📌 সরকার সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভা নম্বর চারগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। কিন্তু ২০২৪ সালে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নম্বর কমিয়ে ১০০ করা হয়েছিল। লেখক প্রশ্ন তোলে যে এই নতুন উদ্যোগের পিছনে কী লুকানো যুক্তি?
সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভা নম্বর চারগুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবির সঙ্গে এর অসঙ্গতি। সরকারের তথ্য উপদেষ্টা যুক্তি দিয়েছেন যে ভাইভায় নম্বর বাড়িয়ে মেধাবী প্রার্থীদের চাকরি পেতে সহায়তা করা যাবে। কিন্তু এই উদ্যোগের পিছনে কী লুকানো যুক্তি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভা নম্বর চারগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার।
- 📌 ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভাইভা নম্বর কমিয়ে ১০০ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা বলেছিল।
- 📌 তথ্য উপদেষ্টা দাবি করেছেন, ভাইভায় নম্বর বাড়িয়ে মেধাবী প্রার্থীদের চাকরি পেতে সহায়তা করা যাবে।
- 📌 লেখক প্রশ্ন তোলে যে ভাইভা বোর্ডের পাঁচজন সদস্য কীভাবে অলৌকিকভাবে মেধাবী প্রার্থীদের চিনতে পারবেন?
- 📌 সরকারি নিয়োগে বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের ইতিহাস রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর চারগুণ বাড়ানোর কথা ভাবছে সরকার। এই উদ্যোগের পিছনে সরকারের যুক্তি হলো, ভাইভায় নম্বর বাড়িয়ে মেধাবী প্রার্থীদের চাকরি পেতে সহায়তা করা যাবে। তবে এই যুক্তির পিছনে প্রশ্ন উঠছে। ২০১৭ সাল থেকে কোটা ও ভাইভা বৈষম্যকরণের হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ২০১৮ সালে ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়োগ পদ্ধতিকে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক করার জন্য ভাইভার পরিধি ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ নম্বরে সংকুচিত করেছিল। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী সংসদে নিশ্চিত করেছিলেন যে বিসিএস পরীক্ষায় ইউনূস প্রবর্তিত সেই ১০০ নম্বরই রাখা হবে। কারণ হিসেবে তিনি স্বচ্ছতা ও অনিয়ম কমানোর কথা উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু মাত্র তিন মাস পরেই সরকার ভাইভার নম্বর চারগুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তথ্য উপদেষ্টা এই বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।
লেখক প্রশ্ন তোলে যে ভাইভায় বেশি নম্বর থাকলে কীভাবে মেধাবী প্রার্থীদের চাকরি পেতে সহায়তা করা যাবে? তিনি উল্লেখ করেছেন যে, একাডেমিক ফলাফল ও লিখিত পরীক্ষায় ভালো না করা কিঞ্চিৎ অপদার্থ ভাতিজাকেও ভাইভায় বেশি নম্বর থাকলে টেনে তোলা যায়। তিনি আরও প্রশ্ন করেন যে, ভাইভা বোর্ডের পাঁচজন সদস্য কীভাবে অলৌকিকভাবে মেধাবী প্রার্থীদের চিনতে পারবেন?
সরকারের নিয়োগ পদ্ধতি যদি এ রকম স্ববিরোধী হয়, তাহলে একটি মেধাসম্পন্ন আমলাতন্ত্র গড়ে উঠবে কী করে? বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে একটি মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। লেখক বলেন, ভাইভার মোটাতাজাকরণ প্রকল্প এই প্রত্যয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।
"আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কমিটিতে কাজ করার সুযোগ হয়েছে একাধিকবার। ভাইভা বোর্ডের পাঁচজন সদস্য কি কোনো অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন জহুরি যে তাঁরা মাত্র আধা ঘণ্টায় এক গুণধর রত্নকে চিনে ফেলবেন। এটি কি ‘ছাইচাপা আগুন’ আবিষ্কারের সদিচ্ছা, নাকি নিজেদের পক্ষপাতিত্ব জায়েজ করার একটা ঢাল?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তথ্য উপদেষ্টা, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, লেখক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০ (নম্বর), ১০০ (নম্বর), ১৪ লাখ (কর্মচারী), ২২ লাখ (বেকার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!