📌 নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় পাঁচ শতাধিক গ্রাম তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্প। তিব্বত সীমান্তবর্তী এই জেলায় প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের জীবন বিপন্ন। উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত বারোজনকে উদ্ধার করা হয়েছে
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় একাধিক গ্রাম সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্প। জেলাটি রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে অবস্থিত এবং তিব্বত সীমান্তবর্তী হওয়ায় দুই দেশের বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাসুয়া জেলায় ভোরে আঘাত হানে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ শতাধিক গ্রাম
- 📌 প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের বসবাসকারী এলাকায় বিপর্যয়, বিশেষ করে ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী মানুষদের দ্রুত নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
- 📌 এখন পর্যন্ত বারোজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে
- 📌 তিব্বত থেকে প্রবাহিত ভোতে কোশি নদীতে হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে হতে পারে বন্যা
- 📌 গত বছরের ভোতে কোশি বন্যায় নয়জন নিহত ও চব্বিশজন নিখোঁজ হয়েছিল
📰 বিস্তারিত
নেপালের রাসুয়া জেলায় আজ বুধবার ভোরে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। জেলার পাহাড়ি এলাকার শ্যাফ্রুবেসি ও তিমুরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের বসবাসকারী এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রাসুয়া জেলার একদিকে হিমালয়ের তিব্বত অঞ্চল এবং অন্যদিকে চীনের সঙ্গে নেপালের প্রধান বাণিজ্যপথ অবস্থিত হওয়ায় বন্যায় দুই দেশের বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
রাসুয়া জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি গ্রাম এবং বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের এলাকা বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের সংখ্যা বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি বা সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
কাঠমান্ডুভিত্তিক এক চীনা ব্যবসায়ী ইয়ে লিয়াং বিবিসিকে জানিয়েছেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের সাতটি কনটেইনার ট্রাক ওই এলাকায় ছিল। ট্রাকগুলোতে নেপালি কর্মীরা কাজ করছিলেন। কিন্তু বন্যার পর থেকে তাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, সেখানে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানেন না।
"এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ভোতে কোশি নদীতে এই আকস্মিক বন্যার কারণও এখনো পরিষ্কার নয়। তবে গত বছর একই নদীতে ভয়াবহ বন্যার ঘটনা ঘটেছিল। পরে জানা যায়, তিব্বতের একটি হিমবাহ-হ্রদের পানি বেরিয়ে যাওয়ার কারণেই সেই বন্যা হয়েছিল।"
নেপালের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবারের বন্যায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক ও সেতুও ক্ষতির শিকার হয়েছে। এসব ক্ষয়ক্ষতির কারণে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণকর্মীদের পাশাপাশি পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাসুয়া জেলা, নেপাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নরেন্দ্র পারিয়ার (রাসুয়া জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: প্রায় ৫০ হাজার মানুষ, বারোজন উদ্ধার, নয়জন নিহত (গত বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!