📌 খুলনার তিন রাজনৈতিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে। সাবেক এমপি মো. রশীদুজ্জামান, সাবেক কাউন্সিলর মেমরী সুফিয়া রহমান শুনু ও তার স্বামী শেখ মো. ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে
খুলনা: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনার তিন রাজনৈতিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে। আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মো. রশীদুজ্জামান, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) সাবেক সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মেমরী সুফিয়া রহমান শুনু এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. ফারুক আহমেদ। মামলাগুলোতে আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসংগতি ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনা-৬ আসনের সাবেক এমপি মো. রশীদুজ্জামানকে ৭৫ লাখ ৯০ হাজার ২০৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁর গ্রহণযোগ্য আয় ছিল মাত্র ৪৩ লাখ ৫ হাজার ২৩৬ টাকা, কিন্তু সম্পদ ছিল ১ কোটি ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪৩ টাকা।
- 📌 সাবেক কাউন্সিলর মেমরী সুফিয়া রহমান শুনুর বিরুদ্ধে ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ৬০৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তাঁর স্বামী শেখ মো. ফারুক আহমেদকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি স্ত্রীর নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে সহযোগিতা করেছেন।
- 📌 শেখ মো. ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় ১ কোটি ১৭ লাখ ২৯ হাজার ১৩২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৭০ লাখ ৭৫ হাজার ৫০৫ টাকা, কিন্তু সম্পদ ছিল ১ কোটি ৪২ লাখ ৩৭ হাজার ১৪৯ টাকা।
- 📌 দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাহিদ ফজল বাদী হয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) এই তিনটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাগুলো দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা অনুযায়ী দায়ের করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক এমপি মো. রশীদুজ্জামান সংসদ সদস্য থাকাকালীন অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর নামে ১ কোটি ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। বিপরীতে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয় ছিল মাত্র ৪৩ লাখ ৫ হাজার ২৩৬ টাকা। পারিবারিক ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৩১ লাখ ৪৩ হাজার ২৩৬ টাকা। দুদকের হিসাব অনুযায়ী, রশীদুজ্জামানের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের পরিমাণ ৭৫ লাখ ৯০ হাজার ২০৭ টাকা।
সাবেক কাউন্সিলর মেমরী সুফিয়া রহমান শুনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৭২ লাখ ৯৫ হাজার ৬৬২ টাকার সম্পদ রয়েছে। একই সময়ে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৪৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩ টাকা। পারিবারিক ব্যয় ছিল ৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। দুদকের অভিযোগ, এসব হিসাবের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে তিনি আইন লঙ্ঘন করেছেন।
শেখ মো. ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় অভিযোগ, তিনি আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। তাঁর নামে মোট ১ কোটি ৪২ লাখ ৩৭ হাজার ১৪৯ টাকার সম্পদ রয়েছে, কিন্তু গ্রহণযোগ্য আয় ছিল মাত্র ৭০ লাখ ৭৫ হাজার ৫০৫ টাকা।
"আসামিরা হলেন খুলনা-৬ আসনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মো. রশীদুজ্জামান, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মেমরী সুফিয়া রহমান শুনু এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. ফারুক আহমেদ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. রশীদুজ্জামান, মেমরী সুফিয়া রহমান শুনু, শেখ মো. ফারুক আহমেদ, মো. জাহিদ ফজল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৫ লাখ ৯০ হাজার ২০৭ টাকা, ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ৬০৯ টাকা, ১ কোটি ১৭ লাখ ২৯ হাজার ১৩২ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!