📌 ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গর্বের সঙ্গে জানিয়েছেন, তিনি কাতারে হামলা চালিয়েছেন এবং বোমা ফেলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, কাতারের অর্থ গাজায় মানবিক সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যদিও সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, অর্থ হামাসের সামরিক প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়েছে
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গর্বের সঙ্গে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে তিনি কাতারে হামলা চালিয়েছেন এবং বোমা ফেলেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, গাজায় কাতারের পাঠানো কোটি কোটি ডলার ইসরায়েলের অনুমোদনেই গাজার সাধারণ মানুষের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আই২৪নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, কাতার ইসরায়েলের জন্য ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশ এবং গাজা যুদ্ধের সময় কাতারের কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেতানিয়াহু স্বীকার করেছেন, ‘আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও ফেলেছি, তারা আমাকে আক্রমণ করেছে’
- 📌 ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের দোহায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন হামাসের পাঁচ সদস্য ও কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী
- 📌 নেতানিয়াহু দাবি, কাতারের অর্থ গাজায় মানবিক সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, মাত্র ২ শতাংশই কাতারের অর্থ
- 📌 জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হামলাটিকে ‘সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা করেছেন
- 📌 কাতার দাবি, তাদের অর্থ হামাসকে অর্থায়ন করে না, সব সহায়তা গাজার সাধারণ মানুষের জন্য
- 📌 ইসরায়েলে ২৭ অক্টোবর নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর বক্তব্য রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে
📰 বিস্তারিত
কাতারে হামলা চালানোর কথা প্রকাশ্যে গর্বের সঙ্গে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘আমি কাতারে হামলা করেছি, যুদ্ধের সময় তাদের ওপর বোমাও ফেলেছি, তারাও আমাকে আক্রমণ করেছে’। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি হামলার এক বছর পূর্ণ হবে। ২০২৫ সালের ওই হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য ও কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। হামলার সময় হামাস নেতাদের বৈঠক চলছিল, আলোচ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব।
কাতারের এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দেয় কাতার। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই হামলাটিকে সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর গুরুতর লঙ্ঘন বলে নিন্দা করেছেন।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু গাজায় কাতারের অর্থ পাঠানোর বিষয়ে সাফাই দেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের সুপারিশেই এসব অর্থ গাজায় পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় প্রবেশ করা মোট অর্থের মাত্র প্রায় ২ শতাংশই কাতারের অর্থ। তবে নেতানিয়াহুর সমালোচকরা অভিযোগ করেন, কাতারের অর্থ হামাসের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়েছিল।
কাতার অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের সব সহায়তা গাজার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং পুরো প্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ ও কঠোর নজরদারির মধ্যে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বলেছেন, কাতারের অর্থ হামাসকে অর্থায়নের কোনো ভিত্তি নেই। যুক্তরাষ্ট্রও এসব অর্থ স্থানান্তর সম্পর্কে অবগত ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
ইসরায়েলে ২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গাজা যুদ্ধ, অর্থনীতি ও ইরানের সঙ্গে সংঘাত; নির্বাচনে এসব বিষয়ই বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী সমর্থন জোরদার করতে নেতানিয়াহু বারবার আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছেন।
"আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও ফেলেছি, তারা আমাকে আক্রমণ করেছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কাতারের রাজধানী দোহা, গাজা, ইসরায়েল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, আন্তোনিও গুতেরেস, শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর (হামলার তারিখ), ২ শতাংশ (কাতারের অর্থের অনুপাত), ২৭ অক্টোবর (ইসরায়েলের নির্বাচন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!