📌 সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ২৬ অক্টোবর তেহরানে বৈঠক করবেন। আলোচনার মূল বিষয় আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা নিশ্চিত করা। ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী নীতি আলোচনার প্রধান বিষয় হিসেবে উঠেছে
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইরানের রাজধানী তেহরানে যৌথ বৈঠক করবেন। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো পশ্চিম এশিয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা ও আস্থা পুনর্গঠনের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইরানের প্রতিরক্ষা অভিজ্ঞতা ও আঞ্চলিক হুমকির বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ কাঠামো গড়ে তোলার আলোচনা বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৬ অক্টোবর তেহরানে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন বৈঠকে অংশ নেবেন।
- 📌 বৈঠকে আলোচিত হবে ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী নীতি, ফিলিস্তিন ও লেবাননের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসনের আঞ্চলিক প্রভাব।
- 📌 ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপসচিব আলি বাকেরি কানি জানান, বৈঠকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে।
- 📌 সৌদি আরবের জনকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি বলেন, বৈঠকের মাধ্যমে চলমান সংকটে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
- 📌 বৈঠকটি ৪০ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত। ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সফল মডেল হিসেবে আলোচিত হবে।
📰 বিস্তারিত
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা ও ইসনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে অংশ নেবেন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন। বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপসচিব আলি বাকেরি কানি এবং পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ির সাথে যৌথ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই জানিয়েছেন, আলোচনায় অঞ্চলটির জন্য সবচেয়ে জরুরি হুমকিগুলো — বিশেষত ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী নীতি, ফিলিস্তিন ও লেবাননের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসনের প্রভাব — গুরুত্ব পাবে। সৌদি আরবের জনকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি এক্সে জানান, বৈঠকটি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ির সাথে আলোচনার অংশ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪০ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে এই উদ্যোগের জন্ম। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আকস্মিক হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে পাল্টা হামলা চালিয়ে অঞ্চলে তাদের প্রভাব কমাতে চেষ্টা করেছিল। তবে জুনে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক ভেঙে পড়ার পর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে আছে। এদিকে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।
"চলমান সংকটে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানো, সংলাপ এগিয়ে নেয়া এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে এ সফর করা হচ্ছে। এ উদ্যোগে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকেও সমর্থন দেয়া হবে।"
বৈঠকটি মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের যৌথ যোগাযোগ। আগস্টে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, জোটের কোনো সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফর করেন এবং ইরানের নেতারা জানান, দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রকেই প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তেহরান (ইরান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন, ইরানের উপসচিব আলি বাকেরি কানি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ অক্টোবর (বৈঠকের তারিখ), ২৮ ফেব্রুয়ারি (৪০ দিনের যুদ্ধ শুরু), ৪০ দিন (যুদ্ধের দৈর্ঘ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!