📌 যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’ নামে নতুন যুদ্ধনীতি গ্রহণ করেছে। নৌ-অবরোধ, ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ ও তেল চোরাচালান বন্ধ করে তেহরানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে। ইরানও পাল্টা পদক্ষেপে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’ নামে এক নতুন যুদ্ধনীতি গ্রহণ করেছেন। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের জাতীয় পরিকাঠামোতে সরাসরি হামলা না করে অর্থনৈতিকভাবে দেশটিকে শ্বাসরোধ করে দেওয়া। মার্কিন নৌবাহিনী ভারত মহাসাগর থেকে শুরু করে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থান নিয়ে ইরানের তেল চোরাচালান বন্ধ করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। ফলে ইরানের তেলখনি ও খারগ দ্বীপের ট্যাংকারগুলো ধারণক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছে যাওয়ায় দেশটির অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি ধসের মুখে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’ নামে নতুন যুদ্ধনীতি গ্রহণ করেছে
- 📌 মার্কিন নৌবাহিনী ভারত মহাসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের তেল চোরাচালান বন্ধে তৎপর
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে
- 📌 ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে
- 📌 ইরানের বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই কৌশল ব্যর্থ হতে পারে
📰 বিস্তারিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’ নামে এক নতুন যুদ্ধনীতি গ্রহণ করেছেন। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের জাতীয় পরিকাঠামোতে সরাসরি হামলা না করে অর্থনৈতিকভাবে দেশটিকে শ্বাসরোধ করে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মতে, অবকাঠামোতে হামলা চালালে সাধারণ ইরানিরা জাতীয়তাবাদী শক্তিতে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। কিন্তু অর্থনৈতিক অবরোধ অব্যাহত রাখলে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সাধারণ জনগণের তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে তেহরানের আয়াতুল্লাহ সরকারের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে নৌ-অবরোধ। মার্কিন নৌবাহিনী কেবল হরমুজ প্রণালিতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভারত মহাসাগরেও অবস্থান নিয়ে ইরানের জ্বালানি তেল চোরাচালানের ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন জাহাজের বহর জব্দ করছে। চীন ও ভারতে সস্তায় তেল পাঠানো আটকানোর পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাঁচামাল আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে ইরানের তেলখনি ও খারগ দ্বীপের ট্যাংকারগুলো ধারণক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছে যাওয়ায় দেশটির খনি থেকে অপরিশোধিত তেল উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
নৌ-অবরোধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ডিজিটাল অর্থনীতির ওপরও আঘাত হেনেছে। সম্প্রতি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ব্যবহৃত লাখ লাখ ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে। পাশাপাশি যেসব ছোট ছোট চীনা শোধনাগার ইরানের কাছ থেকে গোপনে তেল কিনছিল, সেগুলোর ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
"অ্যানাকোন্ডা যেভাবে শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে তার শ্বাসরোধ করে হত্যা করে, ঠিক তেমনি যুক্তরাষ্ট্রও এই কৌশল অনুসরণ করছে। কারণ, গত পাঁচ মাসে তারা যা করেছে, তা ব্যর্থ হয়েছে।"
তবে ইরানও বসে নেই। তেহরান মূলত সময়ের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। হরমুজ প্রণালিতে সংকট বজায় রেখে জ্বালানির বিশ্ববাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার ফায়দা তুলতে চায় তারা। তেহরানের বাজি হলো, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেলে ওয়াশিংটনই নতি স্বীকার করতে বাধ্য হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ভারত মহাসাগর, হরমুজ প্রণালি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, আলী আকবর দারে ইনি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: পাঁচ মাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!