📌 ব্রিকস জোটের সদস্য সংখ্যা বেড়ে দশে পৌঁছালেও আফ্রিকান সদস্যদের বিরোধ, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং সামরিক মহড়ার মতো বিষয়গুলো জোটের স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ভারতের আয়োজিত ১৮তম বার্ষিক সম্মেলনে যৌথ ঘোষণার অভাবে বিশ্বনেতারা দুশ্চিন্তায় ভুগছেন
ব্রিকস জোটের সম্প্রসারণের পরেও জোটের অভ্যন্তরীণ সংকটগুলো ক্রমাগত প্রকাশ পাচ্ছে। এই তুলনামূলক কম আলোচিত জোটটি ২০২৩ সালে জোহানেসবার্গে যখন সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে দশে নিয়ে আসে, তখন বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কিন্তু সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি জোটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও দ্বিমতের কারণে ব্রিকসের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬ বছর পর ব্রিকসের সদস্য সংখ্যা বেড়ে দশে পৌঁছেছে — নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
- 📌 ২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলনে যৌথ ঘোষণা দিতে ব্যর্থতা — ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা যায়নি।
- 📌 দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে আফ্রিকান সদস্যদের বিরোধ — মিসর ও ইথিওপিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ প্রস্তাবে দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি ব্রাজিল ও ভারতের নাম বাদ দিয়েছে।
- 📌 ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে বিভক্তি — সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা ছড়িয়ে পড়েছে।
- 📌 দক্ষিণ আফ্রিকার সামরিক মহড়ায় ইরানের অংশগ্রহণের বিরোধিতা — ওয়াশিংটন তীব্র সমালোচনা করে, কিন্তু ইরানি জাহাজগুলো সরেনি।
📰 বিস্তারিত
ব্রিকস জোটের প্রতিষ্ঠা ১৬ বছর আগে হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে জোটটি ধীরে ধীরে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শুরু করে। ২০২৩ সালে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে দশে নিয়ে আসার পর থেকে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সংকটগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হওয়া মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা — এই ১০টি দেশের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
১২ সেপ্টেম্বর ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকসের ১৮তম বার্ষিক সম্মেলনে সদস্যদের মধ্যে যৌথ ঘোষণা দিতে ব্যর্থতা দেখা দেয়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা যায়নি। বিশেষ করে আফ্রিকান সদস্যদের বিরোধের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার নাম বাদ পড়ে যায়। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু হলে ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা ছড়িয়ে পড়ে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকা চীন, ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে একটি যৌথ নৌ মহড়া পরিচালনা করে। এই মহড়ায় ইরানের অংশগ্রহণ ওয়াশিংটনের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার ইরানিদের মহড়া থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়, কিন্তু ইরানি জাহাজগুলো সরেনি। পরিশেষে দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের নিজস্ব নৌবাহিনীর বিরুদ্ধেই প্রেসিডেন্টের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করতে হয়।
"ব্রিকসের সম্প্রসারণকে গ্লোবাল সাউথের বিজয় বলে মনে করা হলেও, বাস্তবে এটি একটি বিশৃঙ্খল পরিবারের মতো শোনাচ্ছে। সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বদহজমের সমস্যা তৈরি হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি (ভারত), জোহানেসবার্গ (দক্ষিণ আফ্রিকা), রিও ডি জেনিরো (ব্রাজিল), ওয়াশিংটন (যুক্তরাষ্ট্র)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভারতের প্রধানমন্ত্রী, দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি, ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইরানের রাষ্ট্রপতি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ বছর (ব্রিকসের প্রতিষ্ঠা), ৫ থেকে ১০ (সদস্য সংখ্যা), ১০টি (অংশীদার দেশ), ১৮তম (বার্ষিক সম্মেলন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!