📌 বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত প্রকল্পের গাড়ি সরকারি কর্মকর্তারা অনিয়মে ব্যবহার করছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে বরাদ্দকৃত ২৬১টি গাড়ির মধ্যে ৫৯টি অন্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে দিয়েছে। কর্মকর্তারা দাবি করেন, তারা একা করছেন না, কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের গাড়ি শুধু প্রকল্পে ব্যবহার করতে হবে
বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজ’ প্রকল্পের গাড়ি সরকারি কর্মকর্তারা অনিয়মে ব্যবহার করছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে বরাদ্দকৃত গাড়ির তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রকল্পের গাড়ি প্রকল্পের বাইরে ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মনিরুল ইসলাম বিশ্বব্যাংক প্রকল্পের একটি স্পোর্ট ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) ব্যবহার করছেন, যা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত নয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৬১টি গাড়ির মধ্যে ৫৯টি অন্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে দিয়েছে এলজিইডি — সবচেয়ে বেশি ২৬টি স্থানীয় সরকার বিভাগে, পরিকল্পনা কমিশনে ১০টি, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি গাড়ি রয়েছে।
- 📌 ২১১টি এসইউভি, ৪১টি ডাবল কেবিন পিকআপ ও ৯টি কার — প্রকল্পের গাড়ির মধ্যে এসইউভি সংখ্যা সর্বাধিক।
- 📌 প্রকল্পের গাড়ি প্রকল্পের বাইরে ব্যবহার করা হচ্ছে — নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের গাড়ি শুধু প্রকল্পেই ব্যবহার করতে হবে এবং প্রকল্প শেষে পরিবহন পুলে জমা দিতে হবে।
- 📌 ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এলজিইডির ১১৯টি প্রকল্প — প্রকল্পে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গাড়ি কেনা হয়, যা দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে।
- 📌 টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটা যোগসাজশমূলক অনিয়ম — সরকারি প্রতিষ্ঠান এলজিইডি অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে এবং গাড়ি ব্যবহারকারীরাও নিয়ম মানছেন না।
📰 বিস্তারিত
বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজ’ প্রকল্পের গাড়ি সরকারি কর্মকর্তারা অনিয়মে ব্যবহার করছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে বরাদ্দকৃত ২৬১টি গাড়ির মধ্যে ২১১টি এসইউভি, ৪১টি ডাবল কেবিন পিকআপ এবং ৯টি কার রয়েছে। এসব গাড়ির মধ্যে ৫৯টি অন্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে দিয়েছে এলজিইডি। সবচেয়ে বেশি ২৬টি গাড়ি স্থানীয় সরকার বিভাগে, পরিকল্পনা কমিশনে ১০টি, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি গাড়ি রয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মনিরুল ইসলাম বিশ্বব্যাংক প্রকল্পের একটি স্পোর্ট ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) ব্যবহার করছেন। তিনি চার বছর আগে সরকারের কাছ থেকে বিনা সুদে ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছিলেন। গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসে ৫০ হাজার টাকা সরকারি ভাতাও পান তিনি। তবে প্রকল্পের গাড়ি প্রকল্পের বাইরে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের গাড়ি শুধু প্রকল্পেই ব্যবহার করতে হবে এবং প্রকল্প শেষে তা পরিবহন পুলে জমা দিতে হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে এলজিইডির হাতে প্রকল্প রয়েছে ১১৯টি। বাংলাদেশে প্রকল্পে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গাড়ি কেনা হয়। এলজিইডিও প্রকল্পে শত শত গাড়ি কিনেছে। কর্মকর্তারা কিছুতেই প্রকল্পের গাড়ির সংখ্যা প্রকাশ করতে রাজি হননি। তবে ২৬১টি গাড়ির একটি তালিকা পাওয়া গেছে, যেখানে উল্লেখ রয়েছে যে কারা এসব গাড়ি ব্যবহারের করেন।
অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তারা দাবি করেন, তারা একা করছেন না। তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটা যোগসাজশমূলক অনিয়ম। তিনি বলেন, এলজিইডি বিপুল সম্পদ ব্যবহার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও বেশি। এমন একটি সংস্থার কর্মকর্তারা নিজেদের সুরক্ষার জন্য অন্য সংস্থাকে গাড়ি ব্যবহার করতে দিচ্ছেন, এটা ভাবা অমূলক নয়।
"এটা যোগসাজশমূলক অনিয়ম। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এলজিইডি যেমন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে, তেমনি যাঁরা গাড়ি ব্যবহার করছেন, তাঁরাও নিয়ম মানছেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মনিরুল ইসলাম (যুগ্ম সচিব), ইফতেখারুজ্জামান (টিআইবি নির্বাহী পরিচালক), আমিনুল ইসলাম (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬১টি গাড়ি, ৫৯টি অন্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে বরাদ্দ, ২১১টি এসইউভি, ১১৯টি প্রকল্প, ৫০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!