📌 ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে হিবরনের ৩,১৭১ জন প্যালেস্টাইনিকে বিতাড়িত করা হয়েছে। এই অভিযানকে ‘জেনিন মডেল’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, যেখানে বাড়ি ধ্বংস, রাস্তা ভাঙ্গা এবং বেসামরিক জনগণের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘সাংঘাতিক বিতাড়ন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন
হিবরন শহরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৩,১৭১ জন প্যালেস্টাইনিকে বাড়ি-ঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এই বিতাড়নকে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা ‘সাংঘাতিক’ বলে বর্ণনা করেছেন, যেখানে বাড়ি ধ্বংস, রাস্তা বন্ধ এবং বেসামরিক জনগণের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয় শুক্রবার, যখন দুই সেনা নিহত হয়। এই অভিযানের লক্ষ্য হিবরনকে ‘আরব কম, জমি বেশি’ নীতির অধীনে আনতে, যা ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩,১৭১ জন প্যালেস্টাইনি বিতাড়িত**: হিবরনের ৪৮৮টি পরিবারকে বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩,০৪৩ জন শুধুমাত্র হিবরন শহর থেকে বিতাড়িত।
- 📌 **৭১ জন গ্রেফতার**: প্যালেস্টাইনীয় কারাগার সংস্থা জানায়, চার দিনে ৭১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
- 📌 **বাড়ি ধ্বংস ও সামরিক ঘাঁটি**: ইসরায়েলি সেনারা বিতাড়িত পরিবারদের বাড়ি সামরিক ঘাঁটি ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
- 📌 **"জেনিন মডেল" প্রযোজ্য**: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ জানিয়েছেন, হিবরনের অভিযান "জেনিন ক্যাম্প মডেল"-এর অনুসরণ করছে, যেখানে বাড়ি ধ্বংস, রাস্তা ভাঙ্গা এবং বেসামরিক জনগণের উপর নির্যাতন চালানো হয়।
- 📌 **মানবাধিকার সংস্থার সতর্কতা**: ইউনাইটেড নেশনসের মানবাধিকার অফিস (OHCHR) জানিয়েছে, জেনিন, নুর শামস ও তুলকারম ক্যাম্পে ইসরায়েলের অভিযান "সামूहিক শাস্তি" এবং "গোত্রীয় শুদ্ধিকরণ"-এর লক্ষণ বহন করছে।
- 📌 **গ্যালা ২০২৫-এর পরিণতি**: ২০২৫ সালের ইরন ওয়াল অভিযানে ১০২ জন নিহত, ৩৩,০০০ জন বিতাড়িত এবং ৫০% বাড়ি ধ্বংস হয়েছিল।
- 📌 **রাজনৈতিক লক্ষ্য**: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেটানিয়াহু বলেছেন, এই অভিযান "১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে দেখা যায়নি"।
📰 বিস্তারিত
হিবরন শহরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয় শুক্রবার, যখন দুই সেনা নিহত হয়। এই অভিযানে শহরটিতে লকডাউন জারি করা হয়েছে এবং বেসামরিক জনগণের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। প্যালেস্টাইনীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বিতাড়িতদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি। ইসরায়েলি সেনারা বিতাড়িত পরিবারদের বাড়ি সামরিক ঘাঁটি ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
হিবরনের গভর্নর খালেদ দুদিন বলেছেন, ৪৮৮টি পরিবারকে বিতাড়িত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩,১৭১ জনের বাড়ি ছেড়ে যেতে হয়েছে। হিবরনের মেয়র ইউসুফ আল-জাবারি জানিয়েছেন, শুধুমাত্র হিবরন শহর থেকে ৩,০৪৩ জন বিতাড়িত হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ জানিয়েছেন, এই অভিযান "জেনিন ক্যাম্প মডেল"-এর অনুসরণ করছে, যেখানে বাড়ি ধ্বংস, রাস্তা ভাঙ্গা এবং বেসামরিক জনগণের উপর নির্যাতন চালানো হয়।
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ নোমান আমর বলেছেন, এই অভিযান "সাম্প্রতিক কোনো বিতাড়ন বা নির্বাসনের ধারণা ছাড়িয়ে গেছে"। তিনি বলেন, বাড়ি বিতাড়নের তিনটি ধরন রয়েছে: ধ্বংসের জন্য, প্রতিশোধের জন্য এবং সামরিক ব্যবহারের জন্য। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলি সেনারা বিতাড়িতদের বাড়িতে "আপনি আপনার বাড়িতে ফিরবেন বিচার দিবসে" বলে মন্তব্য করেছেন। আমর বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য হল "নতুন বাস্তবতা" প্রতিষ্ঠা করা, যা এক কথায় বলা যায়: "আরব কম, জমি বেশি"।
"এই আক্রমণ, সাম্প্রতিক, সামूहিক, নির্যাতনমূলক, আত্মঘাতী, নৃশংস আচরণের লক্ষ্য হল প্যালেস্টাইনীয় সমাজে পanic, fear এবং instability সৃষ্টি করা।"
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেটানিয়াহু এই অভিযানকে "১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে দেখা যায়নি" বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই অভিযান "আরব কম, জমি বেশি" নীতির অধীনে হিবরনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করবে। এই অভিযান শুরু হয় গত শুক্রবার, যখন দুই সেনা নিহত হয়। ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ও সেনারা প্যালেস্টাইনীয়দের উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, বিশেষত অলিভ হারভেস্টারদের উপর।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হিবরন শহর, পশ্চিম তীর (occupied West Bank)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেটানিয়াহু, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ, গভর্নর খালেদ দুদিন, মেয়র ইউসুফ আল-জাবারি, নোমান আমর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩,১৭১ জন বিতাড়িত, ৪৮৮টি পরিবার, ৭১ জন গ্রেফতার, ৩,০৪৩ জন হিবরন শহর থেকে বিতাড়িত, ১০২ জন নিহত (২০২৫), ৩৩,০০০ জন বিতাড়িত (২০২৫)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!