📌 শরীয়তপুর ও বরিশালের চার উপজেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জয়ন্তী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছেন। সেতু না থাকায় যোগাযোগে বাধা পড়ছে, যাতায়াতের সময় ও খরচ বাড়ছে। এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, সেতু নির্মিত হলে যোগাযোগের দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে
শরীয়তপুর ও বরিশাল জেলার মাঝখানে অবস্থিত জয়ন্তী নদীতে দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন চারটি উপজেলার মানুষ। সেতু নির্মাণ না হওয়ায় তাদের যাতায়াতের সময় ও অর্থের পাশাপাশি দুর্ভোগ বাড়ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, সেতু নির্মাণের ফলে যোগাযোগের দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **জয়ন্তী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি** দীর্ঘদিন ধরে চলছে, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।
- 📌 **বরিশালের মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার** মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার।
- 📌 **সেতু নির্মাণ হলে শরীয়তপুর থেকে বরিশালের দূরত্ব কমবে ১০ কিলোমিটার**, শরীয়তপুর থেকে মুলাদী উপজেলা শহরের দূরত্ব কমবে ৩৫ কিলোমিটার।
- 📌 **গোসাইরহাট থেকে বরিশালের দূরত্ব কমবে ৩০ কিলোমিটার**, আর মুলাদী থেকে শরীয়তপুরের দূরত্ব কমবে ৩৫ কিলোমিটার।
- 📌 **বরিশাল থেকে ঢাকার সড়কপথের দূরত্ব কমবে ৩৫ কিলোমিটার**।
- 📌 **নদীর দুই প্রান্তে সড়ক থাকলেও সেতু না থাকায়** বাসিন্দারা নৌকায় নদী পার করতে বাধ্য।
- 📌 **২০১৫ সালে চালু হওয়া ফেরি সার্ভিস বন্ধ** হয়ে গেলে বাস সার্ভিসও বন্ধ হয়ে যায়।
- 📌 **মালয়েশিয়া প্রবাসী দেলোয়ার হোসেন** ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে করে আবুপুরা ঘাটে এসে নৌকায় করে বাড়ি যাচ্ছেন।
- 📌 **মুলাদীর কৃষক আবদুর রহমান** বলেন, সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য বিক্রি করতে ঢাকার বাজারে পৌঁছানো কঠিন।
- 📌 **জয়ন্তী নদীর মৃধারহাট-ভেদুরিয়া পয়েন্টে সেতু নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব** সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
- 📌 **প্রস্তাবিত সেতুর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪৮০ মিটার**।
📰 বিস্তারিত
শরীয়তপুর ও বরিশাল জেলার মাঝখানে অবস্থিত জয়ন্তী নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এই সেতু নির্মাণ না হওয়ায় বরিশালের মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ এবং শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মুলাদী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সেতু নির্মাণের ফলে শরীয়তপুর জেলা শহর থেকে বরিশাল জেলা শহরের দূরত্ব কমবে ১০ কিলোমিটার। শরীয়তপুর শহর থেকে মুলাদী উপজেলা শহরের দূরত্ব কমবে ৩৫ কিলোমিটার। গোসাইরহাট সদর থেকে বরিশাল সদরের দূরত্ব কমবে ৩০ কিলোমিটার। আর মুলাদী সদর থেকে শরীয়তপুর সদরের দূরত্ব কমবে ৩৫ কিলোমিটার। একই সঙ্গে বরিশাল থেকে ঢাকার সড়কপথের দূরত্ব কমবে ৩৫ কিলোমিটার।
নদীর দুই প্রান্তেই সড়ক থাকলেও সেতু না থাকায় বাসিন্দারা নৌকায় নদী পার করতে বাধ্য। বর্ষায় বা বৈরী আবহাওয়ায় এই যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নৌযানে নদী পার হয়ে সড়কপথে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থের পাশাপাশি বাড়ে দুর্ভোগ। মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের অনেক বাসিন্দা ঢাকায় যাতায়াতের জন্য গোসাইরহাট-শরীয়তপুর হয়ে ঢাকার পথ ব্যবহার করেন। তাঁদের মধ্যে অসুস্থ রোগীও রয়েছেন।
২০১৫ সালে আবুপুরা-মৃধারহাট নৌপথে ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। কিন্তু দুই বছর পর ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেলে বাস সার্ভিসও বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্রলারই হয়ে ওঠে নদী পারাপারের প্রধান ভরসা। গত ২১ আগস্ট গোসাইরহাটের আবুপুরা এবং মুলাদীর ভেদুরিয়া ও মৃধারহাট ঘাট এলাকায় দেখা যায়, মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের মানুষ ঢাকায় যাওয়ার জন্য ট্রলারে জয়ন্তী ও আড়িয়াল খাঁ নদী পার হয়ে গোসাইরহাটের দিকে আসছেন।
মালয়েশিয়া প্রবাসী দেলোয়ার হোসেন পাঁচ বছর পর গত ২১ আগস্ট দেশে ফেরেন। তিনি ঢাকার বিমানবন্দর থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে আবুপুরা ঘাটে এসে পরে ভাইয়ের সঙ্গে নৌকায় করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। তিনি বলেন, "সারা পথ উড়োজাহাজ ও গাড়িতে করে এলাম। বাড়ির কাছে এসে আবার নৌকায় নদী পার হচ্ছি। নদীর দুই প্রান্তেই সড়ক আছে, কিন্তু সেতু না থাকায় আমরা এই সড়কপথের সুফল পাচ্ছি না।"
মুলাদীর ভেদুরিয়া এলাকার কৃষক আবদুর রহমান বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় জমিতে উৎপাদিত কৃষিপণ্য, বিশেষ করে সবজি কম দামে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হয়। সেতু নির্মাণ করা হলে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। তখন ঢাকার বাজারে কৃষিপণ্য বিক্রি করে বেশি লাভ করা সম্ভব হবে।
"এখানকার বাসিন্দাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য নৌপথই ভরসা। এ অঞ্চলের মানুষেরা কৃষি ও মৎস্যকেন্দ্রিক অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল। সেতুটি হলে পুরো দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি আরও চাঙা হবে।"
— নদী পরিব্রাজক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও শরীয়তপুর জজকোর্টের আইনজীবী নুরুজ্জামান শিপন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জয়ন্তী নদী (শরীয়তপুর ও বরিশাল জেলা), আবুপুরা ঘাট, মৃধারহাট ঘাট, মুলাদী উপজেলা, গোসাইরহাট উপজেলা, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা, হিজলা উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দেলোয়ার হোসেন (মালয়েশিয়া প্রবাসী), আবদুর রহমান (কৃষক), নুরুজ্জামান শিপন (আইনজীবী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ কিলোমিটার, ৩৫ কিলোমিটার, ৩০ কিলোমিটার, ২২ কিলোমিটার, ২১ আগস্ট, ১ হাজার ৪৮০ মিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!