📌 ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলিতে আবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে। মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগের হামলা সত্ত্বেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে
ইরান আবারও ভূগর্ভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে। মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তারা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, যুদ্ধের শুরুতে ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পে ব্যাপক হামলা সত্ত্বেও ইরান মজুত উপাদান দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি যে তাদের হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে, তা সম্পূর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ভূগর্ভে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন**: ইরান দক্ষিণ-পূর্বের খোজির স্থাপনা সহ বিভিন্ন ভূগর্ভস্থ কারখানায় আবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে।
- 📌 **দুই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র**: লিকুইড ফুয়েল (তরল জ্বালানি) ও সলিড ফুয়েল (কঠিন জ্বালানি) ক্ষেপণাস্ত্র উভয়ই উৎপাদন করা হচ্ছে।
- 📌 **মজুত উপাদান ব্যবহার**: যুদ্ধের শুরুতে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধার করে ইরান আগে থেকেই মজুত থাকা উপাদান দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করছে।
- 📌 **নৌ অবরোধের প্রভাব**: নৌ অবরোধের কারণে কঠিন জ্বালানি ও যন্ত্রাংশ আমদানি কঠিন হয়ে পড়েছে, কিন্তু ইরান নতুন উপাদান কেনার চেষ্টা করছে।
- 📌 **ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা**: যুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ব্যবহৃত হচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার মজুত কমছে।
- 📌 **মার্কিন কর্মকর্তাদের সতর্কতা**: যুক্তরাষ্ট্রের মিসাইল ডিফেন্স অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের বিশ্লেষক তাল ইনবার বলেছেন, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পুনর্গঠন করছে এবং তা সহজেই সম্ভব।
- 📌 **পেন্টাগনের দাবি**: যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শিল্পভিত্তি ধ্বংস করেছে, কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
- 📌 **চুক্তির সম্ভাবনা**: জুনে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তির পর ইরান ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন আবার শুরু করেছে, যা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে আলোচনার অংশ হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলিতে আবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে। মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের শুরুতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পে ব্যাপক হামলা চালানো হলেও, দেশটি মজুত উপাদান দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি ছিল, তাদের হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান দক্ষিণ-পূর্বের খোজির স্থাপনা সহ বিভিন্ন ভূগর্ভস্থ কারখানায় আবার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে।
ইরান লিকুইড ফুয়েল (তরল জ্বালানি) ও সলিড ফুয়েল (কঠিন জ্বালানি) ক্ষেপণাস্ত্র উভয়ই উৎপাদন করছে। লিকুইড ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি উৎক্ষেপণের আগে ভরতে হয়, কিন্তু সলিড ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্র আগে থেকেই প্রস্তুত অবস্থায় সংরক্ষণ করা যায়। মার্কিন ও আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান মূলত আগে থেকেই মজুত থাকা উপাদান দিয়ে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করছে। যুদ্ধের শুরুতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল, কিন্তু নৌ অবরোধের কারণে কঠিন জ্বালানি ও যন্ত্রাংশ আমদানি কঠিন হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, সংরক্ষণাগার ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হাজার হাজার হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু চলতি গ্রীষ্মে যুদ্ধের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার সুযোগে ইরান আবার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেছেন, জুনে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তির পর ইরান সম্ভবত কম মাত্রায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন আবার শুরু করেছে। ওই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করার কথা ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসাইল ডিফেন্স অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক তাল ইনবার বলেছেন, ‘স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা না হলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো আবার তৈরি করা যায়। অন্য দেশ থেকেও নতুন উপাদান কেনা যায় এবং সেগুলো স্থাপনাগুলোতে মজুত করা যায়। ইরান যে তার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে না, এমনটা ভাবতে হলে অত্যন্ত সরল বিশ্বাসী হতে হবে।’
"স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা না হলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো আবার তৈরি করা যায়। অন্য দেশ থেকেও নতুন উপাদান কেনা যায় এবং সেগুলো স্থাপনাগুলোতে মজুত করা যায়। ইরান যে তার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে না, এমনটা ভাবতে হলে অত্যন্ত সরল বিশ্বাসী হতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা (দক্ষিণ-পূর্বের খোজির স্থাপনা সহ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তারা, তাল ইনবার (মিসাইল ডিফেন্স অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের বিশ্লেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০ শতাংশ (ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শিল্পভিত্তি ধ্বংস), ২৮ ফেব্রুয়ারি (যুদ্ধের শুরু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!