📌 ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুটি সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাবি প্রতিবেশীর কাছে রাখা পাওয়ায় স্থানীয়দের হতাশা বাড়ছে। শিক্ষকদের রাজনৈতিক জড়িতপড়ার অভিযোগ উঠেছে
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির ঘটনা স্থানীয়দের হতাশা সৃষ্টি করেছে। সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ দেখতে পান কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী নেই। বিদ্যালয়ের চাবি পাশের বাড়ির এক ব্যক্তির কাছে রাখা ছিল। অন্যদিকে, চরলিউলিন বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়মিত অনুপস্থিতির অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৮২ নম্বর সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী কেউই উপস্থিত ছিলেন না, বিদ্যালয়ের চাবি প্রতিবেশীর কাছে রাখা ছিল।
- 📌 মুজিবনগর ইউনিয়নের অভিভাবকরা সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে মাদরাসায় ভর্তি করেছেন।
- 📌 চরলিউলিন বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ দুই শিক্ষক প্রায়ই অনুপস্থিত থাকায় স্থানীয়দের ক্ষোভ বাড়ছে। তারা অভিযোগ করেছেন, শিক্ষকরা রাজনীতিতে জড়িত থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কৈফিয়ত তলব করেছেন।
- 📌 গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষাকর্মী (নিয়মিত উপস্থিতি) চাকরি বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধান অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
📰 বিস্তারিত
চরফ্যাশন উপজেলার মুজিবনগর ইউনিয়নের ১৮২ নম্বর সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ দেখতে পান কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী নেই। বিদ্যালয়ের চাবি পাশের বাড়ির এক ব্যক্তির কাছে রাখা ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। এ কারণে সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে পার্শ্ববর্তী মাদরাসায় ভর্তি করেছেন অভিভাবকরা।
অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের চরলিউলিন বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকসহ আরও দুই শিক্ষক প্রায়ই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। তারা রাজনীতিতে জড়িত থাকায় বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন ইউএনও রুমানা আফরোজ। তিনি বলেছেন, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি এবং বিদ্যালয়ের চাবি অন্যের কাছে রেখে দেওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়।
সোমবার জারি করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই দিন দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষকদের উপস্থিত পাননি। এ বিষয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মাধ্যমিক বিদ্যালয়টির শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
"সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেছেন, সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে। জবাব পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুজিবনগর ইউনিয়ন, চরফ্যাশন উপজেলা, ভোলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুমানা আফরোজ (ইউএনও), মিজানুর রহমান (প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা), অভিভাবকরা, শিক্ষকরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২টা ৪৫ মিনিট, ১৮২ নম্বর, ৪০ মিনিটে, ৪৫ মিনিটে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!