📌 ১ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে রাস্তার পিঠা-পুরি বিক্রেতা থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টি দোকানসহ ১৬ ধরনের খাবার ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিএফএসএ থেকে বিনা মূল্যে নিবন্ধন দেওয়া হবে, তবে বিশেষায়িত খাবারের ব্যবসায় লাইসেন্সের জন্য ফি দিতে হবে
১ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে খাবার ব্যবসায়ের নতুন নিয়ম শুরু হবে। রাস্তার পিঠা-পুরি বিক্রেতা থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টি দোকানসহ ১৬ ধরনের খাবার ব্যবসায়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) এই নিবন্ধন ও লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে খাবারের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের শৃঙ্খলায় আনতে চায় কর্তৃপক্ষ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১ নভেম্বর থেকে ১৬ ধরনের খাবার ব্যবসায়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক
- 📌 রাস্তার পিঠা-পুরি বিক্রেতা থেকে রেস্তোরাঁ মালিক পর্যন্ত সবাইকে নিবন্ধন নিতে হবে
- 📌 প্রথমবার বিনা মূল্যে নিবন্ধন, তবে বিশেষায়িত খাবারের জন্য লাইসেন্স ফি দিতে হবে
- 📌 ১০০ বর্গমিটার পর্যন্ত ব্যবসায়ের জন্য লাইসেন্স ফি ১০ হাজার টাকা, ১০ হাজার বর্গমিটার বেশি জন্য ৬০ হাজার টাকা
- 📌 নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ তিন বছর, মেয়াদ শেষে নবায়ন করতে হবে
- 📌 খাবারের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে
📰 বিস্তারিত
গত ১৬ জুলাই জারি করা ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে খাবারের ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিএফএসএর চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, নিবন্ধনের মাধ্যমে খাবার বিক্রেতাদের শৃঙ্খলায় আনা যাবে এবং প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে। তিনি বলেন, “রাস্তায় খাবার বিক্রি করলেও তা স্বাস্থ্যজনক কিনা তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে কোনো ব্যবসায়ীকে হয়রানি করা হবে না।”
ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই উদ্যোগের প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, “এই উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়বে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে লাইসেন্স নিতে অনেক শর্ত রয়েছে। নতুন নিয়ম জরিমানা করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে।” তিনি বলেন, “এই খাতের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একক নিয়ন্ত্রণকাঠামো ঠিক করা দরকার ছিল।”
নিবন্ধনের আওতায় আসা ১৬ ধরনের খাবার ব্যবসার মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী, পিঠা-পুরি-পেঁয়াজু বিক্রেতা, পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও হিমাগার, ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদনসহ খাদ্য ব্যবসা। বিশেষায়িত খাবারের জন্য যেমন শিশুদের ফর্মুলা দুধ, বয়স্কদের বিশেষ খাবার, প্রোবায়োটিক খাবার, জৈব খাদ্য, জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য ইত্যাদির জন্য লাইসেন্সের জন্য ফি দিতে হবে।
ব্যবসায়ীদের জন্য প্রথমবার নিবন্ধন বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। তবে বিশেষায়িত খাদ্য ব্যবসায়ের জন্য প্রিমিসেস লাইসেন্সের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ফি ১০ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গমিটার বেশি আয়তনের জন্য ৬০ হাজার টাকা। নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে। এছাড়াও, খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
"নিবন্ধনের মাধ্যমে খাবার বিক্রেতাদের শৃঙ্খলায় আনা যাবে এবং প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে। তবে কোনো ব্যবসায়ীকে হয়রানি করা হবে না।"
"এই উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়বে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে লাইসেন্স নিতে অনেক শর্ত রয়েছে। নতুন নিয়ম জরিমানা করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সারা দেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. শফিকুল ইসলাম (বিএফএসএ চেয়ারম্যান), ইমরান হাসান (বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ (ব্যবসায় শ্রেণি), ১ নভেম্বর (নিবন্ধন শুরু), ১৬ জুলাই (প্রবিধানমালা জারি), ১০ হাজার টাকা (১০০ বর্গমিটার পর্যন্ত ফি), ৬০ হাজার টাকা (১০ হাজার বর্গমিটার বেশি ফি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!