📌 জামায়াত ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দর ঘটনায় গ্রেপ্তার করে রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালতে হেলমেট ছুড়ে ফেলা, পুলিশকে হুমকি দিতে গিয়ে ‘ডোন্ট টাচ মি’ বলে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করলেও পিপি দাবি করেন, তিনি আদালতকে হেয় করেছেন
জামায়াত ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে শনিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে বিমানবন্দর ঘটনায় রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালতে হেলমেট ছুড়ে ফেলা, পুলিশকে হুমকি দিতে গিয়ে ‘ডোন্ট টাচ মি’ বলে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার গ্রেপ্তার করা আখতারুজ্জামানকে আদালতে নিয়ে আসার সময় তিনি পুলিশের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বিচারককে হেয় করে বক্তব্য দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **হেলমেট ছুড়ে ফেলা**: প্রিজন ভ্যান থেকে বের হওয়ার সময় আখতারুজ্জামান মাথায় পরানো হেলমেট ছুড়ে ফেলেন এবং বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের না’।
- 📌 **আদালতে বিরূপ মন্তব্য**: পিপি ওমর ফারুক ফারুকী দাবি করেন, আখতারুজ্জামান আদালতকে হেয় করে বলেছেন, ‘রায় দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই’।
- 📌 **পুলিশকে হুমকি**: প্রিজন ভ্যানে পুলিশ সদস্য আখতারুজ্জামানের হাত ধরে বের করতে গেলে তিনি উচ্চস্বরে বলেন, ‘হাত ধরবেন না, সাবধান’, ‘ডোন্ট টাচ মি’।
- 📌 **স্লোগান দেওয়া**: আদালত ভবনের ৮ তলায় পৌঁছানোর সময় তিনি ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দেন। বাইরে জামায়াতের কর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
- 📌 **জামিন চাওয়া**: আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, তিনি আদালতে সুন্দর বক্তব্য দিয়েছেন এবং পিপির দাবি মিথ্যা।
📰 বিস্তারিত
বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার বিকেলে আখতারুজ্জামানকে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলামের নেতৃত্বে তদন্তকারী দল আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তিনি বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিবো’ বলে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন। শনিবার আদালতে রিমান্ড আবেদনের সময় আখতারুজ্জামানকে প্রিজন ভ্যান থেকে বের করার সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘রাষ্ট্রের মিস ম্যানেজমেন্ট আর চলতে পারে না। এভাবে রাষ্ট্র চলতে পারে না। এ রকম অবস্থায় কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না’।
প্রিজন ভ্যানের ভেতরে পুলিশ সদস্য আখতারুজ্জামানের হাত ধরে বের করতে গেলে তিনি উচ্চস্বরে বলেন, ‘হাত ধরবেন না, সাবধান’, ‘ডোন্ট টাচ মি’। এরপর তিনি মাথায় পরানো হেলমেট ছুড়ে ফেলেন এবং বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের না’। আদালত ভবনের ৮ তলায় পৌঁছানোর সময় তিনি ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দেন। বাইরে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
শুনানিতে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী দাবি করেন, আখতারুজ্জামান আদালতকে হেয় করে বক্তব্য দিয়েছেন এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান আদালতে পুলিশ, সাংবাদিকসহ কাউকেই রাখতে চাননি এবং বিচারককে হেয় করে বলেছেন, ‘রায় দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই’। পিপি আরও দাবি করেন, আদালত শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করলেও আখতারুজ্জামান বারবার আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন।
আখতারুজ্জামানের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, শুনানিতে আখতারুজ্জামান সুন্দর বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, পিপির দাবি মিথ্যা এবং এই মামলা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আইনজীবী বলেন, ‘এটা জামিনযোগ্য মামলা’।
"ডোন্ট টাচ মি"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, পিপি ওমর ফারুক ফারুকী, আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক, উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ তলা (আদালত ভবন), ১২.০০ টা (প্রিজন ভ্যান নেওয়া সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!