📌 আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জরুরি কৌশলগত মজুত থেকে মোট ৩২৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছে। মার্কিন-ইরান সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানিসংকট প্রশমনের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জি-৭ জোটও অতিরিক্ত ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে
বিশ্ববাজারে জ্বালানিসংকটের চরম পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের জরুরি কৌশলগত মজুত থেকে ইতিমধ্যে মোট ৩২৫ মিলিয়ন (৩২ কোটি ৫০ লাখ) ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য বাজারে ছেড়েছে। গত মার্চ মাসে দেওয়া ৪০ কোটি (৪০০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেলের প্রতিশ্রুতির মধ্যে ৮০ শতাংশেরও বেশি তেল ইতিমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। শনিবার আইইএ-এর একটি বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর একদিন আগেই জি-৭ জোটের সদস্য দেশগুলো আইইএ-এর সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে আরও ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩২৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়**: আইইএ-এর সদস্য দেশগুলো থেকে মোট ৩২৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে, যা ৪০ কোটি ব্যারেল প্রতিশ্রুতির ৮০ শতাংশেরও বেশি।
- 📌 **জি-৭-এর অতিরিক্ত ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল ঘোষণা**: শুক্রবার জি-৭ জোটের বৈঠকে আগামী চার মাসের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- 📌 **মার্কিন-ইরান সংঘাতের প্রভাব**: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি ও ইরানের হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সীমাবদ্ধতা বিশ্ববাজারে জ্বালানিসংকটের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- 📌 **রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব**: রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগারে ইউক্রেন কর্তৃক পরিচালিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।
- 📌 **আইইএ সদস্য দেশের তালিকা**: আইইএ-এর বর্তমান ৩২টি সদস্য দেশের মধ্যে জি-৭ ভুক্ত সবকটি দেশ—যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
আইইএ-এর বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ১১ মার্চ ঘোষিত যৌথ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সংস্থাটির সদস্য দেশগুলো থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন-ইরান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানিসংকট প্রশমন করা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি আমদানিনির্ভর ইউরোপের দেশগুলোকে চাপ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে ইউরোপের দেশগুলোও চাপে পড়ে গিয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহে সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমিত করে দিয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগারে ইউক্রেন কর্তৃক পরিচালিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে চরম অস্থির করে তুলেছে।
জি-৭ জোটের বৈঠকে সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে জ্বালানি রপ্তানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য ছিল জ্বালানি সরবরাহের স্বাভাবিকতা বজায় রাখা এবং দাম নিয়ন্ত্রণ করা।
"আইইএ-এর সদস্য দেশগুলো থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে, যা ৪০ কোটি ব্যারেল প্রতিশ্রুতির ৮০ শতাংশেরও বেশি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্ববাজার, মধ্যপ্রাচ্য, হরমুজ প্রণালি, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল, ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল অতিরিক্ত তেল, ৪০ কোটি ব্যারেল প্রতিশ্রুতি, ৮০ শতাংশ সরবরাহ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!