📌 স্বাস্থ্যসেবা মান উন্নয়নে সরকার ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করে ৫০৩টি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার করে উন্নীত এবং বাড়ি-বাড়িতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবার মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বাসস বলেছেন, ১৫ বছরের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে
স্বাস্থ্যসেবা মান উন্নয়নে সরকারের সর্বোচ্চ বরাদ্দের একটি মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে। এই বরাদ্দের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থাৎ মোট বাজেটের প্রায় ৭ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে নিবদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল স্থাপন, বাড়ি-বাড়িতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ১৪ হাজার ৬৩৪টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ১ হাজার ৬৩১টি হাব নির্মাণ এবং চিকিৎসক-নার্সসহ বিপুল সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ** স্বাস্থ্য খাতে — মোট বাজেটের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ
- 📌 **৫০৩টি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার** করে উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত
- 📌 **৪৪ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকার প্রকল্পে** ১৮টি হাসপাতাল ৫১ শয্যায়, ৩০৫টি ১০১ শয্যায়, ৮৩টি ১৩২ শয্যায়, ১৩টি ১২০ শয্যায় ও ২৪টি ১৫১ শয্যায় উন্নীত হবে
- 📌 **১৪ হাজার ৬৩৪টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র** ও **১ হাজার ৬৩১টি হাব** নির্মাণের পরিকল্পনা
- 📌 **প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে** স্বাস্থ্য পরামর্শ ও রক্তচাপ-গ্লুকোজ পরীক্ষা করার ব্যবস্থা
- 📌 **১ লাখ ৪০ হাজার প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী** বাড়ি-বাড়িতে সেবা দেবেন
- 📌 **আইসিইউ, করোনারি কেয়ার, ক্যানসার চিকিৎসা, ডায়ালাইসিস** সহ আধুনিক সুবিধা যুক্ত হবে উন্নীত হাসপাতালগুলোতে
📰 বিস্তারিত
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বাসস বলেছেন, গত ১৫ বছরের দুর্নীতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন সংস্কার ও মেরামত হয়নি। বর্তমান সরকার পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনের সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে এসেছে।
উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি ও জেলা হাসপাতালের চাপ কমাতে **৪৪ হাজার ৭৫৭ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রকল্প** প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১৮টি হাসপাতাল ৫১ শয্যায়, ৩০৫টি ১০১ শয্যায়, ৮৩টি ১৩২ শয্যায়, ১৩টি ১২০ শয্যায় এবং ২৪টি হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত হবে। এছাড়া ৪৪৩টি উপজেলায় সমন্বিত বহুতল সেবাভবন এবং ১৫টি উপজেলায় চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের আবাসন সুবিধা নির্মাণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে অনেক এলাকায় ৩০ ও ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আর পর্যাপ্ত নয়। কোনো কোনো উপজেলায় এখন ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষকে সেবা দিতে হচ্ছে। এ কারণে ৫০৩টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে। উন্নীত হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ, করোনারি কেয়ার, ওয়ান স্টপ জরুরি সেবা, মেডিসিন, সার্জারি, নাক-কান-গলা, চক্ষু, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, কিডনি ডায়ালাইসিস, ক্যানসার শনাক্তকরণ, ফিজিওথেরাপি এবং স্ট্রোক ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ১৪ হাজার ৬৩৪টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং ১ হাজার ৬৩১টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা হাব স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের বরাদ্দ ১১ হাজার ৯৯৩ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এর আওতায় ৫ হাজার ৯৩৬টি স্থাপনা পুনর্নির্মাণ, ৮ হাজার ৩৪৮টি মেরামত বা আধুনিকায়ন এবং ৩৫০টি নতুন হাব নির্মাণ করা হবে। নতুন ও পুনর্নির্মিত স্থাপনাগুলোতে আসবাবপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব প্রবেশপথ নিশ্চিত করা হবে।
"দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান সরকার পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছে। এটি এক বা দুটি প্রকল্পের বিষয় নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ।"
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ি-বাড়িতে সেবা দেবেন। তারা অন্তত দুই মাসে একবার প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ দেবেন। তারা বাড়িতেই রক্তচাপ ও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে পারবেন। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীদের উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে পাঠানো হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সারাদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. এম এ মুহিত বাসস (স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ, ১৫১ শয্যার হাসপাতাল, ১৪ হাজার ৬৩৪টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ১ লাখ ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!