📌 মিসরের একটি আদালত মাদক পাচার ও উৎপাদনের মামলায় টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারাহ খলিফাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ৩৯ বছর বয়সী সারাহকে মাদক তৈরির কাঁচামাল আমদানি ও সিনথেটিক মাদক বাজারজাতকরণে জড়িত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। মামলায় আরও ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সারাহের আইনজীবী আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন
মিসরের একটি আদালত মাদক পাচার ও উৎপাদনের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য হিসেবে টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারাহ খলিফাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। ৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা মিসরে জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘মিশন ইমপসিবল’ উপস্থাপনার জন্য পরিচিত ছিলেন। এই মামলায় সারাহকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আরও ১১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিসরের আদালত মাদক পাচার ও উৎপাদনের মামলায় টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারাহ খলিফাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে।
- 📌 মামলায় ৭৫০ কেজির বেশি মাদক ও মাদক তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে দুটি অ্যাপার্টমেন্টে মাদক তৈরির পরীক্ষাগার থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
- 📌 সারাহের আইনজীবী জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
- 📌 সারাহ নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং দাবি করেছেন, তিনি কখনো মাদক দেখেননি।
- 📌 মিসরে মাদক পাচারসহ গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মিসরের আদালত মাদক পাচার ও উৎপাদনের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য হিসেবে সারাহ খলিফাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। বিবিসি ও আল-আহরামের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি বিদেশ থেকে মাদক তৈরির কাঁচামাল আমদানি করে সিনথেটিক মাদক উৎপাদন ও বাজারজাত করত। তদন্তের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৭৫০ কেজির বেশি মাদক ও মাদক তৈরির উপকরণ জব্দ করেছে। এছাড়াও, দুটি অ্যাপার্টমেন্টে মাদক তৈরির পরীক্ষাগার থাকার অভিযোগ পাওয়া যায় এবং সেখান থেকে লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলায় আরও ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং সাতজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সারাহের আইনজীবী জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। গত মাসে রায় ঘোষণা করা হলেও মৃত্যুদণ্ডের মামলায় মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির ধর্মীয় মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষে তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সারাহ খলিফা নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে আদালতে তিনি দাবি করেছিলেন, মাদকবিরোধী কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে ছবি তোলার আগে তিনি কখনো মাদক দেখেননি। তিনি আরও জানিয়েছেন, জীবনে কখনো সিগারেটও পান করেননি। আদালতে তিনি বিচারককে বলেছিলেন, তাঁর বাবা-মা তাঁকে ভালোভাবে মানুষ করেছেন এবং তাঁরা নিয়মিত নামাজ পড়েন; মাদকের অর্থের তাঁর কোনো প্রয়োজন নেই।
প্রসিকিউশন ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দির পাশাপাশি বার্তা, ছবি ও ভিডিওসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ও কারিগরি প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে কায়রোতে সারাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মিসরে মাদক পাচারসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মিসরে ৪৯২টি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল এবং ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
"আমি কখনো মাদক দেখেননি, জীবনে কখনো সিগারেটও পান করেনি। আমার বাবা-মা আমাকে ভালোভাবে মানুষ করেছেন এবং আমরা নিয়মিত নামাজ পড়ি। মাদকের অর্থের আমার কোনো প্রয়োজন নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিসর (কায়রো)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সারাহ খলিফা, সারাহের আইনজীবী, বিচারক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৯ বছর বয়স, ১১ জন দোষী, ৭৫০ কেজি মাদক, ৯ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০ জন সাক্ষী, ৪৯২টি মৃত্যুদণ্ড (২০২৫), ২৩ জন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!