📌 মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চীন ও ইরান বিলিয়ন ডলারের লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে পণ্য বিনিময় পদ্ধতিতে। ইরান চীনা ক্রেডিটের মাধ্যমে তেল বিক্রি করে ওষুধ, সামরিক সরঞ্জামসহ পণ্য কিনছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে জানা গেছে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চীন ও ইরান বিলিয়ন ডলারের লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে একটি গোপন পণ্য বিনিময় পদ্ধতির মাধ্যমে। এই ব্যবস্থায় ইরান চীনা ক্রেডিটের মাধ্যমে তেল বিক্রি করে ওষুধ, যানবাহন, যোগাযোগ সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য কিনছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এ ব্যবস্থার উপর প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে জানিয়েছে দু’দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সূত্রসমূহ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চীন ও ইরান বিলিয়ন ডলারের লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে পণ্য বিনিময় পদ্ধতিতে
- 📌 ইরান চীনা ক্রেডিটের মাধ্যমে তেল বিক্রি করে ওষুধ, সামরিক সরঞ্জামসহ পণ্য কিনছে
- 📌 মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারেনি, চীন ও ইরান আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়িয়ে চলেছে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের পরও ইরানি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে চীনে যেতে পারেনি
- 📌 চীন ও ইরান একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ মনে করে এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে এর বিরোধিতা করছে
📰 বিস্তারিত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল বিক্রি এবং সামরিক সরঞ্জামসহ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনার জন্য ইরান একটি পণ্য বিনিময়ভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। এই ব্যবস্থায় ইরানি তেলের বিনিময়ে চীনা পণ্য কেনার জন্য ক্রেডিট দেওয়া হয়। এই গোপন বাণিজ্য ব্যবস্থা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের জন্য অর্থনৈতিক টিকে থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়ানোর পর এই ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
ইরানের তেল কেনা বা পরিবহনে সহায়তা করা কয়েকটি ছোট চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ থেকে বিরত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞা ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে আরো বাড়ানো হয়েছে। আগস্টে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, তা না হলে তাদের ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে।
১৪ জুলাই অবরোধ পুনর্বহালের পর থেকে কোনো ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে চীনে যেতে পারেনি। চীন ও ইরান বারবার বলেছে, তারা পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপ করা একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ মনে করে। দুই দেশ নিজেদের স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকারও করেছে।
সূত্রসমূহ জানিয়েছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান চীন থেকে ওষুধ, যানবাহন এবং যোগাযোগের সরঞ্জাম কিনেছে। এসব পণ্যের নির্মাতারা সরাসরি ইরানের সঙ্গে লেনদেন করেনি। তাদের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করার কোনো প্রমাণও নেই। গত এক বছরে অন্তত একবার ইরানকে কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের চুক্তিতেও এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সূত্রগুলো চীনা নির্মাতাদের সঙ্গে কথিত এসব লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
"আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি নেই এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন নেই, এমন একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা চীন সবসময় করে এসেছে।"
নিউইয়র্ক ও জেনেভায় ইরানের জাতিসংঘ মিশন রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে কোনো জবাব দেয়নি। হোয়াইট হাউসের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে, যাতে ‘ইরানকে তার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বস্তুগত উপকরণ থেকে বঞ্চিত করা যায়।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চীন, ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হরমুজ প্রণালি, নিউইয়র্ক, জেনেভা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, মার্কিন কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ জুলাই (নৌ অবরোধ পুনর্বহাল), বিলিয়ন ডলার (লেনদেনের পরিমাণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!