📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ৭৮টি শিক্ষক পদে মাত্র ২১ জন শিক্ষক কর্মরত। ৮টি ডিসিপ্লিনে শিক্ষক সংকট, সরঞ্জামের অভাব ও সেশনজটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদেরকে নিজস্ব অর্থে ব্যবহারিক উপকরণ কিনতে হয়, যা তাদের আর্থিক অবস্থানকে আরও দুর্বল করে তোলে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে শিক্ষক সংকট ও সরঞ্জামের অভাবের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। ৭৮টি শিক্ষক পদে মাত্র ২১ জন শিক্ষক কর্মরত থাকায় ৮টি ডিসিপ্লিনে পাঠদান ও ব্যবহারিক শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদেরকে নিজস্ব অর্থে ব্যবহারিক উপকরণ কিনতে হচ্ছে, যা তাদের আর্থিক অবস্থানকে আরও দুর্বল করে তোলে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ৭৮টি শিক্ষক পদে মাত্র ২১ জন শিক্ষক কর্মরত, যার মধ্যে ৫৭টি পদ শূন্য
- 📌 ৮টি ডিসিপ্লিনে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত, সেশনজট বাড়ছে
- 📌 মৃৎশিল্প ডিসিপ্লিনে মাত্র একজন শিক্ষক কর্মরত, যিনি আগামী ডিসেম্বর মাসে অবসর নেবেন
- 📌 শিক্ষার্থীদেরকে নিজস্ব অর্থে ব্যবহারিক উপকরণ কিনতে হয়, যা ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারে
📰 বিস্তারিত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অনুষদটি ৮টি ডিসিপ্লিনে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে মোট ৭৮টি শিক্ষক পদ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মাত্র ২১ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। এর মধ্যে চিত্রকলায় ৩ জন, প্রাচ্যকলায় ৩ জন, ছাপচিত্রে ২ জন, ভাস্কর্যে ৫ জন, মৃৎশিল্পে ১ জন, গ্রাফিক ডিজাইনে ২ জন, কারুশিল্পে ২ জন এবং শিল্পকলার ইতিহাসে ২ জন শিক্ষক রয়েছেন।
চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘চারুকলা অনুষদ আগে একটি বিভাগ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এটি তিনটি বিভাগে ৮টি ডিসিপ্লিন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি ডিসিপ্লিনের আলাদা কারিকুলাম ও ক্লাস রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান ও ব্যবহারিক শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, ‘প্রতিটি ডিসিপ্লিনে অন্তত ১৫ থেকে ১৮ জন শিক্ষক প্রয়োজন হলেও বর্তমানে অনেক ডিসিপ্লিনে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন বা দু’জন।’
মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ কে এম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিভাগে মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য দু’টি আলাদা ডিসিপ্লিন থাকলেও শিক্ষক সংকট অত্যন্ত প্রকট। বিশেষ করে মৃৎশিল্প ডিসিপ্লিনে বর্তমানে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন, যিনি আগামী ডিসেম্বর মাসে অবসরে যাবেন। একজন শিক্ষক দিয়ে একটি ডিসিপ্লিন চালানো বাংলাদেশে সম্ভবত নজিরবিহীন ঘটনা।’
শিক্ষক সংকটের কারণে সেশনজট বাড়ছে। ব্যবহারিকনির্ভর শিক্ষা হওয়ায় প্রতিটি কোর্সে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু শিক্ষক স্বল্পতার কারণে একই শিক্ষককে একাধিক ব্যাচ ও একাধিক কোর্স সামলাতে হচ্ছে। ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সেশনজটের মূল কারণ শিক্ষক সংকট। আমাদের পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলে চারুকলায় সেশনজট থাকার কথা নয়।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ব্যবহারিক কোর্সে প্রয়োজনীয় উপকরণের বড় অংশ নিজেদের অর্থে কিনতে হয়। একটি কোর্সেই ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থী নিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ কোর্সই ব্যবহারিক। শিক্ষার্থীদেরকে নিজস্ব অর্থে উপকরণ কিনতে হয়, যা তাদের আর্থিক অবস্থানকে আরও দুর্বল করে তোলে।’ তিনি দাবি জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত পরীক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো সরবরাহ করার দরকার রয়েছে।’
"চারুকলা আগে একটি বিভাগ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এটি তিনটি বিভাগে আটটি ডিসিপ্লিন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি ডিসিপ্লিনের আলাদা কোড, কারিকুলাম, ক্লাস, পরীক্ষা, ফলাফল ও ডিগ্রি রয়েছে। ফলে কার্যত প্রতিটি ডিসিপ্লিনের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক প্রয়োজন।" — ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চারুকলা অনুষদ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মোহাম্মদ আলী (ডিন), ড. এ কে এম আরিফুল ইসলাম (সভাপতি), নিয়াজ মাহমুদ (শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৮টি শিক্ষক পদ, ২১ জন শিক্ষক, ৫৭টি শূন্য পদ, ৮টি ডিসিপ্লিন, ১০-১৫ হাজার টাকা (উপকরণ ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!