📌 সার্বিয়ার স্বৈরশাসক আলেকসান্দর ভুচিচের ১২ বছরের শাসনামলে পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশনের দায় স্বীকার করে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল ‘রেডিও টেলিভিশন ভয়ভোদিনা’। ছাত্র আন্দোলন ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’-এর বিজয়ের পর চ্যানেলের কর্মকর্তারা দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং প্রধান সম্পাদক পদত্যাগ করেছেন। নির্বাচনে ভুচিচের দল ৫২.৮ শতাংশ ভোট পেলেও পরাজিত হয়
সার্বিয়ার স্বৈরশাসক আলেকসান্দর ভুচিচের ১২ বছরের শাসনামলে পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশনের দায় স্বীকার করে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল ‘রেডিও টেলিভিশন ভয়ভোদিনা’। গত রোববার নির্বাচনে ভুচিচের দলের ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর চ্যানেলের কর্মকর্তারা দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং প্রধান সম্পাদক পদত্যাগ করেছেন। নির্বাচনে বিজয়ী ছাত্র আন্দোলন ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ দুর্নীতি ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দূর করার লক্ষ্যে সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সার্বিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল ‘রেডিও টেলিভিশন ভয়ভোদিনা’ দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশনের জন্য।
- 📌 চ্যানেলের প্রধান সম্পাদক নেনাদ চাচিচ পদত্যাগ করেছেন এবং নির্বাচনী বিজয় উদযাপনের দৃশ্য সম্প্রচার শুরু করেছেন।
- 📌 সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশের এই চ্যানেলের উপস্থাপক গোরান এরোর বলেছেন, ‘আমরা দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছি, প্রশ্ন করতে ব্যর্থ হয়েছি’।
- 📌 নির্বাচনে ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ ৫২.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ২৫০ আসনের মধ্যে ১৪০টি আসন পেয়েছে।
- 📌 ২০২৪ সালে নোভি সাদ শহরের রেলস্টেশনে ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়।
- 📌 বিক্ষোভকারীরা আরেকটি টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয়ে প্রবেশ করে প্রধান সম্পাদককে ঘিরে ধরেন এবং গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
📰 বিস্তারিত
সার্বিয়ার স্বৈরশাসক আলেকসান্দর ভুচিচের ১২ বছরের শাসনামলে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের পক্ষপাতদুষ্টতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল। গত রোববার নির্বাচনে ভুচিচের দলের পরাজয়ের পর ‘রেডিও টেলিভিশন ভয়ভোদিনা’ চ্যানেলের কর্মকর্তারা দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। চ্যানেলের উপস্থাপক গোরান এরোর বলেছেন, ‘বহু বছর ধরে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা নীরব থেকেছি, প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করতে ব্যর্থ হয়েছি’।
এই ঘটনাটি স্মরণ করিয়ে দেয় হাঙ্গেরির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেলের পদক্ষেপ। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর সেখানেও ক্ষমা চাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সার্বিয়ার নির্বাচনে ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ আন্দোলন ৫২.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ২৫০ আসনের মধ্যে ১৪০টি আসন পেয়েছে। এ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তারা এককভাবে সরকার গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে।
২০২৪ সালে নোভি সাদ শহরের রেলস্টেশনে ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। এই বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় ভুচিচের দল নির্বাচনে পরাজিত হয়। বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছিল যে, সরকারি গণমাধ্যম তাদের আন্দোলনের খবর যথাযথভাবে প্রচার করছে না। তারা রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের প্রধান কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দাবি করেছিল।
সোমবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীরা আরেকটি টেলিভিশন চ্যানেল ‘ইনফর্মার টিভি’-এর কার্যালয়ে প্রবেশ করে। প্রায় ৩০ জন বিক্ষোভকারী চ্যানেলটির প্রধান সম্পাদক ও মালিক দ্রাগান ভুচিচেভিচকে ঘিরে ধরেন। বিক্ষোভকারীরা ‘মুক্ত সার্বিয়ায় এভাবেই হয়’ এবং ‘ভুচিচ এখন কোথায়?’ বলে স্লোগান দেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভুচিচেভিচের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
“বহু বছর ধরে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা নীরব থেকেছি, চোখ বন্ধ করে থেকেছি, একপেশেভাবে ঘটনাবলি তুলে ধরেছি এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করতে ব্যর্থ হয়েছি। এ জন্য আমরা আমাদের দর্শকদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সার্বিয়া (বিশেষত বেলগ্রেড ও উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলেকসান্দর ভুচিচ, গোরান এরোর, নেনাদ চাচিচ, দ্রাগান ভুচিচেভিচ, ভ্লাদিমির পুতিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ বছর (ভুচিচের শাসনকাল), ৩০ জন (বিক্ষোভকারী), ১৬ জন (নিহত), ৫২.৮ শতাংশ (ভোট), ২৫০ আসন (সংসদ), ১৪০ আসন (স্টুডেন্ট লিস্টের)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!