📌 হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে ইরান। দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সিনোকরের সাতটি জাহাজের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজমালিকরা দাবি করেছে, তাদের জাহাজের মালিকানা নেই এবং ইরানের সতর্কবার্তা পায়নি। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকে।
হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ইরান নতুন কর্তৃপক্ষ ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ গঠন করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সিনোকরের অন্তত সাতটি জাহাজের বিরুদ্ধে ১ নভেম্বর থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরান হরমুজ প্রণালিতে নতুন কর্তৃপক্ষ ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ গঠন করেছে এবং সিনোকরের সাতটি জাহাজের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
- 📌 ইরানের অভিযোগ, গত তিন মাসে সিনোকরের জাহাজগুলো সবচেয়ে বেশি নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজমালিকদের সংগঠন দাবি করেছে, জাহাজগুলো বিদেশি তেল কোম্পানির কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল এবং তাদের কোনো মালিকানা নেই।
- 📌 ইরানের কর্তৃপক্ষের সাথে সিনোকর আগে কোনো আলোচনা বা সতর্কবার্তা পায়নি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
- 📌 আগস্টে ইরান ৪৫টি তেলবাহী ট্যাংকারের তালিকা প্রকাশ করেছিল, যেখানে সিনোকরের জাহাজও ছিল।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে বলে জানা গেছে।
- 📌 উপসাগরীয় দেশগুলো জাহাজে হামলার ঝুঁকি এড়িয়ে ‘গোপন চলাচল’ পদ্ধতি ব্যবহার করছে।
📰 বিস্তারিত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরান নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে। ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ নামের এই সংস্থাটি জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সিনোকরের অন্তত সাতটি জাহাজের বিরুদ্ধে ১ নভেম্বর থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার সংস্থাটি এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত তিন মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিয়ম সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘন করেছে সিনোকরের জাহাজগুলো।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজমালিকদের সংগঠন বুধবার একটি ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, ইরানের বক্তব্যে উল্লেখ করা জাহাজগুলোর মালিক সিনোকর নয়। তারা দাবি করেছে, জাহাজগুলো বিদেশি একটি তেল কোম্পানির কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। এসব জাহাজে দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো নাবিক ছিলেন না; কেবল বিদেশি নাবিকেরা কাজ করতেন। সংগঠনটি জানিয়েছে, সিনোকরের এক কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার কথা। তারা আরও দাবি করেছে, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ইরানের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সিনোকর আগে কোনো পৃথক সতর্কবার্তা পায়নি। প্রতিষ্ঠানটি এখন বিষয়টি যাচাই করছে।
এই পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে আগস্ট মাসে ইরান প্রকাশিত ৪৫টি তেলবাহী ট্যাংকারের তালিকা। ওই তালিকায় সিনোকরের মালিকানাধীন জাহাজও ছিল। হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকে তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে। এ সময় গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। এর ফলে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি তেল পৌঁছাতে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে বলে জানা গেছে। এর ফলে ইরানের তেল রপ্তানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো জাহাজে হামলার ঝুঁকি এড়িয়ে তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ‘গোপন চলাচল’ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। নিজেদের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ সচল রাখতেই দেশগুলো এ পদ্ধতি ব্যবহার করছে।
"গত তিন মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিয়ম সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘন করেছে সিনোকরের জাহাজগুলো। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির অন্তত সাতটি জাহাজের বিরুদ্ধে ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইরানের কর্তৃপক্ষ, সিনোকর প্রতিষ্ঠান, দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজমালিকদের সংগঠন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭টি জাহাজ, ৪৫টি তেলবাহী ট্যাংকার, ২৮ ফেব্রুয়ারি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!