📌 আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহাবুব আনাম বলেছেন, তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবে রূপায়ণে সরকারের অক্ষমতা দেখা দিচ্ছে। বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে বাংলাদেশের ১০৫তম স্থান ও উদ্ভাবনকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে সরকার, ব্যবসা ও একাডেমিয়ার সমন্বয় দরকার বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি
বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবন ক্ষেত্রে তরুণদের ধারণা বাস্তবে রূপায়ণে সরকারের অক্ষমতা নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছেন আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহাবুব আনাম। শনিবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বলেছেন, তরুণরা নানা উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে আসছেন, কিন্তু এগুলোর বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষে সফলতা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও** স্টার্টআপগুলোর জন্য বিশেষ তহবিলের অভাব রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় উদ্ভাবনী প্রকল্পের জন্য
- 📌 **বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৯ দেশের মধ্যে ১০৫তম** — অবকাঠামো ভালো হলেও মানবসম্পদ ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা পিছিয়ে রয়েছে
- 📌 **৪৫০টি আইডিয়া থেকে ৪৪টি পুরস্কার** — এপিক্টা মানদণ্ডে বিচার করে ৪০ ঘণ্টা সময়ে নির্বাচিত ১১৮টি প্রকল্পের মধ্যে ৪৪টি পুরস্কৃত
- 📌 **এআই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না যেতে হবে** — মন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে এআই নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে, বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকতে পারবে না
- 📌 **বাজেটে গবেষণা বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ** — পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, চলতি বাজেটেই গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে
📰 বিস্তারিত
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহাবুব আনাম বলেছেন, “আমরা তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণা দেখছি, কিন্তু এগুলোর বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ছেলেমেয়েরা আইডিয়া নিয়ে আসছে, কিন্তু আমরা তা বাস্তবে রূপায়ণ করতে পারছি না।” তিনি উল্লেখ করেছেন, স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় উদ্ভাবনী প্রকল্পের জন্য কোনো বিশেষ তহবিল নেই।
মন্ত্রী আরও বলেছেন, “এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকতে পারবে না। কিন্তু একই সাথে আমাদের ভাবতে হবে, এই তরুণদের চাকরি পাবে কি না। তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি না হোক, সেটাও আমাদের চিন্তা করতে হবে।”
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, “গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো শুধু নয়, সরকার, ব্যবসা ও একাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করতে হবে। আমরা যদি এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছি, তাহলে এই উদ্ভাবন ও গবেষণাকে তার উপযোগী করে তোলা জরুরি।” তিনি জানান, চলতি বাজেটেই গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী বলেছেন, ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৯ দেশের মধ্যে ১০৫তম। তিনি উল্লেখ করেছেন, অবকাঠামো ভালো হলেও মানবসম্পদ ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা পিছিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, “নদীতে মাছ ধরার সময় জেলেরা মোবাইলে নাটক দেখতে পারেন, কিন্তু তাদের মূল প্রয়োজন হলো সহজ ঋণ, মাছের দামের তথ্য এবং পরিবহন ব্যবস্থা। এসব সেবা আলাদা আলাদা খাতে থাকায় সমন্বিত সমাধান তৈরি হচ্ছে না।”
বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্ক (বিন) জানিয়েছে, এবারের প্রতিযোগিতায় সারা দেশ থেকে ৪৫০টি আইডিয়া জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ৩৫৫টি এন্ট্রি চূড়ান্ত করা হয়। পরবর্তী বিচার প্রক্রিয়ায় ১১৮টি প্রকল্প বাছাই করা হয়। বিচারকরা প্রায় ৪০ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন এসব প্রকল্পের বিচার করতে। এশিয়া প্যাসিফিক আইসিটি অ্যালায়েন্সের (এপিক্টা) মানদণ্ড অনুসরণ করে মানদণ্ড তৈরি করা হয়। বিজয়ীরা আগামী ডিসেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এপিক্টা অ্যাওয়ার্ডসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
"আমরা যদি এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছি, তাহলে এই উদ্ভাবন ও গবেষণাকে তার উপযোগী করে তোলা জরুরি"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফকির মাহাবুব আনাম (আইসিটি মন্ত্রী), জোনায়েদ সাকি (পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী), এমদাদ উল বারী (বিটিআরসি চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০০ কোটি টাকা (স্টার্টআপ বরাদ্দ), ১০৫তম (বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে), ৪৫০টি (আইডিয়া জমা), ৪৪টি (পুরস্কৃত প্রকল্প)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!