📌 ইউরোপীয় অপরাধী চক্রগুলো মানুষ ও মাদক পাচারের একই রুট ব্যবহার করছে। ইউরোপোলের তথ্য অনুযায়ী, স্পেনে অভিবাসীর সংখ্যা ৬৬% বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ১৫০ জনেরও বেশি অভিবাসী মারা গেছেন। আলজেরীয় একটি অপরাধী চক্র ২ কোটি ৪০ লাখ ইউরো আয় করেছে পাচার ব্যবসায়ে
ইউরোপের অপরাধী চক্রগুলো ক্রমেই মানুষ ও মাদক পাচারের একই রুট ব্যবহার করছে, যা অভিবাসী পাচারের রুটকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা সংস্থা ইউরোপোলের অভিবাসী পাচারবিরোধী টাস্কফোর্সের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিনা আরুকসান্দেই এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই অপরাধী সংগঠনগুলো বহুমুখী অপরাধের নেটওয়ার্ক গঠন করেছে, যেখানে একই অবকাঠামো ব্যবহার করে তারা ইউরোপে অভিবাসী পাচার করছে এবং বিপরীত দিকে আফ্রিকার দেশগুলোতে মাদক পাঠাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইউরোপে অভিবাসী পাচার ও মাদক পাচার একই রুটে পরিচালিত হচ্ছে, যা অপরাধী চক্রগুলোর ব্যবসায়িক মডেলকে আরও পেশাদার করে তুলেছে
- 📌 ফ্রান্স ও স্পেনের যৌথ তদন্তে আলজেরীয় একটি অপরাধী চক্র ভেঙে দেওয়া হয়, যারা ২ কোটি ৪০ লাখ ইউরো আয় করেছিল পাচার ব্যবসায়ে
- 📌 অভিযানে ৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের অধিকাংশই আলজেরীয় এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অপরাধী গোষ্ঠীর সাথে সংযুক্ত ছিল
- 📌 ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে স্পেনে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে ৫ হাজার ৬৪৭ জন অভিবাসী পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৬% বেশি
- 📌 এই রুটে প্রায় ১৫০ জন অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছে, যেখানে দ্রুতগতির স্পিডবোটে একজন অভিবাসীর পাসেজ ফি ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার ইউরো পর্যন্ত
- 📌 স্পেন থেকে আলজেরিয়ায় ফেরার সময় ইউরোপ থেকে মাদক বহন করা হয়, যেখানে জব্দ করা হয় ১৫ হাজার এমডিএমএ বড়ি, ৬১ কেজি হাশিশ ও ৫০০ গ্রাম কোকেন
📰 বিস্তারিত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা সংস্থা ইউরোপোলের ‘ইউরোপিয়ান সেন্টার অ্যাগেইনস্ট মাইগ্র্যান্ট স্মাগলিং’-এর টিম লিডার আলিনা আরুকসান্দেই বলেছেন, এই অপরাধী চক্রগুলো মূলত বহুমুখী অপরাধের সংগঠন। একই অবকাঠামো ব্যবহার করে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে অবৈধ অভিবাসী পাচার করছে এবং একই রুটের বিপরীত দিকে আফ্রিকার দেশগুলোতে মাদক পাঠাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্স ও স্পেনের সঙ্গে দুই বছরের যৌথ তদন্তে আলজেরীয় একটি অপরাধী চক্রকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই চক্রটি আলজেরিয়া থেকে স্পেনে অভিবাসী পাচার করে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ইউরো আয় করেছে। অভিযানে মোট ৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের অধিকাংশই আলজেরীয় এবং ফ্রান্স, বেলজিয়াম, পর্তুগাল, ইতালি ও পোল্যান্ডের অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সাথে তাদের যোগাযোগ ছিল।
২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে স্পেনের মূল ভূখণ্ড ও বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে ৫ হাজার ৬৪৭ জন অভিবাসী পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৬ শতাংশ বেশি। এদের প্রায় অর্ধেকই আলজেরীয়। অর্থনৈতিক সংকটকে অভিবাসনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অধিকাংশ অভিবাসী। এই রুট পাচারকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে মূলত এর বিপুল লাভের কারণে। দ্রুতগতির স্পিডবোটে কয়েক ঘণ্টায় স্পেনে পৌঁছে দিতে একজন অভিবাসীর কাছ থেকে ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার ইউরো পর্যন্ত নেওয়া হয়। আলিনা আরুকসান্দেই এই সেবাকে ‘বিলাসবহুল সেবা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ‘নার্কোলাঞ্চা’ নামে পরিচিত এসব দ্রুতগতির নৌযান ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে চলতে পারে।
স্পেন থেকে আলজেরিয়ায় ফেরার সময় এসব নৌযানে ইউরোপ থেকে মাদক বহন করা হয়। জব্দকৃত মাদকগুলির মধ্যে রয়েছে ইউরোপে তৈরি এমডিএমএ এবং ইউরোপীয় বন্দর হয়ে আসা দক্ষিণ আমেরিকার কোকেন। সাম্প্রতিক অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার এমডিএমএ বড়ি, ৬১ কেজি হাশিশ ও ৫০০ গ্রাম কোকেন জব্দ করা হয়। ইউরোপোলের কর্মকর্তার মতে, এসব অপরাধী নেটওয়ার্ক এখন আরও পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দেশে থাকা অপরাধী সেলগুলো একে অপরের সম্পদ ও সক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যবসায়িক মডেলে কাজ করছে, যাতে প্রতিটি পাচারযাত্রা থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করা যায়।
"এই অপরাধী চক্রগুলো মূলত বহুমুখী অপরাধের সংগঠন। একই অবকাঠামো ব্যবহার করে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে অভিবাসী পাচার করছে এবং একই রুটের বিপরীত দিকে আফ্রিকার দেশগুলোতে মাদক পাঠাচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইউরোপ (ফ্রান্স, স্পেন, আলজেরিয়া, বেলজিয়াম, পর্তুগাল, ইতালি, পোল্যান্ড)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলিনা আরুকসান্দেই (ইউরোপোলের টিম লিডার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ কোটি ৪০ লাখ ইউরো (পাচার আয়), ৭৮ জন (গ্রেপ্তার), ৫ হাজার ৬৪৭ জন (অভিবাসী), ১৫০ জন (মারা যাওয়া বা নিখোঁজ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!