📌 টিআইবি আইজিপির ক্রসফায়ার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেছে, সরকারের অনুমতি ছাড়া বিচারবহির্ভূত হত্যা বৈধ নয়। সংস্থাটি আইজিপিকে দায়িত্ব থেকে অপসারণেরও আহ্বান জানিয়েছে
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) সরকারের অনুমতি পেলে ক্রসফায়ার করার কথা বলার মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যার বৈধতা দিচ্ছেন। সংস্থাটি আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি তার দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি টিআইবির; দায়িত্ব থেকে অপসারণেরও আহ্বান
- 📌 আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ক্রসফায়ারকে বৈধ হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা 'বিপজ্জনক বার্তা'
- 📌 আইজিপির বক্তব্য 'সংবিধান ও আইনের বরখেলাপ' — সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের জীবন ও স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত
- 📌 সিনহা হত্যা মামলা, টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলা — অতীতের বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনাগুলোকে স্মরণ করিয়ে দেয় টিআইবি
- 📌 আইনমন্ত্রীর আগের বক্তব্য (১৪ সেপ্টেম্বর) ও আইজিপির বক্তব্যের মধ্যে অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
- 📌 সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ মুক্ত গণমাধ্যমের নজরদারি প্রশ্নবিদ্ধ করে
📰 বিস্তারিত
সোমবার (২৬ অক্টোবর) টিআইবি একটি বিবৃতিতে জানায়, আইজিপির বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা মোকাবিলার পরিবর্তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে গ্রহণযোগ্য হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. শামিল ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পুলিশপ্রধান নিজেদের ব্যর্থতার ঢাল হিসেবে ক্রসফায়ারকে ব্যবহার করতে চাইছেন। তিনি বলেন, "পুলিশের দায়িত্ব পেশাদার তদন্ত, অপরাধী শনাক্ত এবং বিচারের মুখোমুখি করা। ক্রসফায়ারকে বিকল্প হিসেবে সামনে আনা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সমাধান নয়, বরং পেশাগত দেউলিয়াত্বের দৃষ্টান্ত।"
টিআইবি প্রধান বলেন, আইজিপি একই বক্তব্যে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন, কিন্তু সরকারের অনুমতি পেলে ক্রসফায়ারের কথা বলছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো সরকারের অনুমোদনই বিচারবহির্ভূত হত্যাকে আইনি বৈধতা দিতে পারে না। সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যা নির্বাহী সিদ্ধান্তে বাতিল করা যায় না।
ড. ইফতেখারুজ্জামান অতীতের বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "সিনহা হত্যা মামলায় পুলিশ সদস্যদের দণ্ড, টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলা, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় সাবেক র্যাব কর্মকর্তাদের দণ্ড — এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতার অপরাধমূলক ব্যবহারের উদাহরণ। অতীতের এসব অভিজ্ঞতার পরও পুলিশপ্রধান ক্রসফায়ারের সম্ভাবনা সামনে আনছেন।"
টিআইবি আইনমন্ত্রীর আগের বক্তব্য (১৪ সেপ্টেম্বর) ও আইজিপির বক্তব্যের মধ্যে অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধরেন। আইনমন্ত্রী সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে যাবেন না বলে জানিয়েছিলেন, কিন্তু আইজিপি সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ক্রসফায়ারের কথা বলছেন। সংস্থাটি জিজ্ঞাসা করে, "পুলিশপ্রধানের এমন বক্তব্য মাঠপর্যায়ে বেআইনি বলপ্রয়োগের ছাড়পত্র হিসেবে প্রতীয়মান হতে পারে। তার দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।"
"পুলিশের বলপ্রয়োগ অবশ্যই আইনসম্মত, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, আগ্নেয়াস্ত্রের ইচ্ছাকৃত প্রাণঘাতী ব্যবহার কেবল জীবন রক্ষায় কঠোরভাবে অনিবার্য পরিস্থিতিতেই গ্রহণযোগ্য। এই সীমিত সুযোগকে বিচারবহির্ভূত হত্যার অনুমোদন হিসেবে উপস্থাপনের অবকাশ নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (টিআইবি বিবৃতি), টেকনাফ, নারায়ণগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. শামিল ইফতেখারুজ্জামান (টিআইবি নির্বাহী পরিচালক), আইজিপি (পুলিশের মহাপরিদর্শক), আইনমন্ত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ অক্টোবর, ১৪ সেপ্টেম্বর, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!