📌 স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ঘোষণা করেছেন, নগরায়নের চাপে নগর স্বাস্থ্যসেবাকে সরকারি ব্যবস্থার মূলধারায় নিয়ে আসা হচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে শহুরে জনসংখ্যা ৫০ শতাংশে পৌঁছানোর পূর্বসূচনা হিসেবে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে
সরকার নগরায়নের চাপে নগর স্বাস্থ্যসেবাকে মূলধারার সরকারি ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরামর্শ সভায় ঘোষণা দেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৫০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ শহুরে জনসংখ্যার স্বাস্থ্য চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নগর স্বাস্থ্য মূলধারায়: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা করেন, নগর স্বাস্থ্যসেবাকে সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে — ২০৫০ সালের মধ্যে শহুরে জনসংখ্যা ৫০ শতাংশে পৌঁছানোর পূর্বসূচনা হিসেবে।
- 📌 ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী: তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিদ্যমান ৪০ হাজার কর্মীকে একই কাঠামোতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
- 📌 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সেবা: নতুন কর্মীদের হাতে আধুনিক ডায়াগনস্টিক কিট এবং এআই-চালিত ডিজিটাল অ্যাপ প্রদান করা হবে, যাতে তারা বাড়ি বাড়ি প্রাথমিক পরীক্ষা ও পরামর্শ দিতে পারেন।
- 📌 সান্ধ্যকালীন ক্লিনিক: নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষের সুবিধার জন্য সান্ধ্যকালীন স্বাস্থ্য সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
- 📌 ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাচমেন্ট এরিয়া: প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুসহ ভাসমান জনগোষ্ঠীর জন্য ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি ইউনিট নির্ধারণ করা হবে।
📰 বিস্তারিত
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে শহুরে জনসংখ্যা ছিল মাত্র ১০ শতাংশেরও কম। তাই তৎকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দিকে মনোনিবেশ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ শহরে বাস করে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এই হার ৫০ শতাংশে পৌঁছাবে। তিনি বলেন, “আমরা শুধু আজকের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ছি না, আগামী দিনের কথাও ভাবছি। তাই নগর স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল ধারার অন্তর্ভুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বাস্তবতার নিরিখে।”
প্রতিমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত নগর স্বাস্থ্য সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও এনজিওদের মাধ্যমে পরিচালিত হত। এখন সরকারের অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা অধিদফতর এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর যৌথভাবে এই সেবা পরিচালনা করবে, বিশেষ করে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। বিদ্যমান ৪০ হাজার কর্মীর সঙ্গে এই নতুন বাহিনীকে একই কাঠামোর আওতায় সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, নতুন কর্মীদের হাতে আধুনিক ডায়াগনস্টিক কিট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ডিজিটাল অ্যাপ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা ও সঠিক স্বাস্থ্য পরামর্শ দিতে পারবেন।
"আমরা শুধু আজকের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ছি না, আগামী দিনের কথাও ভাবছি। তাই নগর স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল ধারার অন্তর্ভুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বাস্তবতার নিরিখে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরডাপ মিলনায়তন, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ (নতুন স্বাস্থ্যকর্মী), ৪০ হাজার (বিদ্যমান কর্মী), ৫০ শতাংশ (২০৫০ সালের শহুরে জনসংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!