেলার স্মৃতির সঙ্গে জড়িত
- 📌 স্কুলের মাঠে পাটকাঠির ঘরে লুকোচুরি খেলার স্মৃতি আর গাঢ় রঙের গঙ্গা ফড়িংয়ের খেলা মনে পড়ে
- 📌 দাদু তাঁর ভালোবাসা প্রকাশ করেন খাবার দিয়ে, ফ্রিজ থেকে লিচু আর আম বের করে এনে খাওয়ানোর জন্য
- 📌 দাদু তাঁর ছেলেদের সঙ্গে যুদ্ধ করে একটি আমগাছ রক্ষা করেছেন, যা প্রতি বছর প্রচুর ফল দেয়
- 📌 দাদুর অ্যাসিটাবুলাম ভেঙে যাওয়ার পরও তাঁর নির্মল ভালোবাসা অটুট রয়েছে
📰 বিস্তারিত
ট্রেনের জানালা দিয়ে সবুজের বুক চিরে ছুটে চলা দৃশ্য দেখতে দেখতে সদ্য ধোয়া রাস্তার পাশে শুকাতে দেওয়া পাটের গন্ধ নাকে আসে। সেই গন্ধ আর ছেলেবেলার স্কুলের মাঠে পাটকাঠির ঘরে লুকোচুরি খেলার স্মৃতি এখনও মনের গহীনে রয়ে গেছে। স্কুল শেষে সহপাঠীরা মিলে সেই পাটকাঠির ঘরে গিয়ে খেলা করত। পাটকাঠির আঁটিগুলো গোল গোল করে ছড়িয়ে শুকাতে দেওয়া হতো, দেখতে দক্ষিণ আফ্রিকার জুলু উপজাতির ঐতিহ্যবাহী ‘রন্ডাভেল’ কুঁড়েঘরের মতো মনে হতো।
দাদু তাঁর ভালোবাসা প্রকাশ করেন খাবার দিয়ে। বাড়িতে গিয়ে তিনি মিটসেফ থেকে বিস্কুট-চানাচুর বের করে আনেন, আলমারি থেকে তাঁর পছন্দের আচারের বয়াম টেনে নামান। ফ্রিজে তাঁর জন্য ফ্রোজেন করে রাখা গাছের লিচু আর ফালি করে রাখা আম সবকিছু এনে সামনে রাখেন। দাদু বলেন, ‘এহন খাও।’ যদি বলা হয় খাবার পরে খাওয়া যাবে, তখন তাঁর এক কথা—‘না, তুমি আমার সামনে বইসা খাও। না হইলে পরে ভুইলা যাইবা আর খাইবা না।’
দাদুর নির্মল ভালোবাসা প্রকাশ পায় তাঁর প্রতিটি কাজে। তাঁর ছেলেদের সঙ্গে যুদ্ধ করে তিনি একটি আমগাছ রক্ষা করেছেন। প্রতি বছর সেই গাছ প্রচুর ফল দেয়। কোরবানির ঈদে গাছে কাঁচা-পাকা আম দেখা যায়। দাদু তাঁর নাতিকে বলেন, ‘আপনার জন্য কাউকে গাছের আম পাড়তে দেননি। বলেছেন, পাড়লে তো সব আম তাড়াতাড়ি শ্যাষ হয়ে যাইব।’
দাদুর অ্যাসিটাবুলাম ভেঙে যাওয়ার পরও তাঁর ভালোবাসা অটুট রয়েছে। তিনি এখন ঘর আর বারান্দাতেই বেশি সময় কাটান। মাঝেমধ্যে লাঠিতে ভর দিয়ে উঠানে হেঁটে বেড়ান। তাঁর রুমে গেলে তিনি আগের মতো এটা-ওটা বের করে দিতে থাকেন।
"আমি তাঁর মায়া জড়ানো মুখের দিকে তাকিয়ে কান্না লুকিয়ে মনে মনে সৃষ্টিকর্তাকে বলি, ‘তুমি এই মানুষটিকে আরও হাজার বছর আয়ু দান করো।’"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ট্রেনযাত্রা ও গ্রামের বাড়ি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দাদু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: হাজার বছর আয়ু কামনা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!