📌 মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, শাসকগোষ্ঠীর গণতান্ত্রিক পরিবর্তন দমনের চেষ্টা সত্ত্বেও জনগণ ক্রমবর্ধমানভাবে উদারনৈতিক মূল্যবোধ গ্রহণ করছে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, লিঙ্গসমতা ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি নিয়ে জরিপে উদারনীতি সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। যদিও শাসকগোষ্ঠী গণতান্ত্রিক পরিবর্তনকে দমন করার চেষ্টা করছে, তবুও জনগণের মধ্যে উদারনৈতিক মূল্যবোধের প্রবণতা ক্রমবর্ধমান। মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি প্রধান দেশে পরিচালিত একটি ধারাবাহিক জরিপে এই পরিবর্তনটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জরিপে দেখা গেছে, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, লিঙ্গসমতা এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশে (মিসর, ইরান, ইরাক, সৌদি আরব, তুরস্ক) পরিচালিত জরিপে উদারনীতি সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- 📌 ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মিসরে উদারনীতি সূচক পুরুষদের মধ্যে ২.০৯ থেকে বেড়ে ২.২৮ এবং নারীদের মধ্যে ২.০৮ থেকে ২.৩৯ হয়েছে।
- 📌 মিসরে ইসলামি সরকারকে ‘খুব ভালো’ মনে করা মানুষের হার ২০১১ সালের ২৫% থেকে কমে ২০২০ সালে ১৬% হয়েছে।
- 📌 সৌদি আরবে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নকে ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’ মনে করা মানুষের হার ২০০৩ সালের ৭৩% থেকে কমে ২০১১ সালে ৩৫% হয়েছে।
- 📌 জরিপে ১৫টি প্রশ্নের মাধ্যমে উদারনৈতিক মূল্যবোধ পরিমাপ করা হয়েছে: আত্মপ্রকাশমূলক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, লিঙ্গসমতা এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি।
📰 বিস্তারিত
মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের মধ্যে উদারনৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ একটি অদৃশ্য বিপ্লবের মতো। ধারাবাহিক জরিপে দেখা গেছে, শাসকগোষ্ঠীর গণতান্ত্রিক পরিবর্তন দমনের চেষ্টা সত্ত্বেও জনগণের মধ্যে উদারনীতির প্রবণতা ক্রমবর্ধমান। জরিপে মিসর, ইরান, ইরাক, সৌদি আরব ও তুরস্কের জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল নমুনার ওপর মুখোমুখি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল।
জরিপে তিনটি মূল বিষয়ে উদারনৈতিক মূল্যবোধ পরিমাপ করা হয়েছিল: আত্মপ্রকাশমূলক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, লিঙ্গসমতা এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি। উদাহরণস্বরূপ, মা-বাবার পছন্দের বদলে ভালোবেসে বিয়ে করার স্বাধীনতা, সন্তানের মধ্যে আনুগত্য বা ধর্মীয় বিশ্বাসের চেয়ে স্বাধীনতা ও কল্পনাশক্তির বিকাশকে প্রাধান্য দেওয়া এবং নারীদের পছন্দের পোশাক পরার অধিকার—এসবের ভিত্তিতে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য মাপা হয়েছিল।
লিঙ্গসমতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল বহুবিবাহ, স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অন্ধ আনুগত্য এবং রাজনীতি, কর্মসংস্থান ও শিক্ষায় পুরুষদের অগ্রাধিকার সম্পর্কে। অন্যদিকে, ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির অবস্থান পরিমাপ করা হয়েছিল রাজনীতিতে ধর্মকে আলাদা রাখা, পশ্চিমা ধাঁচের শাসনব্যবস্থা গ্রহণ এবং ইসলামি সরকার ও শরিয়াহ আইনের প্রতি সমর্থনের মাধ্যমে। প্রতিটি দেশের জন্য একটি ‘উদারনীতি সূচক’ তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে উচ্চ নম্বর উদারনীতির প্রতি অধিক সমর্থন নির্দেশ করে।
"মিসরের উদারনীতি সূচকের স্কোর পুরুষদের মধ্যে ২ দশমিক শূন্য ৯ থেকে বেড়ে ২ দশমিক ২৮ এবং নারীদের মধ্যে ২ দশমিক শূন্য ৮ থেকে বেড়ে ২ দশমিক ৩৯ হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে রাজনীতি থেকে ধর্মকে আলাদা করা এবং পশ্চিমা ধাঁচের শাসনব্যবস্থা গ্রহণের সমর্থনের ক্ষেত্রে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মধ্যপ্রাচ্য (মিসর, ইরান, ইরাক, সৌদি আরব, তুরস্ক)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জরিপের উত্তরদাতারা (মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫টি প্রশ্ন, ২০০০-২০২০ সালের জরিপ, ২.২৮ (মিসরের পুরুষদের উদারনীতি সূচক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!