📌 মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরের একটি প্রত্যন্ত বিদ্যালয়ে পোস্টিং নিয়ে ১৩ বছর আগে যোগ দিয়েছেন জীবন মিথারি। প্রতিদিন ৫ কিলোমিটার জঙ্গলপথ হেঁটে একমাত্র শিক্ষার্থী স্বরা বোদাকে পড়ান তিনি। বিদ্যুৎ ও সড়কহীন এই এলাকায় বন্য প্রাণীর ঝুঁকির মধ্যে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন
মহারাষ্ট্রের কোলহাপুর জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে প্রতিদিন ৫ কিলোমিটার জঙ্গলপথ হেঁটে একমাত্র শিক্ষার্থীকে পড়ান একজন শিক্ষক। ৫৫ বছর বয়সী জীবন মিথারি প্রত্যন্ত কাওয়ালটেক ধাঙ্গারওয়াড়ার জেলা পরিষদ বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে শুধুমাত্র তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বরা বোদা ছাড়া আর কেউ নেই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৫ কিলোমিটার জঙ্গলপথ**: প্রতিদিন সকালে জীবন মিথারি জঙ্গলপথ হেঁটে বিদ্যালয়ে যান। পথে প্রবল বৃষ্টি, বন্য প্রাণী এবং সড়কহীন এলাকা ঝুঁকির কারণ।
- 📌 **১৩ বছরের দায়িত্ব**: ২০১৩ সালের ২৬ জুলাই থেকে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি।
- 📌 **একমাত্র শিক্ষার্থী**: বর্তমানে বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র স্বরা বোদা একমাত্র শিক্ষার্থী। তার ছোট বোনও বিদ্যালয়ে ক্লাস করে।
- 📌 **বন্য প্রাণীর ঝুঁকি**: পথে গাউর ও চিতাবাঘের মতো বন্য প্রাণীর মুখোমুখি হতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে শিখিয়েছেন প্রতিক্রিয়া জানানোর উপায়।
- 📌 **প্রত্যন্ত এলাকার দায়িত্ব**: জীবন মিথারি বলেন, ‘একজন শিশুই যদি থাকে, তবু আমাকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে’।
📰 বিস্তারিত
জীবন মিথারি কোলহাপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু তিনি প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষকতা করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর সহকর্মীরা বলেছিলেন, প্রভাবশালী পদে থাকা ব্যক্তিরা আরামদায়ক জায়গায় কাজ করতে পারেন। কিন্তু মিথারি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। গ্রামটিতে বিদ্যুৎ নেই এবং বিদ্যালয় পর্যন্ত যানবাহন যেতে পারে না। নিকটতম সড়ক থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার। প্রতিদিন হাঁটতে হয় এই দূরত্ব।
মিথারি বলেন, ‘২০১৩ সালের ২৬ জুলাই এখানে যোগ দিয়েছিলাম। এরপর থেকে এখানেই কাজ করে যাচ্ছি।’ গ্রামের জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। কিন্তু তিনি বলেন, ‘একজন শিশুই যদি থাকে, তবু আমাকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে’। প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরাও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি প্রতিদিন এই পথ পাড়ি দেন।
জঙ্গলপথে বন্য প্রাণীর ঝুঁকি রয়েছে। গাউর ও চিতাবাঘের মতো প্রাণীর মুখোমুখি হতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে শিখিয়েছেন কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়। কখনো কখনো ভয় লাগে, কিন্তু তিনি প্রতিদিনের এই পথচলাকে জীবনের নিয়মিত অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
"একজন শিশুই যদি থাকে, তবু আমাকে আমার কাজ চালিয়ে যেতে হবে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কোলহাপুর জেলা, মহারাষ্ট্র, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জীবন মিথারি (৫৫ বছর বয়সী শিক্ষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ কিলোমিটার (দৈনিক হেঁটে যাওয়া), ১৩ বছর (শিক্ষকতা), ২৬ জুলাই ২০১৩ (যোগদান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!