📌 নেত্রকোনার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে (৪৪) ১৫ অক্টোবর সীমান্তের অপরাধ খবর প্রকাশের জন্য গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ দুজন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে শীর্ষে রাখছে। আলিফের স্ত্রী খাদিজা বলেন, হত্যার পরিকল্পনা ছিল ঢাকায় চলে যাওয়ার আগেই
নেত্রকোনার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে (৪৪) সীমান্তের অবৈধ ব্যবসায় ও অপরাধ খবর প্রকাশের জন্য গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটায় ঘটনাটি ঘটে রবিন রাংসার দোকানের সামনে। পুলিশ দুজন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে শীর্ষে রাখছে, যাদের নাম তাজুল ইসলাম (৪৮) ও শামীম আহমেদ ওরফে ‘শুটার শামীম’ (৩২)। আলিফের স্ত্রী খাদিজা আক্তার জানান, হত্যার পরিকল্পনা ছিল ঢাকায় চলে যাওয়ার আগেই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৫ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটায় নেত্রকোনার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে (৪৪) গুলি করে হত্যা করা হয় রবিন রাংসার দোকানের সামনে।
- 📌 মাথা, গলা ও বুকে ছয়টি গুলির আঘাত পেয়েছিলেন আলিফ। ঘটনাস্থলে তার মুঠোফোন ও জিনিসপত্র পাওয়া যায়।
- 📌 পুলিশের সন্দেহভাজন তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তাজুল ইসলাম (৪৮) ও শামীম আহমেদ (৩২)। তাঁদের সীমান্তের অবৈধ ব্যবসায়ে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
- 📌 আলিফের স্ত্রী খাদিজা বলেন, হত্যার পরিকল্পনা ছিল ঢাকায় চলে যাওয়ার আগেই। তাঁর মা ৪০ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছিলেন এই উদ্দেশ্যে।
- 📌 আলিফ সীমান্তের চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র নিয়ে লিখতেন এবং ছবি-ভিডিও প্রকাশ করতেন। আগেও দু’বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল তার উপর।
📰 বিস্তারিত
১৫ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটায় নেত্রকোনার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে (৪৪) গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি ঘটে রবিন রাংসার দোকানের সামনে। রবিন রাংসা জানান, আলিফ দোকানে সিগারেট কিনে শ্বশুরবাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। বের হওয়ার পরপরই গুলির শব্দ শুনে তিনি দেখেন আলিফ মাটিতে পড়ে আছেন। দুজন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রবিন ভয়ে দোকানের পেছনে লুকিয়ে যান। আলিফের শ্বশুরবাড়ি থেকে দোকানের দূরত্ব ছিল ৩০০ গজ।
আলিফের স্ত্রী খাদিজা আক্তার (গারো সম্প্রদায়ের) জানান, তিনি প্রথমে পটকার শব্দ মনে করেছিলেন। কিন্তু প্রতিবেশী তাঁকে জানালে তিনি দৌড়ে গিয়ে স্বামীর মাথা কোলে তুলে নেন। নার্সিংয়ে পড়া খাদিজা বুঝতে পারেন আলিফ আর নেই। তিনি সেখানে বসে কাঁদছিলেন। খাদিজা বলেন, আগামী নভেম্বর মাসে তাঁরা ঢাকায় চলে যাওয়ার কথা ছিল। তাঁর মা ৪০ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছিলেন এই উদ্দেশ্যে। কিন্তু আলিফের মৃত্যুর আগেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে পারেনি।
আলিফ অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন। তিনি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজ চালাতেন। আলিফ সীমান্তের চোরাচালান, মাদক, অস্ত্র এবং স্থানীয় অন্যায়-অনিয়ম নিয়ে লিখতেন। ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করতেন। পুলিশ ও পরিবার বলছে, তাঁকে আগেও দুই দফা হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রাণভয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। সেখানে গিয়ে তাঁকে খুন করে সন্ত্রাসীরা।
"আলিফকে আগেও দুই দফা হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রাণভয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। সেখানে গিয়ে তাঁকে খুন করে সন্ত্রাসীরা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেত্রকোনা, রবিন রাংসার দোকান, বিরিশিরি ইউনিয়ন, তেলুনঞ্জিয়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪৪), খাদিজা আক্তার, রবিন রাংসা, তাজুল ইসলাম (৪৮), শামীম আহমেদ (৩২)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ অক্টোবর, ৪৪ বছর, ৬টি গুলি, ৩০০ গজ, ৪০ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!