📌 বিদায়কালে ‘ফি আমানিল্লাহ’ বলা ইসলামে বৈধ হলেও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়াটিই সর্বোত্তম। সালামের পর নিরাপত্তামূলক বার্তা হিসেবে এই বাক্য ব্যবহার করা যাবে বলে উল্লেখ করেছেন ইসলামবিষয়ক গবেষক মুফতি হাসান আরিফ
রাজশাহীর ওমর ফারুক জানতে চেয়েছেন, বিদায় দেওয়ার সময় বা নিজে বিদায় নেওয়ার সময় ‘ফি আমানিল্লাহ’ বলার ইসলামি বিধান সম্পর্কে। ইসলামবিষয়ক গবেষক মুফতি হাসান আরিফ জানিয়েছেন, ‘ফি আমানিল্লাহ’ অর্থ ‘আল্লাহর নিরাপত্তায়’ বা ‘আল্লাহ আপনাকে নিরাপদে রাখুন’, যা বিদায়কালীন দোয়ায় ব্যবহৃত হতে পারে। তবে ইসলামি শরিয়ত অনুসারে, সালাম দেওয়ার পর বিদায়কালীন সময়েও সালাম দেওয়া সুন্নত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘ফি আমানিল্লাহ’ অর্থ ‘আল্লাহর নিরাপত্তায়’ বা ‘আল্লাহ আপনাকে নিরাপদে রাখুন’, যা বিদায়কালীন দোয়ায় বৈধ
- 📌 ইসলামি শরিয়ত অনুসারে, সালাম দেওয়া যেমন সুন্নত, তেমনই বিদায়কালীন সময়েও সালাম দেওয়া সুন্নত
- 📌 রাসুলুল্লাহ (সা.) বিদায়কালীন সময়ে বিশেষ দোয়াটি পাঠ করতেন: ‘আসতাউদিউ-ল্লাহা দ্বীনাকা ওয়া আমানাতাকা ওয়া খাওয়াতিমা আমালিকা’
- 📌 মুফতি হাসান আরিফ জানিয়েছেন, ‘ফি আমানিল্লাহ’ বলা জায়েজ হলেও রাসুল (সা.)-এর শেখানো পুরো দোয়াটি পড়া সর্বোত্তম
📰 বিস্তারিত
বিদায়কালীন সময়ে ‘ফি আমানিল্লাহ’ বলার বিষয়ে ইসলামি বিধান সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন রাজশাহীর ওমর ফারুক। ইসলামবিষয়ক গবেষক মুফতি হাসান আরিফ জানিয়েছেন, ‘ফি আমানিল্লাহ’ একটি আরবি বাক্য, যার অর্থ ‘আল্লাহর নিরাপত্তায়’ বা ‘আল্লাহ আপনাকে নিরাপদে রাখুন’। তিনি বলেন, বিদায় দেওয়া কিংবা বিদায় নেওয়ার সময়ে দোয়ার উদ্দেশ্যে এই বাক্যটি বলা যাবে। তবে ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ বা দেখা হলে সালাম দেওয়া যেমন সুন্নত, তেমনই কথাবার্তা বা মজলিশ শেষ করে বিদায় নেওয়ার সময়ও সালাম দেওয়া একটি নিশ্চিত সুন্নত।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ কোনো মজলিশে পৌঁছাবে, সে যেন সালাম দেয়। তারপর যদি তার সেখানে বসার ইচ্ছে হয়, তবে বসবে। পরে যখন সে উঠে দাঁড়াবে (বিদায় নেবে), তখনো যেন সে সালাম দেয়। কারণ প্রথম সালামটি দ্বিতীয় সালামের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।’ (সুনানে তিরমিজি: ২৭০৬)
বিদায়কালীন সময়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক বিশেষ দোয়াও পাঠ করতেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) যখন কাউকে বিদায় দিতেন, তখন তার হাত ধরতেন এবং সে নিজে থেকে হাত না ছাড়ানো পর্যন্ত হাত ধরে রাখতেন। অতঃপর বিদায় জানানোর সময় বলতেন, ‘আসতাউদিউ-ল্লাহা দ্বীনাকা ওয়া আমানাতাকা ওয়া খাওয়াতিমা আমালিকা।’ অর্থ: ‘আমি তোমার দ্বীন, তোমার আমানত এবং তোমার শেষ আমলকে আল্লাহর হাওয়ালা সোপর্দ করছি।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২৬০০; সুনানে তিরমিজি: ৩৪৪২ / ৩৪৪৩)
"বিদায়কালীন সময়ে ‘ফি আমানিল্লাহ’ বলা জায়েজ হলেও রাসুল (সা.)-এর শেখানো পুরো দোয়াটি পড়া এবং সুন্নাহকে প্রাধান্য দেওয়া সর্বোত্তম। মানুষের বানানো কোনো বক্তব্য যেন হাদিসে বর্ণিত সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো পদ্ধতির বিকল্প না হয়ে দাঁড়ায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুফতি হাসান আরিফ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: হাদিসের সূত্র সংখ্যা ২৭০৬, ২৬০০, ৩৪৪২, ৩৪৪৩
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!