📌 মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী ডিজেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। শোধনাগার বন্ধ ও উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাসের কারণে সংকট দ্রুত সমাধান হতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা জ্বালানির ব্যবহার কমাতে জোর দিচ্ছেন
বিশ্বব্যাপী ডিজেলের সংকট আরও গভীর হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন শোধনাগার নির্মাণে বছরগুলো লাগতে পারে। তাই দ্রুত সমাধান হিসেবে জ্বালানির চাহিদা কমানো জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী ডিজেল সরবরাহ ব্যাহত — শোধনাগার বন্ধ ও উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাসের কারণে সংকট দ্রুত সমাধান হতে পারে না
- 📌 ইউরোপে ২০০৯ সালের পর থেকে ৩০ থেকে ৩২টি শোধনাগার বন্ধ হয়েছে; অস্ট্রেলিয়ায় ৬টি বন্ধ, প্রধান কারণ উচ্চ ব্যয় ও প্রতিযোগিতার কারণে
- 📌 সৌদি আরবের জাজান শোধনাগার বন্ধ, বাহরাইনের বাপকো শোধনাগার ৭৫ শতাংশ সক্ষমতায় কাজ করছে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ১৮ সেন্টে; সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৪ দশমিক ৮০ দিরহামে
- 📌 রাশিয়ার শোধনাগার ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত — দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল রপ্তানি থেকে শূন্যের কাছাকাছি নেমেছে
- 📌 ভারত দৈনিক ৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করছে, কিন্তু আরও বাড়ানো কঠিন
- 📌 বিশেষজ্ঞরা জ্বালানির ব্যবহার কমাতে বৈদ্যুতিক পরিবহন ও সৌরশক্তি ব্যবহার প্রস্তাব করছেন
📰 বিস্তারিত
বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সংকটের মূল কারণ হিসেবে যুদ্ধ ও শোধনাগার বন্ধের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও ডিজেল উৎপাদন ও সরবরাহের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শোধনাগার বন্ধের সংখ্যা বেড়েছে। ইউরোপে ২০০৯ সালের পর থেকে প্রায় ১০০টি চালু শোধনাগারের মধ্যে ৩০ থেকে ৩২টি বন্ধ হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ায় চলতি শতকে আটটির মধ্যে ছয়টি শোধনাগার বন্ধ হয়েছে। উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস এবং আধুনিক শোধনাগারগুলোর সাথে প্রতিযোগিতার কারণে এই শোধনাগারগুলো বন্ধ হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আরও সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরব, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতের বেশ কয়েকটি আধুনিক শোধনাগারে হামলা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। সৌদি আরবের জাজান শোধনাগার বন্ধ রয়েছে। বাহরাইনের বাপকো শোধনাগার চালু হলেও উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৭৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ১৮ সেন্টে, যা বছরের শুরুতে ছিল ৩ ডলার ৪৮ সেন্ট। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম জানুয়ারির ২ দশমিক ৫৫ দিরহাম থেকে বেড়ে চলতি মাসে ৪ দশমিক ৮০ দিরহামে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার শোধনাগারগুলো ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগে রাশিয়া দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি করত, এখন তা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
"বিশ্বকে এখন শুধু নতুন জ্বালানির উৎস খোঁজার পরিবর্তে যেখানে সম্ভব ডিজেলের ব্যবহার কমানোর কৌশল নিতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, চীন, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিশেষজ্ঞরা (জ্বালানি শিল্পের)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০টি শোধনাগার (ইউরোপে বন্ধের সম্ভাব্য), ৩০-৩২টি বন্ধ শোধনাগার, ৭৫ শতাংশ (বাহরাইনের উৎপাদন সক্ষমতা), ৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল (ভারতের দৈনিক রপ্তানি), ৬ ডলার ১৮ সেন্ট (যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!