📌 ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গণিত শিক্ষক নুরুদ্দোহা সোহেলের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে কুরুচিপূর্ণ বার্তা ও যৌন প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলেও কর্তৃপক্ষ এখনও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অভিযুক্ত শিক্ষক তিন মাসের চিকিৎসা ছুটির আবেদন করায় বেতন স্থগিত করা হয়েছে।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে কুরুচিপূর্ণ বার্তা ও যৌন প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গণিত বিভাগের সহকারী শিক্ষক নুরুদ্দোহা সোহেলের বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা ছাত্রীকে বিদ্যালয় ছাড়তে হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক নুরুদ্দোহা সোহেলের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ
- 📌 অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি
- 📌 অভিযুক্ত শিক্ষক তিন মাসের চিকিৎসা ছুটির আবেদন করায় তার বেতন স্থগিত করা হয়েছে
- 📌 ভুক্তভোগী ছাত্রী মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতায় বিদ্যালয় ছেড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে
📰 বিস্তারিত
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী শিক্ষক নুরুদ্দোহা সোহেল নিজ ছাত্রীর হোয়াটসঅ্যাপে কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠান ও যৌন প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা ছাত্রীকে বিদ্যালয় ছাড়তে হয়েছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক নিজ ছাত্রীর হোয়াটসঅ্যাপে কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠান ও যৌন প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে ঘটনাটি পরিবার জানতে পারলে ৫ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বরাবর একটি অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে দাখিল করা ১২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে অভিযোগটি ‘সম্পূর্ণ সত্য ও বাস্তবসম্মত’ বলে উল্লেখ করা হয়। এতে অভিযুক্ত শিক্ষকের ‘চরম নৈতিক স্খলনের’ জন্য কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে। এরই মধ্যে তার বেতন স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক বিভাগীয় শাস্তি এড়াতে তিন মাসের চিকিৎসা ছুটির আবেদন করেছেন। আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহনুর জামান অভিযুক্ত শিক্ষকের চিকিৎসা ছুটির আবেদনকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে এবং প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থায় চিকিৎসা ছুটির আবেদন করা অযৌক্তিক।
এদিকে অভিযোগের পর থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী। একই বিদ্যালয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক কর্মরত থাকায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে তার পরিবার। ফলে মেয়েকে আর ওই বিদ্যালয়ে না পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় পরিবারটি। গত ২০ আগস্ট ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে ছাড়পত্রের আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিনই শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধান শিক্ষক আজাদুল ইসলাম।
"অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থায় চিকিৎসা ছুটির আবেদন করা অযৌক্তিক। তাই তার ছুটির আবেদনের কোনো ফরওয়ার্ডিং পাঠানো হবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নুরুদ্দোহা সোহেল (অভিযুক্ত শিক্ষক), ভুক্তভোগী ছাত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ আগস্ট (অভিযোগ দাখিল), ১২ পৃষ্ঠা (তদন্ত প্রতিবেদন), ২০ আগস্ট (ছাড়পত্র প্রদান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!