📌 আফগানিস্তানের বাদাখশান প্রদেশে ব্যাপক সোনা উত্তোলনের ফলে নদীর পানি দূষিত, চাষাবাদ অসম্ভব এবং স্থানীয় কৃষকরা জীবিকা হারাচ্ছেন। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, খনি খাতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হলেও পরিবেশ ও মানুষের জীবন বিপন্ন
আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশে ব্যাপক সোনা উত্তোলনের ফলে স্থানীয় পরিবেশ ও জীবিকা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কয়েক হাজার খনিশ্রমিকের কর্মস্থল হলেও নদীর পানি দূষিত হয়ে যাওয়ায় চাষাবাদ ও গবাদিপশু পালন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
🔴 পরিবেশ ও জীবিকার বিপর্যয়
- 📌 আফগানিস্তানের বাদাখশান প্রদেশের শিওয়া এলাকায় শতাধিক খননযন্ত্র দিনরাত সোনা উত্তোলনে ব্যস্ত।
- 📌 স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ আমিন (৭৪ বছর) জানান, খননকাজ শুরুর আগে নদীর পানি স্বচ্ছ ছিল, কিন্তু এখন তা পান করার অযোগ্য হয়ে গেছে।
- 📌 মোহাম্মদ আমিনের জমিতে খনি কোম্পানি ইজারা দিয়েছিল, কিন্তু প্রতিশ্রুত অর্থের অর্ধেকও এখন পর্যন্ত দেয়নি।
- 📌 খনি বিভাগের প্রধান আবদুল মাতিন রহিমজাই জানান, ৬৫০ থেকে ৭০০টি কোম্পানি নিবন্ধিত হয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ খনিশ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন।
📰 খনি খাতে বিপুল প্রবৃদ্ধি, কিন্তু ক্ষতির ভার স্থানীয়দের
বিশ্বব্যাংকের মে মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে ২০২১ সালের পর থেকে শত শত খনিসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। খনি খাতে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি বছরে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খননকাজের ফলে নদীর তীরের ঘাস বিলীন হয়ে গেছে এবং ধুলাবালু ও বাতাসের কারণে চাষাবাদ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বাদাখশানের খনি বিভাগের প্রধান আবদুল মাতিন রহিমজাই বলেন, ‘খননকাজের ফলে স্থানীয়দের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর পানি দূষিত হওয়ায় গবাদিপশু পালন ও চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না।’
‘আগে নদীটি গভীর ছিল, আর এর পানি ছিল স্বচ্ছ। খননকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে নদীর পানি আর পান করার উপযোগী নেই, এমনকি ওই পানি দিয়ে গোসল বা হাত–পা ধোয়ার কাজও আর করা যায় না।’ — মোহাম্মদ আমিন, আফগানিস্তানের বাসিন্দা
📊 শ্রমিকদের জীবন ও অর্থনীতি
আফগানিস্তানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকেরা বাদাখশানে এসে কাজ করছেন। কাবুলের বাসিন্দা মোহাম্মদ আগা খাজা খাইল পাঁচ বছর ধরে খনিতে কাজ করছেন। তিনি মাসে প্রায় ১০ হাজার আফগানি আয় করেন। অন্যদিকে, শফিউল্লাহ এহসাস নামে এক যুবক তাঁর এক্সক্যাভেটর নিয়ে জালালাবাদ থেকে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে এসে মাসে ২৫ হাজার আফগানি আয় করছেন।
আফগান খনি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুমায়ুন আফগান বলেন, ‘আগের সরকারের সময় খনিজসম্পদ অনিয়মিতভাবে উত্তোলন করা হতো এবং যথাথ তত্ত্বাবধানের অধীনে এ কাজ পরিচালিত হতো না।’
‘এটি অন্য যেকোনো কাজের চেয়ে ভালো। কাবুলে কাজের সুযোগ খুব বেশি নেই।’ — মোহাম্মদ আগা খাজা খাইল, খনিশ্রমিক
📌 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আফগানিস্তানের বাদাখশান প্রদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ আমিন, আবদুল মাতিন রহিমজাই, মোহাম্মদ আগা খাজা খাইল, শফিউল্লাহ এহসাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ কিলোমিটার, ৭৪ বছর, ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ, ৬৫০ থেকে ৭০০টি কোম্পানি, ১০ হাজার আফগানি, ২৫ হাজার আফগানি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!