📌 ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বৈশ্বিক প্রধান রিশাদ শরিফ অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক্সিকিউটিভ এমবিএতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। তিনি ৬০০ মানুষের সামনে গ্র্যাজুয়েশন স্পিকার হিসেবে বক্তৃতা দিয়েছেন
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বৈশ্বিক অপারেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি প্রধান রিশাদ শরিফ অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক্সিকিউটিভ এমবিএতে (ইএমবিএ) প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। তিনি ২৬ দেশের ৬০ জন পেশাজীবীর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে এই স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। অক্সফোর্ডের এই ডিগ্রি বিশ্বের সেরা মনে করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অক্সফোর্ডের ইএমবিএতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে রিশাদ শরিফ ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন
- 📌 ১৬ বছরের পেশাজীবী রিশাদ ২৪ মাসে ডিগ্রি অর্জন ও গ্র্যাজুয়েশন স্পিকার নির্বাচিত হন
- 📌 ৬০০ মানুষের সামনে বক্তৃতা দেন: ‘প্রতিদিন ব্যর্থতা স্বীকার করতে হয়, কিন্তু ভারসাম্য রাখতে হবে’
- 📌 দেশের নেতিবাচক ছবি পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন: ‘আমি বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছি’
- 📌 স্ত্রী ফারহা দিবা সুফিয়ান ও বন্ধু-সহকর্মীদের সহযোগিতায় সামলান সফলতা
📰 বিস্তারিত
ঢাকার মালিবাগে বেড়ে ওঠা রিশাদ শরিফের পড়াশোনার শুরু হয়েছিল সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে। নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর ২০০৯ সালে গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) থেকে স্নাতক হন। কর্মজীবন শুরু করেন ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশে। গত ছয় বছর সপরিবার যুক্তরাজ্যে থাকার সময় তিনি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বৈশ্বিক অপারেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রিশাদ বলেন, ‘স্বপ্ন দেখতে সবাই পছন্দ করে, কিন্তু সেটাকে বাস্তবায়ন করা একঘেয়ে পরিশ্রম। প্রতিদিনই এই কাজ করতে হয়।’ তিনি জানান, লন্ডন বিজনেস স্কুলেও তিনি নির্বাচিত হলেও অক্সফোর্ডে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে ২৬ দেশের ৬০ জন পেশাজীবীর মধ্যে তিনি একমাত্র বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিবর্গ ছিলেন।
রিশাদের পেশাজীবন প্রায় ১৬ বছর। স্ত্রী ফারহা দিবা সুফিয়ান একজন অর্থনীতিবিদ। তাদের দুই সন্তান: ৯ বছরের নাদিন ও ৫ বছরের হামজা। প্রশ্ন উঠেছিল, ‘এই ব্যস্ত জীবনে আবার কেন পড়াশোনা?’ রিশাদের উত্তর ছিল, ‘আমি এটাকে ব্যক্তি উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছি। সন্তানদের অনুপ্রেরণা দিতে চেয়েছি এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চেয়েছি।’
রিশাদ মনে করেন, ‘অভিবাসীরা সাধারণত বড় স্বপ্ন দেখার সাহস করে না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, মানুষ তার স্বপ্নের সমানই বড়। মাইকেল জর্ডানের কথা মনে পড়ে: প্রতিটি না নেওয়া শট একটা মিসড শট। তাই শটটা নিয়ে দেখো, জিততে পারো।’
রিশাদ তাঁর কোহর্টের সহপাঠীদের ভোটে ‘গ্র্যাজুয়েশন স্পিকার’ নির্বাচিত হন। প্রায় ৬০০ মানুষের সামনে বক্তৃতা দেন তিনি। সেই বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘গত ২৪ মাসের প্রতিটি সপ্তাহে কোনো দিন আমি ছিলাম একজন ব্যর্থ বাবা, কোনো দিন ব্যর্থ কর্মী, কোনো দিন ব্যর্থ বন্ধু, আবার কোনো দিন একজন ব্যর্থ স্বামী। কিন্তু আমি মনে করি, সামগ্রিকভাবে সবকিছুর মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখতে হবে।’
তিনি জানান, স্ত্রী ফারহার সহযোগিতা ছাড়া এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হত না। বন্ধু ও সহকর্মীদেরও তাঁদের জায়গা থেকে সাহায্য পেয়েছেন।
"আমি দেশকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছি। অনেকে আমাদের দেশকে নেতিবাচকভাবে দেখে। মনে করে শাসনব্যবস্থা ভালো না, গরিব। আমি এই ছবি পরিবর্তন করতে চেয়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি (যুক্তরাজ্য), ঢাকা (বাংলাদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রিশাদ শরিফ (ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বৈশ্বিক প্রধান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ জন (কোহর্টের সদস্য), ২৬ দেশ (প্রতিনিধিত্ব), ৬০০ জন (গ্র্যাজুয়েশন স্পিকার বক্তৃতা শুনেছেন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!